দুই বছর আগে, এর আগের বিমান প্রদর্শনীর সময়ে, সব মিলিয়ে করা চুক্তির পরিমাণ হয়েছিল এক হাজার কোটি ডলারের বেশী. “আমি আশা করবো যে, আমাদের পক্ষে সহকর্মীদের আগ্রহী করে তোলা সম্ভব হবে”, -বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ ম্যাক্স-২০১৩ উপলক্ষে আয়োজিত ব্যবসায়িক অনুষ্ঠান আন্তর্জাতিক উড়ান সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে এসে, তিনি বলেছেন:

“আমাদের সাফল্য ও আমাদের ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাব্য বিকাশের নমুনা এখানে দেখতে পাওয়া যাবে, দেশের কোম্পানীগুলোর প্যাভিলিয়নগুলোতে, আর এটাও ঠিক যে, উড়ানের জন্য মাঠে. জানাই রয়েছে যে, এদের মধ্যে অনেকগুলোই প্রথমবার প্রদর্শন করা হচ্ছে. এটা যেমন যাত্রীবাহী বিমান “সুখই সুপারজেট- ১০০” বিমানের ব্যবসায়িক রূপান্তর, তেমনই আধুনিকীকরণ করা টিইউ- ২০৪এসএম, আর পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমানও..., তাছাড়া চতুর্থ প্রজন্মের উপরেও দুবার আধুনিকীকরণ করা “৪++” ধরনের বিমান, হেলিকপ্টার এবং আরও এক গুচ্ছ নতুন প্রযুক্তি. আমি আশা করব যে, আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে আমাদের সহকর্মীদের আগ্রহী করে তোলা. আশা করব যে, আমাদের ম্যাক্স চলাকালীণই বড় চুক্তিগুলো স্বাক্ষর হয়ে যাবে. আমি জানি যে, এই বিষয়ে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়ে রয়েছে”.

দিমিত্রি মেদভেদেভ খুবই আগ্রহ নিয়ে রাশিয়ার বিমান মহাকাশ শিল্পের নতুন জিনিষগুলো দেখেছেন. “রসকসমস” সংস্থার প্যাভিলিয়নে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে থাকা মহাকাশচারীদের সঙ্গে একটা যোগাযোগের অধিবেশন হয়েছে. দেশের মন্ত্রীসভার প্রধানকে “আঙ্গারা” রকেট পরিবাহক যানের মডেল দেখানো হয়েছে, আর তারই সঙ্গে পাইলট চালিত মহাকাশ যানের নেমে আসার যন্ত্রও.

নতুন এই যন্ত্রের সুবিধাগুলো নিয়ে “রেডিও রাশিয়াকে” গল্প করে বলেছেন এরকাকা “এনার্জী” কোম্পানীর ইঞ্জিনিয়ার আন্দ্রেই জাপাজ্নী:

“এই মহাকাশ যানের নেমে আসাও নিয়ন্ত্রণের সুবিধা রয়েছে, যখন কক্ষপথের সংশোধন করা হয় ও উড়ানের পথও ঠিক করা হয়ে থাকে, উপগ্রহের সঙ্গে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখা হয়ে থাকে. নামার সময়েই ইঞ্জিনগুলো চালু করা হয়, যেগুলো দিয়ে গতি কমানো হয়ে থাকে আর মাটিতে মসৃণ ভাবে নেমে আসা যায়. নতুন ধরনের পদার্থ ব্যবহার করার ফলে এই যন্ত্রের ওজন কমানো সম্ভব হয়েছে. আমাদের মহাকাশযানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী - আমেরিকার “ওরিওন” মহাকাশযানের ওজন সাড়ে চব্বিশ টন, আর আমাদের মহাকাশযানের ওজন কুড়ি টন. নতুন ধরনের পদার্থ ব্যবহার করে আমরা সাড়ে চার টন ওজন কমাতে পেরেছি. এই যন্ত্রের ওজন যত কম হবে, তত বেশী করেই এখানে প্রয়োজনীয় ওজন নিয়ে যাওয়া যাবে”.

