মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দপ্তর দামাস্কাসের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অপারেশনের পরিকল্পনা তৈরী করেছে. তা কাজে পরিণত করতে তৈরী আছেন পেন্টাগনের প্রধান চাক হেগেল, যদি রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা এই বিষয়ে নির্দেশ দেন, তাহলে. আমেরিকার সেনাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারে ব্রিটেনের সামরিক বাহিনীর লোকরা. এই প্রসঙ্গে গ্রেট ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন গোপন করেন নি যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের তরফ থেকে শক্তি প্রয়োগ করার জন্য সমর্থন পাওয়া যাবে না – রাশিয়া তা হতে দেবে না.

কিন্তু এই অবস্থায় পশ্চিম কি “দ্বিতীয় ইরাক” হওয়ার মতো পরিস্থিতি হতে দেবে – প্রশ্ন বিতর্কের উপযুক্ত, এই কথা উল্লেখ করে রাজনীতিবিদ লিওনিদ ইসায়েভ বলেছেন:

“আমেরিকার লোকরা তখন ভুল করেছিল, আর তাদের স্বীকার করতে হয়েছিল যে, ইরাকে রাসায়নিক অস্ত্র পাওয়া যায় নি. এটা রাষ্ট্রপতি বুশ জুনিয়রের উপরে একটা বড় আঘাত হয়েছিল আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইমেজের উপরেও. আমার মনে হয় যে, এখন তারা অনেক নিখুঁত ভাবেই কাজ করবে”.

নিজেদের পরবর্তী কাজ কি হবে তা ঠিক করার আগে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন হবে প্রথমে “আসাদের বিরুদ্ধে” রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রমাণ পাওয়ার, যারা এখন দামাস্কাসের উপকণ্ঠে ২১শে আগষ্ট রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের খবর তদন্ত করে দেখছেন. প্রসঙ্গতঃ, সরকার ও বিরোধী পক্ষ একে অপরের উপরে এর দায়িত্ব দিচ্ছে. সিরিয়ার প্রশাসন এই এলাকায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের কমিটিকে যেতে দিয়েছে. এখানে যেটা আগ্রহের বিষয়, তা হল যে, এই খবরে আমেরিকার প্রশাসন মোটেও খুশী হয় নি, যারা ঘোষণা করেছে যে, “তদন্তের সময় পার হয়ে গিয়েছে”. এই ভাবেই, একদিক থেকে হোয়াইট হাউস নিজেদের সুবিধার ব্যবস্থা করে রেখেছে, আগে থেকেই এই কমিটির ফলাফলকে হেয় করে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব সম্ভবতঃ বিরোধীদের পক্ষে যাবে না.

অন্যদিক থেকে – সামরিক অপারেশনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের কমিশনকেই বুঝতে দিয়েছে যে, কি রকমের ফলাফল তারা এই কমিশনের কাছ থেকে সিরিয়া নিয়ে আশা করেছে, তাই লিওনিদ ইসায়েভ বলেছেন:

“যাতে আমেরিকার লোকরা নিজেদের সিরিয়াতে অনুপ্রবেশ করে তারপরে শান্তি পায়, তার জন্য তাদের দরকার রাষ্ট্রসঙ্ঘের রাসায়নিক অস্ত্র সংক্রান্ত কমিশনের পক্ষ থেকে সর্বসম্মতি ক্রমে পাওয়া সমর্থনের. আমার মনে হয় না যে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত এত সহজে পাওয়া যেতে পারে. তাও এটা একটা সবচেয়ে নিরপেক্ষ কমিশন, যারা শুধু বাস্তবের উপরেই নির্ভর করে, কোন রকমের ধারণার উপরে নয়”.

বারাক ওবামা এক জটিল অবস্থায় পড়েছেন. এক সময়ে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, সিরিয়াতে সামরিক আক্রমণের জন্য রক্তরেখা হবে সিরিয়ার প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণহত্যার অস্ত্র ব্যবহার করা. আর ঠিক তখনই একই ধরনের খবর আসতে শুরু করেছিল. যদিও সেই প্রমাণ যে, সিরিয়ার সামরিক বাহিনীই এই অস্ত্র প্রয়োগ করেছে, তা আপাততঃ নেই, বাশার আসাদের পতনের পক্ষের লোকরা এখন নিয়মিত ভাবেই ওবামাকে তাঁর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন.

এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তবে সিরিয়াতে অনুপ্রবেশ করার কোন আগ্রহ নেই. আলোচনায় অনিচ্ছুক আসাদকে তাদের হতে পারে যে, হঠিয়ে দিতে ইচ্ছা রয়েছে, কিন্তু তাঁকে বদলে কাউকে প্রস্তাব করার মতো নেই. আর স্রেফ দেশের নেতাকে হঠিয়ে দেওয়ার মানে একটা মাত্সান্যায়ের দিকে ঠেলে দেওয়া – যার অর্থ হল যে, প্রতিবেশী ইজরায়েলেরই সমস্যা বাড়িয়ে দেওয়া. আর আমেরিকার বাজেটেও বাড়তি অর্থ নেই, আর এখনও জানা নেই যে, এই সামরিক অপারেশনের অর্থ কি হতে পারে. তাই পেন্টাগনের সামরিক পরিকল্পনা রয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করার জন্য আদেশ ওবামা দিতে তাড়া করছেন না, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের প্রাচ্য বিশারদ ও বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

“এখানে মনোযোগ দিতে চাই যে, ২৮শে আগষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে রাশিয়া ও আমেরিকার কূটনীতিবিদদের সিরিয়া সঙ্কটে শান্তিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সম্মেলন আয়োজনের জন্য দেখা করার. এই সাক্ষাত্কার এখনও বাতিল করা হয় নি. তাই আপাততঃ বলা যে, সিরিয়াতে আঘাত হানা নিয়ে প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছে, তা এখনই ঠিক হবে না”.

মস্কো ওয়াশিংটনকে সিরিয়াতে সামরিক হঠকারিতা নিয়ে সাবধান করে দিয়েছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘকে এড়িয়ে যে কোন রকমের একতরফা শক্তি প্রয়োগই আন্তর্জাতিক সমাজের তরফ থেকে শক্তি প্রয়োগকে নিষ্ফল করে দেবে ও সমগ্র নিকট প্রাচ্যেই বিরোধকে শুধু বাড়িয়ে তুলবে – বলা হয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণায়.