প্রবল বন্যা খাবারভস্ক শহরে আক্রমণ করতে শুরু করেছে. সেখানের ঐতিহাসিক ভাবে জল স্তরের রেকর্ড গত সপ্তাহেই ভেঙে গিয়েছে, যখন আমুর নদীতে জলের সীমা ৬৪২ সেন্টিমিটার পার হয়ে গিয়েছে. তারপর থেকেই নদীতে জল বেড়ে চলেছে, আর এখন তার স্তর সাত মিটারের দাগের চেয়ে অনেক উপরে রয়েছে. কিন্তু সম্ভবতঃ এটাও শেষ নয়. জল বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের মতে খাবারভস্ক শহরের কাছে জল আট মিটারের বেশী উপরে উঠতে পারে. এই ধরনের পরিস্থিতিতে ত্রাণ কর্মীরা কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন, তা নিয়ে “রেডিও রাশিয়াকে” জানিয়েছেন রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরের প্রধানের খাবারভস্ক অঞ্চলের প্রথম ডেপুটি দেনিস ইলিনভ, তিনি বলেছেন:

“খাবারভস্ক শহর নীচু জমিতে নয়, যদিও সেখানে কিছু এলাকা নীচু জায়গায় রয়েছে. কিন্তু শহরের বড় অংশ মালভূমির উপরে রয়েছে, শহরও বেশ বড় – প্রায় ছয় লক্ষ লোকের এখানে বাস. আর বেশীর ভাগ বাড়ীই – বহুতল বিশিষ্ট. সেগুলি উঁচু আর রয়েছে উঁচু জায়গাতেই. আর যা কিছু নদীর পার বরাবর, এই গুলি বেশীর ভাগই লোকের ব্যক্তিগত জমি ও বাড়ী, সেই জায়গা গুলিই রয়েছে নীচু এলাকায়. এই সব জায়গাতেই ত্রাণ কর্মীরা সাহায্য করেছেন বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ তৈরী করে দেওয়ার জন্য, যেখানে সম্ভব হয়েছে ট্যাঙ্কের মত চাকা ওয়ালা যন্ত্র ব্যবহার করার তা ব্যবহার করেই বাঁধ দেওয়া হয়েছে. সুতরাং এখন মূল কাজ হল যে, জল বাড়ছে বলেই খেয়াল রাখা, যাতে এই বাঁধ গুলো ভেঙে না যায়”.

এই সমস্ত রকমের শক্তি প্রয়োগ স্বত্ত্বেও, খাবারভস্ক শহরের কিছু এলাকা এখনই জলমগ্ন হয়েছে. এরই কারণে সেখানে বর্তমানে মানুষ জনকে সরে যেতে বলা হয়েছে. যাদের বাড়ীঘর জলের তলায় গিয়েছে, তাদের জন্য সাময়িক ভাবে থাকার জায়গা করে দেওয়া হয়েছে. কিন্তু নিজেদের বাড়ীঘর ছেড়ে যাওয়ার জন্য খাবারভস্কের লোকরা তাড়াহুড়ো করছেন না, তবুও প্রবল বন্যার দিকে তারা উদ্বিগ্ন ভাবেই খেয়াল রাখছেন. এই বিষয়ে “রেডিও রাশিয়াকে” খাবারভস্কের এক বাসিন্দা ইকাতেরিনা শারাপোভা জানিয়ে বলেছেন:

“রোজই বহু সংখ্যক মানুষ নদীর পারে জমা হয়ে দেখছেন জল কতটা বেড়েছে. আর জল সত্যই বেড়েই চলেছে. এটা শহরের লোকদের অবশ্য কোন রকমের আশার সঞ্চার করছে না. খুব সম্ভবতঃ, আগামী সপ্তাহের মধ্যে আবার করে বৃষ্টিপাত চালু হবে আর জল এসে রাস্তায় পড়বে. একটা সামান্য আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে. এর বেশীর ভাগটাই জল দূষিত হওয়া নিয়ে. এই কারণেই দোকানে ইতিমধ্যেই পানীয় জলের অভাব দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, কারণ লোকে এটা জমাতে শুরু করেছে, কিছু একটা হতে পারে ভেবে. তার ওপরে আবার সারা শহরে একটা কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে যে, সম্ভবতঃ বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ করা হবে, তাই মোমবাতি ও দেশলাইও লোকে প্রচুর পরিমাণে কিনে ফেলছেন”.

এই এলাকার প্রশাসন এখন একেএকে ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করতে শুরু করেছে. বন্যায় ধুয়ে গিয়েছে ১২৫৭ কিলোমিটার রাস্তা. প্রাথমিক হিসাবেই এই ক্ষতির পরিমান তিনশো কোটি রুবল. সবমিলিয়ে এই আমুর এলাকার রাজ্যপাল ওলেগ কোঝেমিয়াকোর কথামতো ক্ষতির পরিমান এক হাজার কোটি রুবলের কম হবে না. কিন্তু ধুয়ে যাওয়া রাস্তা বা ডুবে যাওয়া ঘর বাড়ীই সবচেয়ে ভয়ের কথা নয়. তিনজন লোক স্ভাবোদনি নামের শহরের কাছে নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছেন, দুই জন বয়স্ক ও একটি শিশু নৌকায় চড়ে চারপাশের ডোবা জায়গা দেখতে গিয়েছিল, তারা আর বাড়ী ফিরে আসে নি...