সংযুক্ত বিমান নির্মাণ কর্পোরেশনের প্যাভিলিয়নে দেখানো হয়েছে নতুন প্রসারিত অভ্যন্তর সমেত এমসি-২১ বিমান. এই লাইনার ২০১৭ সালে বিমানের সারিতে যোগ দেবে, তা দিয়ে টিইউ-১৫৪ বিমান বদলানো হবে. রাশিয়ার বিমান নির্মাণ শিল্পের নতুন এই সংযোজন এয়ারবাস ও বোয়িং বিমানের প্রতিযোগী হবে বলে “ইরকুত” কোম্পানীর প্রতিনিধিরা আশ্বাস দিয়েছেন. আজ এমসি-২১ বিমানের ইতিমধ্যেই ২৫০টির বেশী বরাত রয়েছে. তার মধ্যে এই বিমান আবার নিজের বিদেশী প্রতিযোগীদের চেয়ে দামের ক্ষেত্রে শতকরা কুড়ি ভাগ সস্তা হবে, এই কথা উল্লেখ করে কোম্পানীর প্রতিনিধি কিরিল দুদায়েভ বলেছেন:

“যেটা দিয়ে আমরা আমাদের ক্লায়েন্টদের আগ্রহ সৃষ্টি করেছি, - এটা এমনকি দাম নয়, বরং বছরে এই বিমান চালনার ফলে জ্বালানী খরচ প্রায় চার মিলিয়ন ডলার কমিয়ে দেওয়ার জন্যে. আমাদের লাইনার শতকরা দশ শতাংশ কম জ্বালানী খরচ করে আগামী প্রজন্মের “বোয়িং” ও “এয়ারবাস” বিমানের চেয়ে. তা হাল্কা, আমাদের এয়ারো ডাইনামিক্স অনেক এগিয়ে রয়েছে, আধুনিক ইঞ্জিন, ডানার দৈর্ঘ্য লম্বা করা হয়েছে, তার ওপরে আবার ওজন কমানো হয়েছে কম্পোজিট পদার্থ ব্যবহার করে”.

ম্যাক্স-২০১৩ বিমান প্রদর্শনীর প্রথম দিনে রাশিয়ার অসামরিক বিমান নির্মাতারা সমঝোতা পত্র ও নিশ্চিত চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন ১২৯টি বিমানের জন্য, যার সম্পূর্ণ অর্থমূল্য প্রায় সাতশো কোটি ডলার, শুধু ক্যাটালগে থাকা দাম অনুযায়ী.

ম্যাক্স-২০১৩ প্রদর্শনীর প্রথম কাজের দিনের শেষের অনুষ্ঠান ছিল প্রদর্শনী মূলক উড়ান. ঝুকোভস্কি শহরের উপরের আকাশে কা-২২৬ হেলিকপ্টারের দল উড়েছিল, পাইলট গ্রুপ “বেরকুট” চালিত অবস্থায় আকাশে ভেসেছিল চারটি মি-২৮ হেলিকপ্টার, মিগ সামরিক যুদ্ধ বিমান নিয়ে আর “সুখই সুপারজেট” নিয়ে পাইলটরা উড়ান দেখিয়েছি. এই অনুষ্ঠানের মনে রাখার মতো শেষ হয়েছিল সর্ব্বোচ্চ উড়ান কৌশলের প্রদর্শনী, যা দেখিয়েছিল বিশ্ব বিখ্যাত “স্ত্রিঝি” ও “রুস্সকিয়ে ভিতিয়াজী” দল. ম্যাক্স -২০১৩ উড়ান প্রোগ্রামের মধ্যে চিনের পাইলটদের “ছেংডু” জে-১০ সামরিক যুদ্ধ বিমানে উড়ানও রয়েছে, যে বিমানে ইঞ্জিন রাশিয়াতে তৈরী করা হয়েছে.

আয়োজকরা আশা করেছেন যে, এই প্রদর্শনীতে প্রায় দশ লক্ষ লোক যাবেন.