এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন চিনের উপ অর্থমন্ত্রী ঝু গুয়ান্যাও. আর চিনের জনতা ব্যাঙ্কের ডেপুটি ডিরেক্টর ই গান বুঝতে দিয়েছেন যে, বেজিংয়ে বিশ্বের বিনিয়োগ বাজারের স্থিতিশীলতার উপরে সবচেয়ে বড় আঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকেই. আর তা ঠিক – মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমের পক্ষ থেকে ধার সংক্রান্ত বণ্ড কেনার বিষয়ে লিক্যুইডিটি বা অর্থ যোগান সম্বন্ধে প্রকল্প বন্ধ করা দিয়েই.

ব্রিকস গোষ্ঠী এবারে জোর দিয়েছে পারস্পরিক সহযোগিতা তহবিল সৃষ্টির জন্য. এই ধারণা ব্রাজিল ২০১২ সালে প্রস্তাব করেছিল. এই বছরের মার্চ মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় “পাঁচ দেশের” অর্থমন্ত্রীদের শীর্ষ সম্মেলনের সময়ে এই তহবিল গঠনের জন্য সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করা হয়েছিল. এখনই জানা রয়েছে যে, প্রায় ৪১ বিলিয়ন ডলার দেবে চিন, ১৮ বিলিয়ন করে দেবে রাশিয়া, ব্রাজিল ও চিন. আরও পাঁচ বিলিয়ন দেবে দক্ষিণ আফ্রিকা.

জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের শুরুর আগে যে কটা দিন রয়েছে, - আর তা হবে সেন্ট পিটার্সবার্গ উপকণ্ঠে ৫-৬ই সেপ্টেম্বর, - ব্রিকস দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো এই তহবিল পূরণ করার নিয়ম তৈরী করছেন. একই সঙ্গে চলছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নীতিতে তাদের পক্ষ থেকে কাজের বিষয়ে যোগাযোগ. এটা বিনিয়োগ বাজারের জন্য একটা সংজ্ঞাবহ ঘটনা, এই কথা “রেডিও রাশিয়ার” কাছে উল্লেখ করে আধুনিক বিকাশ ইনস্টিটিউটের পরামর্শদাতা নিকিতা মাসলেন্নিকভ বলেছেন:

“আজ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল খুবই সক্রিয়ভাবে আঞ্চলিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাগুলোর সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে. এটাই সেই ব্যাপার, যা ব্রিকস দেশগুলো সঞ্চয়ের তহবিল হিসাবে তৈরী করছে. এর মধ্যে পারস্পরিক ভাবে কাজের মানে হবে যে, বাড়তি ঋণ পাওয়ার পথ তৈরী হবে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে বিনিয়োগের সহায়তা দেওয়া যেতে পারে. যাতে, প্রয়োজনে নিজেদের সমস্যা সমাধান করার জন্য অর্থ পাওয়া যেতে পারে, অন্তত পক্ষে একটা পকেট থাকার দরকার রয়েছে, যেখানে তা রাখা যেতে পারে. ঠিক এই ধরনের পকেটই ব্রিকস দেশগুলো তৈরী করেছে. এটাই মনে রেখে যে, এই তহবিল থেকে একে অপরকে সহায়তা দেওয়া যেতে পারে. এটা আন্তর্জাতিক ভাবে মুদ্রা তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ পাওয়ার জন্য এক ধরনের ঠিকানাও বটে”.

আশা করা হয়েছে যে, ব্রিকস দেশগুলোর নেতারা এই তহবিলের কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতার খুঁটিনাটি নিয়ে জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের নেপথ্যে এক বিশেষ সাক্ষাত্কারে আলোচনা করবেন. অংশতঃ, সর্বজনীন সঞ্চয় ভাণ্ডারে বাস্তব অবদানের সঙ্গে তুলনামূলক ভাবে প্রত্যেক দেশের উপযুক্ত পরিমাণ ও ঋণ গ্রহণ ও তার শর্ত নিয়েও আলোচনা করা হবে.

সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, আজ স্থানীয় বাজারে অনুপ্রবেশের জন্য বিনিময় যোগ্য মুদ্রার প্রয়োজন রয়েছে ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার. এক বছরের মধ্যে তাদের জাতীয় মুদ্রার বিনিময় মূল্য কমেছে গড়ে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ.

এই সব দেশে আর একই ভাবে অন্য কিছু জায়গাতেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জাতীয় মুদ্রার অধঃপতন ঘটেছে তার পরেই, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম ঘোষণা করেছে যে, তারা এবারে জাতীয় ও গৃহ নির্মাণ বণ্ড জনতার কাছ থেকে কিনে নেওয়ার ব্যাপারে অর্থ দেওয়ার নীতিগত প্রকল্প গুটিয়ে নিচ্ছে. এই প্রকল্প গত বছরের নভেম্বর মাসে তার বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পর থেকেই একটা পরে ফাটবে এমন বোমাতে পরিণত হয়েছিল. ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম এই লক্ষ্যে মাসে আট হাজার পাঁচশো কোটি ডলার খরচ করেছে. উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাজার এই সস্তা ডলারে ছেয়ে গিয়েছিল, যাতে স্থানীয় বিনিয়োগের বাজার অস্থিতিশীল হয়. এখন এই প্রকল্প বন্ধ করার সম্বন্ধে শুধু খবরই যথেষ্ট হয়েছে, যাতে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে মূলধন বের হয়ে যেতে পেরেছে. এটা খুবই দ্রুত তাদের জাতীয় মুদ্রার বিনিময় মূল্য কমিয়ে দিয়েছে. আর এই পরিস্থিতিতে অন্যান্য উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো নিজেদের বিনিয়োগের স্রোতও শুকিয়ে যেতে পারে বলে ভয় পেয়েছে.

এই ব্যাপারে বিশ্বে সবচেয়ে বেশী উদ্বিগ্ন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্ চিনের অর্থনীতি. শুধুশুধুই মঙ্গলবারে বেজিং শহরের এক সাংবাদিক সম্মেলনে চিনের জাতীয় ব্যাঙ্কের ডেপুটি ডিরেক্টর ই গান বুঝতে দেন নি যে, জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমকে শৃঙ্খলা ও দায়ভার নিতে আহ্বান করতে চলেছে.