পাকিস্তানের মন্ত্রীসভার প্রধান ঘোষণা করেছেন যে, কাশগার – গোয়াদার করিডরের থেকে এই এলাকার তিনশো কোটি লোক উপকৃত হবেন. গোয়াদার বন্দর চিনের রপ্তানীযোগ্য পণ্যের সেখানে পৌঁছনোর সময় ১৬ থেকে ৪ দিন করে দেবে, আর তারই সঙ্গে অনেক কমবে তার মূল্য. করিডরের পাশ বরাবর তৈরী করা হবে বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা, চিনের কোম্পানীগুলি ইতিমধ্যেই এখানে নিজেদের কাজ কারবার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে. নওয়াজ শরীফ তাই সঙ্গে জানিয়েছেন যে, গোয়াদার বন্দর একটি শুল্ক মুক্ত বন্দরে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা রাখে, তাকে সেই ধরনের বিশেষ স্ট্যাটাস দেওয়া হতে পারে, যা হংকংয়ের রয়েছে.

এই অঞ্চলে নতুন হংকংয়ের উত্পত্তি হওয়া সম্পূর্ণ ভাবেই বাস্তব, যদি ধরে নেওয়া হয় যে, পাকিস্তান ১৮ই ফেব্রুয়ারী চিনকে গোয়াদার বন্দরের ভার ছেড়ে দিয়েছে. কিন্তু অর্থনৈতিক লাভ এই প্রকল্প থেকে এখনও ততটা স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না, এই রকম মনে করে স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ বলেছেন:

“এই লাভ যত না অর্থনৈতিক, তার চেয়েও বেশী রাজনৈতিক. এই করিডর চিনকে সবার সামনে দেখিয়ে দিতে দেবে যে, তারা সেই গলার ফাঁস, যাকে তথাকথিত “মুক্তামালা” বলা হয়েছে - চিনের সীমান্ত বরাবর এক সারি ভর দেওয়ার কেন্দ্র তৈরী করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনের গলায় পরিয়ে দিতে চাইছে, তা কাজে লাগতে দেবে না. চিন মুসলিম দেশের সঙ্গেও সফল সম্পর্ক তৈরী করতে পারে. তারই সঙ্গে এই করিডর আবার তারই সঙ্গে জড়িত নির্দিষ্ট রকমের সামরিক –রাজনৈতিক ঝুঁকির বিষয়. তা রয়েছে কাশ্মীরের কাছে, যা নিয়ে পাকিস্তান ও ভারত বিরোধ করছে. এটা এই করিডর দিয়ে পণ্য যাতায়াতের বিষয়ে নিশ্চয় করেই প্রভাব ফেলবে. তা স্বল্প সময়ের মধ্যে পুরোপুরি তৈরী হয়ে যাবে না, চিনের পণ্যের সমুদ্র দিয়ে যাতায়াতের সম্পূর্ণ বিকল্প হয়ে দাঁড়াবে না”.

একই সময়ে আঝদার কুরতভ মনে করেছেন যে, কাশগার- গোয়াদার করিডর তৈরী হয়ে গেলে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে নতুন সংঘর্ষ সৃষ্টি না করে পারে না. তাই তিনি বলেছেন:

“কেউই চায় না শক্তিশালী প্রতিযোগীর উদ্ভব, যা আজ চিন হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেন নিকট ও মধ্য প্রাচ্যকে নিজেদের ঐতিহ্যগত প্রভাবের জায়গা বলেই মনে করে তাই সেখানে চিনের সক্রিয়ভাবে আসাতে তাদের মনে ত্রাসের সঞ্চার হয়েছে. তার ওপরে নতুন অর্থনৈতিক প্রসারের পেছনে থাকবে এই এলাকার রাজনৈতিক পুনর্গঠন. অর্থাত্ চিনের পক্ষ থেকে এই জায়গা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেদের দিকে টেনে আনার. এই করিডর পশ্চিমে একটা সাবধান হওয়া মনোভাব নিয়ে আসতে পারে. কিন্তু স্থানীয় দেশগুলির এখনও খোলাখুলি চিনের প্রতি কোন আতঙ্ক নেই. তারা সানন্দে চিনের পক্ষ থেকে বিনিয়োগ, পণ্য ও পরিষেবা নিয়ে চলেছে”.

দেখাই যাচ্ছে যে, চিন গোয়াদার বন্দরের উপরে নিয়ন্ত্রণ বজায় করতে পেরেছে, যাতে কাশগার অবধি করিডর তৈরী করা যায় বলে. এই বন্দর তৈরীর সময়ে সমুদ্রের তলদেশ গভীর করার জন্য ও বন্দরের পরিকাঠামোর যন্ত্রপাতির জন্য তার খরচের তিনের চার অংশ চিন দিয়েছে. বিশেষজ্ঞরা কোন ভাবেই সন্দেহ করেন নি যে, এই বন্দর তৈরী রয়েছে ভারী ট্যাঙ্কারের জন্য, আর ভারী সামরিক জাহাজের জন্যও. কয়েকদিন আগে বেজিং আশ্বাস দিয়েছে যে, সেখানে ২০টি নতুন নোঙর ফেলে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করে দেবে. আর পাকিস্তান – ইরানের খনিজ তেলের জন্য এখানে তেল পরিশোধন কারখানা বানাবে.

হিমালয় পর্ব্বতের উঁচু জায়গাগুলো অবশ্যই কাশগার থেকে স্থল পথে খনিজ তেল সংক্রান্ত জিনিষ পরিবহনের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করবে. কিন্তু চিনের এই করিডর ছাড়া অন্য কোন রাস্তাও নেই নিজেদের শক্তি সংক্রান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য, যদি নির্দিষ্ট কোন পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের সহযোগীরা ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে চিনের জন্য নিকটপ্রাচ্য থেকে খনিজ তেল আমদানীর বর্তমানের পথ মালাক্কা প্রণালী হয়ে বন্ধ করে দেয়, তাহলে.