উত্তর অতলান্তিক জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের অধিবেশনের উদ্যোক্তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. বেশীর ভাগ রাষ্ট্রদূতদেরই নিজেদের বিশ্রামের সময়ে বিরতি দিয়ে চলে আসতে হয়েছে ব্রাসেলস শহরে. সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অপারেশনের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মনোভাব বিচার করলে বোঝা যায় যে, এই প্রশ্নের সমাধান হয়ে গিয়েছে. কিন্তু তা যেহেতু এটা করা হতে চলেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে এড়িয়ে, তাই ন্যাটো জোটের সমস্ত সদস্য দেশরা এই রাস্তায় চলাকে সমর্থন করছে না. কিন্তু কি করা উচিত্ হবে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের মোটেও সমর্থন বা পরামর্শের প্রয়োজন নেই. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ন্যাটো জোটের অন্যান্য সব সদস্যদের কাছ থেকে স্রেফ তাদের সামরিক হঠকারিতার বিষয়ে আনুগত্য, এই বিষয়ে উল্লেখ করে মধ্য এশিয়া ও নিকটপ্রাচ্যের সমস্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞ সিমিওন বাগদাসারভ বলেছেন:

“তারা এই সিদ্ধান্ত বছর দুয়েক আগেই নিয়েছে, আর এক বছর আগে তা শেষ অবধি রূপ নিয়েছে. তাদের এমনকি অনেকদিন আগে থেকেই সামরিক পরিকল্পনা তৈরী রয়েছে. একমাত্র সমস্যা ছিল – একটা অজুহাত খুঁজে বের করা – আর তা হয়েছে রাসায়নিক অস্ত্র. সিরিয়াতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের পর্যবেক্ষকরা রয়েছেন, যাদের এখনও শুধু এই অস্ত্র ব্যবহার হয়ে থাকলে, তার জন্য কে বা কারা দায়ী, তা ঠিক করা বাকী হয়েছে. কিন্তু আমেরিকার লোকদের জন্য এটা কোন আগ্রহের বিষয় নয়. মিস্টার ওবামা বলছেন যে, এই প্রশ্ন ইতিমধ্যেই সমাধান হয়ে গিয়েছে. আর শেষ সিদ্ধান্ত তিনি শুধু অন্য একটা প্রশ্ন সম্বন্ধেই এখনও নেন নি: কি ধরনের কাজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে. কয়েকটা উপায় রয়েছে: হয় সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর সামরিক পরিকাঠামোতে আকাশ পথে আক্রমণ করা হবে, অথবা বিমান ও রকেট ব্যবহার করে আক্রমণের সঙ্গে তুরস্ক ও জর্ডনের এলাকা থেকে বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত বাহিনী দিয়ে স্থল পথেও আক্রমণ করা হবে. এই টাই ওবামা বাবু এখনও ভেবে বার করতে পারেন নি”.

এখন অবধি পৌঁছনো খবর অনুযায়ী, আমেরিকার লোকরা সিরিয়ার সরকারি সামরিক বাহিনীর উপরে কিছু আলাদা করে নির্দিষ্ট আঘাত হানতে চায়. একই সময়ে হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেছে যে, নিজেদের লক্ষ্য হিসাবে তারা বাশার আসাদের পতনের কথা ভাবছে না, বরং চাইছে তাকে রাসায়নিক অস্ত্র সম্ভাব্য ব্যবহারের জন্য শাস্তি দিতে. একই ধরনের ঘোষণা করেছেন ব্রিটেনের উপ প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ্গ.

এই সব কথায় – একেবারেই শয়তানিকে লুকোনোর চেষ্টা করা হয় নি, এই রকম মনে করে রাজনীতিবিদ লিওনিদ ইসায়েভ বলেছেন:

“লিবিয়াতে ও বিশেষ করে ইরাকে বাস্তবে একই ঘটনা পরম্পরা ব্যবহার করা হয়েছিল. সাদ্দাম হুসেনকেও তথাকথিত কিছু অপ্রমাণিত আইন ভঙ্গ করার জন্য সাজা দিতে চাওয়া হয়েছিল – আর এটা শেষ অবধি সম্পূর্ণ আকারের যুদ্ধেই পরিণত হয়েছিল, সারা দেশকেই বাস্তবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল. তার ওপরে সাদ্দাম হুসেনকে শেষ অবধি হঠিয়েও দেওয়া হয়েছিল. সুতরাং আমেরিকা ও ব্রিটেনের ধারণায় শাস্তি দেওয়ার অর্থ হল, বাস্তবে দেশটাকেই ধ্বংস করে দেওয়া”.

এই পরিস্থিতিতে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা এখন আনন্দে হাত কচলাচ্ছে: তারা পশ্চিমের সেনা বাহিনীর জন্য সামরিক বাহিনীর লক্ষ্য স্থির করছে, যা তারা প্রাথমিক ভাবেই ধ্বংস করে দিতে চায় আর বাইরের দেশ থেকে অস্ত্র সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার অপেক্ষাতেই রয়েছে. এটা আবার ফরাসী রাষ্ট্রপতি অল্যান্দ ইতিমধ্যেই তাদের আশ্বাস দিয়ে রেখেছেন.

মস্কো এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়নকদের আহ্বান করেছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ে দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে চলতে. রাশিয়ার রাজধানীতে মনে করা হয়েছে যে, সিরিয়ার উপরে আক্রমণ শুধু সিরিয়ার জন্যই আগে থেকে বলা যায় না এমন পরিণতি নিয়ে আসবে না, বরং তা সমস্ত এলাকাতেই নিয়ে আসতে চলেছে. এক টেলিফোন আলাপে রাষ্ট্রসঙ্ঘে ও আরব লীগের পক্ষ থেকে সিরিয়া নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমি ও রুশ পররাষ্ট্র প্রধান সের্গেই লাভরভ এই বিষয়েই একমত হয়েছেন, তাঁরা বলেছেন যে, সিরিয়া সঙ্কট নিরসনে রাজনৈতিক সমাধান ভিন্ন অন্য কোন উপায়ই নেই.