“ভারতীয় অর্থনীতিতে খারাপ পরিস্থিতির কারণ, সব মিলিয়ে দেখে মনে হয়েছে, কয়েকটি রয়েছে. এটা যেমন গত দুই বছর ধরেই দেখা অর্থনৈতিক সংস্কারের গতি কমে যাওয়া, আর মনমোহন সিংহের মন্ত্রীসভার পক্ষ থেকে জনপ্রিয় হওয়ার আশায় সামাজিক প্রকল্প নেওয়া, আর তারই সঙ্গে খুব একটা ভাল না এমন বৃহত্ অর্থনীতির কাঠামো – বিশ্বে কাঁচামালের দাম পড়ে যাওয়া, আর সবশেষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্কট নিরসনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া. ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতি বিগত কয়েক বছর ধরেই হয়েছে পরিষেবা রপ্তানী ও প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্য দিয়ে, তার সঙ্গে কর্ম সংস্থানের সমস্যার সমাধান করা হয় নি. আর এখন অর্থনীতির মধ্যে যে সব ভারসাম্যের অভাব ও বিভিন্ন দিকে ঝোঁক ছিল, সেগুলোই বাইরে বেরিয়ে এসেছে”.

যখন টাকার বিনিময় মূল্য খুবই বেদনাদায়ক ভাবে সমস্ত ভারতীয় লোকদের স্বার্থে আঘাত করছে, তখন সেই পরিস্থিতিতে - বিশেষ করে সবার আগে দেশের সবচেয়ে গরীব স্তরের ও মধ্যবিত্ত মানুষদের, ভারতের ক্ষমতাসীন জাতীয় কংগ্রেস দলের জোট একটা ঝুঁকির সামনে পৌঁছেছে, যার ফলে, তারা ক্ষমতা হারাতে পারে ও আর সেটা আগামী নির্বাচনেই হতে পারে.

প্রাক্ নির্বাচনী প্রচারের গতি পাওয়ার সময়ে ভারতীয় টাকার দামের ও অর্থনীতির ভবিষ্যতের প্রশ্ন যে, একটা মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, তারই প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বিরোধী পক্ষ ভারতীয় জনতা দলের নেতা নরেন্দ্র মোদীর কয়েকদিন আগের এক ঘোষণাতেই. তিনি সেই কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, “যখন ভারত স্বাধীনতা পেয়েছিল, তখন ভারতীয় টাকার দাম ডলারের সমান ছিল”, আর নিজে প্রধানমন্ত্রীর আসনের দিকে তাকিয়ে থেকে আরও যোগ করেছেন যে, মনমোহন সিংহের মন্ত্রীসভা অর্থনৈতিক রাজনীতিতে হেরে গিয়েছে তাই বলেছেন: “স্বাধীনতার ৬৭ বছর পরে আজ ভারতের টাকা কোথায় রয়েছে? আজ অর্থ মন্ত্রীর বয়স আর ডলারের সঙ্গে টাকার বিনিময় মূল্য এক হয়েছে”, – এই ভাবেই বিরোধী পক্ষের নেতা চেষ্টা করেছেন দেশের অর্থ মন্ত্রকের প্রধানকে অপমান করতে.

এটা ঠিকই যে, আগামী সব সপ্তাহ আর মাসগুলো ধরেই বিরোধী পক্ষ চেষ্টা করে যাবে ভারতীয় অর্থনীতির বেহাল অবস্থা থেকে সবচেয়ে বেশী রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে, নির্বাচকদের নেতিবাচক মানসিকতার উপরেই খেলা করে – তাদের সেই দুঃখকে চাগিয়ে তুলে যে, সমস্ত সঞ্চয় অর্থহীণ হয়ে যাচ্ছে, আর জিনিষের দাম বাড়ছে ও সবাই আজ আগামীকালের দিকে ভয়ের সঙ্গে তাকিয়ে রয়েছে.

কিন্তু তা বলে দেওয়া যে, কংগ্রেসের সমাপ্তি সঙ্গীত গাওয়া হয়ে গিয়েছে, আর আগামী নির্বাচনে দেশে অবধারিত ভাবেই ক্ষমতাসীন দলের পরিবর্তন হবে, তা বলা আপাততঃ তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে. সরকারের হাতে অনেক সময় নেই ঠিকই, তবে তা আবার আছেও. আর ভারতের অর্থনীতি – এটা তলিয়ে যাওয়ার মতো কোন ডিঙি নৌকা নয়, বরং শক্তিশালী জাহাজ, যা এখন ঝড়ের মুখে পড়েছে. তার ক্যাপ্টেনদের শুধু শক্ত করেই হাল ধরতে হবে ও দিক নির্ণয়ের যন্ত্রের দিকে নজর দিয়ে ঠিক করেই রাস্তা ধরতে হবে.