আমেরিকায় ‘রেডিও রাশিয়া’র সংবাদদাতা রোমান মামোনভ রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের সাথে আলাপচারিতা করে বোঝবার চেষ্টা করেছেন, যে এবারে সাফল্য লাভ করার সম্ভাবনা কতখানি.

ওখোত্স্কি সাগরের তলায় মহাদেশীয় খনিজ ভান্ডারের উপর রাশিয়ার অধিকার প্রমাণ করতে এবার এসেছেন প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রকের কর্মীরা ও জলগর্ভস্থ খনিজ দ্রব্য বিষয়ক জিওলজিস্টরা. প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী দেনিস খ্রামোভ.

‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে দেনিস খ্রামোভ বলেছেন, যে সবার আগে মস্কো চাইছে ঐ এলাকায় সামুদ্রিক প্রাণী ধরার চলতি বর্বর প্রক্রিয়া থামাতে. –

ওখোত্স্কি সাগরের মাঝামাঝি প্রায় ৪৮ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকায় সাগরের গভীরতা বেশি নয় এবং মাছ ও অন্যান্য প্রাণী ধরার আদর্শ জায়গা. যে কোনো দেশ সেখানে মাছ, কাঁকড়া ধরতে পারে. এখন সেখানে অবাধ লুন্ঠন চলছে, কারণ আমাদের হাতে এরকম কোনো আন্তর্জাতির আইন নেই, যা প্রয়োগ করে এটা বন্ধ করা যেতে পারে. কারণ তথ্যগত ভিত্তিতে এটা পার্থিব মহাসমুদ্রের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ. অতএব তত্সম্পর্কীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে এটা হবে রাশিয়ার সার্বভৌম অংশ এবং ঐ এলাকায় কোনো অর্থনৈতিক কার্যকলাপ চালাতে হলে প্রয়োজন হবে রাশিয়ার সম্মতি নেওয়ার.

মহাদেশীয় ভান্ডারের উপর নিজস্ব অধিকার কায়েম করার জন্য রাশিয়ার এটাই প্রথম প্রচেষ্টা নয়. ২০০১ সালে মস্কো আবেদনপত্র জমা দিয়েছিল, তবে সেবারে আলাদা অংশ নয়, গোটা মহাদেশীয় ভান্ডারের উপর অধিকারের দাবী করেছিল. সেবারে রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞরা আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল এই কারণে, যে প্রতিবেশী দেশগুলির সাথে বোঝাপড়া ছিল না. বিশেষতঃ জাপান বেঁকে বসেছিল এবং গোটা মহাদেশীয় ভান্ডারের উপর নিজস্ব অধিকার সাব্যস্ত করার মতো যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদি রাশিয়া পেশ করতে পারেনি.

এবার প্রয়োজনের চেয়েও বেশি প্রমাণাদি পেশ করা হয়েছে. এবং দেনিস খ্রামোভ বলছেন, যে ইতিবাচক সঙ্কেত ইতিমধ্যেই পাওয়া গেছে, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা স্বভাবসিদ্ধ গড়িমসির বদলে এবার ত্বরাণ্বিত গতিতে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন, বলে ঘোষণা করেছেন. –

সাধারণতঃ জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা এরকম প্রশ্নের নিষ্পত্তি করতে কয়েক মাস সময় নেন, কারণ তারা বিভিন্ন আবেদনপত্রের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজে জড়িত থাকেন. তবে আমরা আবেদনপত্র পেশ করার আগেই ২০০১ সালে গঠিত সাব-কমিটিতে নতুন সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন. এবং সাব-কমিটি আমাদের আবেদনপত্র পেশ করার পরেই অবিলম্বে এই বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে. যদি আমরা সাধারণ পথে যেতাম, তাহলে এই আবেদনপত্র সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে বছর গড়িয়ে যেতো. কিন্তু এবার পরিস্থিতি অন্য. আমরা অকাট্য প্রমাণ দিতে সমর্থ হয়েছি, যে ওখোত্স্ক সাগরের ঐ এলাকা রাশিয়ার স্থলভূমির ধারাবাহিক অঞ্চল.

সমুদ্র ভান্ডারের উপর রাশিয়ার অধিকারের দাবী রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ-প্রথার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে. যদি সাগরের অংশ কোনো দেশের স্থলভূমির ধারাবাহিকতা হয়, তাহলে ২০০ মাইল দৈর্ঘ্য পর্যন্ত এলাকায় সেই দেশের অর্থনৈতির কাজকর্ম চালানোর অবাধ অধিকার থাকে.

রাশিয়ার প্রতিনিধিদল আশা রাখছে, যে ওখোত্স্কি সাগরের উপর অধিকারের বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞরা আগামী বছর শুরু হওয়ার আগেই তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন.