এই মুহুর্তে রাশিয়ায় পঞ্চম প্রজন্মের ‘তে-৫০’ ফাইটার বিমান বানানোর কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে. রাডারের জন্য বিমানটি প্রায় অদৃষ্টগোচর হবে. আর বিশেষজ্ঞ দেনিস ফেদুতিনভ বলছেন, যে কিভাবে আগামী প্রজন্মের বিমান উত্কর্ষতার দিক থেকে একেও ছাপিয়ে যেতে পারে. –

ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার বিমান যে চালকবিহীন হবে, এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা একমত. এখন সময়কে ডিঙিয়ে যাওয়া দরকার, পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার বিমার বানানোর কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই. বেশ কয়েকটি দেশ এই কাজে নিয়োজিত রয়েছে. আমেরিকায় কয়েকটি ফার্ম এই নিয়ে কাজকর্ম করছে. যেমন, ‘ফ্যানটম রেই’ ও ‘নর্থম্যান গ্রুম্যানের’ সাথে বোয়িংয়ের ‘এক্স-৪৭বি’ নামক সম্মিলিত প্রোজেক্ট. ‘নরম্যান গ্রুম্যান’ হালে প্রমাণ করে দেখিয়েছে, যে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ থেকে চালকবিহীন ফাইটার বিমানের সফল উড্ডয়ন ও অবতরন সম্ভব.

ফেদুতিনোভের মতে, ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার বিমানের নির্মাণ বিভিন্নমুখী হতে পারে. এটা যেমন শূন্য থেকে শুরু করা যেতে পারে, তেমনই ‘তে-৫০’-এর কিছু প্রযুক্তিও ওখানে কাজে লাগানো যেতে পারে. অন্তত এরকম সম্ভাবনা আছে, যে পঞ্চম প্রজন্মের কিছু পার্টস ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার বিমানগুলির জন্যেও কাজে লাগবে.

পৃথিবীতে ক্রমশঃই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চালকবিহীন বিমান এবং সংঘাতকবলিত এলাকায় তারা তাদের উপযোগিতা প্রমাণ করে দিয়েছে. কিন্তু এগুলো সাধারণতঃ যুদ্ধক্ষেত্রের উপর নজর রাখার জন্য ও টহলদারী কাজের জন্য. তবে এমন বিমানেরও আবির্ভাব হচ্ছে, যারা পাইলট ছাড়াই নিজেরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্রমণ হানতে সক্ষম. তবে ‘ফ্লাইট’ জার্নালের মুখ্য সম্পাদক আন্দ্রেই ফমিনের মতে – চালকবিহীন ফাইটার বিমানের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আরও বেশি সময় লাগবে. –

ভূপৃষ্ঠে কোনো লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত হানা এক ব্যাপার, আর আকাশে দ্রুত পরিবর্তনশীল চিত্রপটে পাইলট ছাড়াই মুহুর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্রমণ করা অন্য ব্যাপার. যদিও আজকের দিনেই পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার বিমানগুলির ককপিটে উপস্থিত কৃত্রিম মগজের উত্কর্ষতা যথেষ্ট উন্নতমানের. ঐ ব্যবস্থা শুধু পাইলটকে প্রয়োজনীয় পরামর্শই দেয় না, দরকার হলে নিজেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্রমণ শানাতে সক্ষম. তবে পাইলট এখনো ককপিটে থাকে এবং আরও বহুবছর তারা চালকের আসনে থাকবে.

খুব সম্ভবত, আগামী এক দশকের মধ্যেই ষষ্ঠ প্রজন্মের ফাইটার বিমান উদ্ভাবন করা হবে. মনে হয় সেখানে যুক্ত হবে পঞ্চম প্রজন্মের সবচেয়ে প্রগতিশীল যন্ত্রপাতি এবং চালকবিহীন ড্রোনের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সেরা উদ্ভাবনীগুলো.