রাশিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে সিরিয়া নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাত্কার বাতিল করার জন্য হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে. রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী গেন্নাদি গাতিলভ যেমন উল্লেখ করেছেন যে, সিরিয়াতে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের সূচীগুলো তৈরী করাটা ঠিক এখনই সবচেয়ে ভাল হতে পারত, যখন এই দেশের উপরে শক্তি প্রয়োগের হুমকি ঝুলে রয়েছে. কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বুঝতে দেওয়া হয়েছে যে, তারা কোন রকমের পরামর্শদাতার প্রয়োজন বোধ করছে না. তারা আগে থেকেই উত্তর জানে আর তার উপরে নির্ভর করেই প্রশ্নের শর্ত গুলোকে ঠিক করে নিচ্ছে. সিরিয়াতে রাসায়নিক আক্রমণ ঘটেছে – দোষী বাশার আসাদ. বিশ্লেষকরা এটা মেনে নিতে পারছেন না, রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞরা শুধুমাত্র কাজে হাত দিয়েছেন, আর আমেরিকার লোকরা ঘোষণা করছে যে, তাদের কাছে এখনই যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে যার জন্যে সিরিয়ার প্রশাসনকে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ বলেছেন:

“বহু সংখ্যক বাস্তব তথ্য, যা হয়তো বা পশ্চিমে চেপে যাওয়া হচ্ছে, তা থেকেই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে, আগে থেকে পরিকল্পিত ভাবে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে ইচ্ছা করেই, যাতে সিরিয়াতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞরা উদয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যখন এই বছরে প্রথম দেশের জনতার মধ্যে বিরোধের বিষয়ে একটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখতে পাওয়া গিয়েছে, তখন এই কাণ্ড করা যায়. সিরিয়ার প্রশাসনের পক্ষে যে, সম্ভব হয়েছে জঙ্গীদের শান্ত করার, তা সেই সমস্ত লোকদের ভাল লাগতে পারে নি, যারা এই বিদ্রোহের জন্য বরাত দিয়েছিল, আর তারাই এখন নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছে. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন ও অধিকারের তোয়াক্কা না করে, কোন সুস্থ বোধের পরিচয় না দিয়ে, ঠিক করেছে যে, তাদের কাজ হবে এবারে শক্তি প্রয়োগের উপায় নেওয়া”.

দামাস্কাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সেখানে তৈরী আছে বাইরের থেকে আগ্রাসনকে প্রত্যুত্তর দেওয়ার জন্য. সিরিয়ার সামরিক বাহিনী খুব ভাল করেই প্রশিক্ষিত, তাদের কাছে আকাশ পথে প্রতিরক্ষা ও নৌবহরের থেকে প্রতিরক্ষার অস্ত্র রয়েছে. আর কোনই সন্দেহ নেই যে, বাধা হবে খুবই শক্তিশালী. যদিও পশ্চিমের জোটের অনুপ্রবেশ আটকানোর জন্য দামাস্কাসের শক্তি যথেষ্ট নয়, তবুও রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের আরব গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ বরিস দোলগভ বলেছেন:

“জোট যা তৈরী হচ্ছে – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, তুরস্ক – এটা অবশ্য, অনেক শক্তিশালী. তাদের শক্তি সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর চেয়ে বহু গুণে বেশী. কিন্তু সিরিয়ার সামরিক বাহিনী – এটা লিবিয়ার নয়. আর আগ্রাসনের ক্ষেত্রে একটা বাধা দান করা হবেই. প্রসঙ্গতঃ, সিরিয়াকে কোন না কোন ভাবে ইরান সহায়তা করবে, লেবাননের “হেজবোল্লা” আন্দোলনও সহযোগিতা করবে, কিছু প্যালেস্টাইনের গোষ্ঠীও হয়ত এগিয়ে আসবে. সুতরাং সিরিয়াতে আগ্রাসন হলে এটা নিকট প্রাচ্যে একটা বড় বিরোধে রূপান্তরিত হবে”.

আর তারপরে প্রশ্নের উদয় হবে, কাকে বিজয় বলে মনে করা হবে? বাশার আসাদকে হঠিয়ে দেওয়াকে? একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে ধ্বংস করা হলে? কিসের জন্য সেই সমস্ত দেশের সৈনিকরা প্রাণ বিসর্জন করবে, যারা এই অনুপ্রবেশে অংশ নেবে? ইরাকে অন্তত পক্ষে যুদ্ধ করা হয়েছিল খনিজ তেলের জন্য, আর তাও তার থেকে লাভ হয়েছে খুবই সন্দেহজনক রকমের. আর আমেরিকার নেতৃত্ব ও তাদের জোট সঙ্গীরা সিরিয়ার যুদ্ধের পরে তার জন্য নিজেদের জনগনকে কি দেবেন?

মস্কো ওয়াশিংটনকে ও বিশ্ব সমাজের সমস্ত সদস্যকেই শুভ বুদ্ধির পরিচয় দিতে আহ্বান করেছে আর আন্তর্জাতিক আইনকে কঠোর ভাবেই পালন করতে বলেছে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের মতামত অনুযায়ী বর্তমানের পরিস্থিতিতেই সবচেয়ে আগে করার মতো কাজ হতে পারত “জেনেভা-২” সম্মেলনের আহ্বান করা. রাশিয়াতে আশা করা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাও এই সাক্ষাত্কারের জন্য নিজেদের তরফ থেকে দায়িত্বভার পালন করবে.