জি২০ – এটা পৃথিবীর ১৯টা সবচেয়ে দ্রুত উন্নয়নশীল জাতীয় অর্থনীতি প্লাস ইউরোপীয় সংঘ. সবমিলিয়ে জি২০ পৃথিবীর ৯০% পণ্য উত্পাদন করে. স্বভাবতই ঐ ফোরামে গৃহীত সিদ্ধান্তাবলী বিশ্ব অর্থনীতির উন্নয়নের পথ নির্ণয় করে.

একইসাথে ২০১৩ সালে প্রোকেটশনিজমের বিরুদ্ধে গৃহীত দুটি চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছেঃ ২০১০ সালে টরেন্টোয় গৃহীত ও ২০১০ সালেই ইয়োকোহামায় গৃহীত. অতঃপর কি হতে পারে ? এই সম্পর্কে বলছেন ‘রুস্কি দিয়ালোগ’ কোম্পানীর অর্থনীতিবিদ ইয়েভগেনি গাভ্রিলেনকোভ. –

নেতারা বোঝাপড়া করেছেন আর কৃত্রিম উপায়ে পণ্য আমদানীতে প্রতিবন্ধকতা না বাড়ানোর, যে কোনো পদ্ধতিতে স্বদেশীয় পণ্য রপ্তাণী বাড়ানোর কাজে সাহায্য না করার. সেটা ছিল তীব্র সংকটোত্তর পর্যায়, আর তাই ২০১৩ সাল পর্যন্ত এই চুক্তি মেনে চলার ব্যাপারে বোঝাপড়া হয়েছিল. ২০১৩ সাল শেষ হতে চলেছে, কিন্তু আমরা প্রত্যক্ষ করছি, যে অনেক দেশই অর্থনৈতিক সংকটের কুপরিণতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি, তারা এখনো অর্থনৈতিক উন্নয়ন দেখাতে পারছে না. সুতরাং, স্বাভাবিকভাবেই পুরনো নীতি অনুসরন করে যাওয়ার প্রলোভন বিদ্যমান.
ধ্রুপদী কাঠখোট্টা প্রোকেটশানিজম আজ প্রায় অতীতে পর্যবসিত হয়েছে. সেরকম কাঠখোট্টা প্রোটেকশনিজম দেখা গেছিল আমেরিকা ও চীনের মধ্যে মোটরগাড়ি নিয়ে ‘শুল্কযুদ্ধে’, যারা বাড়তি আমদানী শুল্ক আরোপ করে স্বদেশী মোটরগাড়ির নির্মাতাদের সাহায্য করেছিল. এখন পদ্ধতিগুলো আরও সূক্ষ, আর বোলচাল আরও বাকপটু. তবুও বহু দেশই প্রোকেটশনিজম এখনো পুরোমাত্রায় প্রয়োগ করে চলেছে.

অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মত এই, যে আসন্ন সামিটে সব শীর্ষনেতা প্রোটেকশনিজম বন্ধ করার কথা বলবেন, কিন্তু আদপে প্রত্যক্ষ রাস্তা এড়িয়ে এই নীতি অনুবর্তন করা চালিয়ে যাবেন. সংকটোত্তর অর্থনীতিই প্রোকেশানিজম থেকে বেরোবার পথ, আর দেশনেতাদের বিবৃতি সামান্য কূটনীতির ছেলেখেলা – বলছেন পন্ডিতরা. এই বিষয়ে শুনুন রাশিয়ার হায়ার স্কুল অফ ইরনমিক্সের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি বিভাগের কর্মী আলেক্সেই পোর্তানস্কির বক্তব্যঃ –

এমনকি ইউরোপীয় সংঘের ভেতরেও প্রোটেকশনিজম বহু জায়গায় বহাল আছে, আইনতঃ যা হওয়া উচিত্ নয়. যেমন, ফ্রান্স জার্মানী থেকে ‘মার্সেডিজ’-এর কয়েকটি অত্যাধুনিক মডেল আমদানী করা নিষিদ্ধ করেছে, এই অজুহাত খাঁড়া করে, যে ঐ গাড়িগুলোর এসি-তে নাকি এমন সব রি-এজেন্ট ব্যবহার করা হয়, যেগুলো ইউরোপীয় সংঘে নিষিদ্ধ!

অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দিতার দৃষ্টান্ত দিচ্ছি. যেমন বিশ্ববিখ্যাত Apple ও Samsung –এর মধ্যে পেটেন্ট নিয়ে বচসার কারণে আমেরিকায় দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানী নির্মিত কয়েকটি মডেলের স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হতে পারে. আরও আছে – ইউরোপীয় সংঘ ও চীনের মধ্যে বচসার কারণে ইউরোপীয় বাজার থেকে উধাও হয়ে যেতে পারে চীনা সৌর ব্যাটারী, আর চীনের বাজার থেকে ফরাসি ও ইতালিয়ান ওয়াইন. বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, যে এই সব বাণিজ্যিক বচসার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয় শুধু খরিদ্দারদের. যে সব কোম্পানী নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার দরুন কোনো বাজার হারায়, তাদের সাময়িক আর্থিক ক্ষতি হয়, যেটা তারা পরবর্তীতে অন্য কোনো নতুন বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে পূরণ করে নেয়. মাঝখান থেকে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হয় ক্রেতারা, যাদের পছন্দ করে কেনার জন্য পণ্যদ্রব্যের রেঞ্জটা সরু হয়ে যায়.