কোন রকমের বাস্তব প্রমাণ যে, দামাস্কাসের উপকণ্ঠে রাসায়নিক অস্ত্রই ব্যবহার করা হয়েছে, তা আপাততঃ নেই. ২১শে আগষ্ট বিষাক্ত জিনিষ ব্যবহারের খবর – সম্ভবতঃ সরকারি ফৌজের পক্ষ থেকেই – প্রচার করেছিল আরব টেলিভিশন চ্যানেল গুলোই, যারা সেই আমীরশাহী থেকেই প্রচার করছে – যে রাষ্ট্র সিরিয়ার বিরোধীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে.

সিরিয়ার সরকারি পক্ষ থেকে ফৌজের সেনারা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে, এই খবর অস্বীকার করা হয়েছে, আর এই খবর প্ররোচনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া ও চিনের পক্ষ থেকে আসাদের প্রশাসনের উপরে এই ধরে নেওয়া হচ্ছে বলে ঘটনার দায় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা আটকে দেওয়া হয়েছে. মস্কো ও বেজিং রাষ্ট্রসঙ্ঘের পর্যবেক্ষকদের দিয়ে সমস্ত হওয়া ঘটনার খুঁটিয়ে তদন্ত করার জন্য আহ্বান করেছে.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আরও একবার ঘোষণা করা হয়েছে যে, এখনও অবধি এই ধরনের সমস্ত খবরই ছিল প্রমাণ সাপেক্ষ নয়. মস্কো এই ঘটনার যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত করার দাবী করেছে, এই কথা বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি আলেকজান্ডার লুকাশেভিচ. কিন্তু এই বিষয়েই সমস্যা হতে পারে, এই কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন:

“যে এলাকা নিয়ে কথা হচ্ছে, তা জঙ্গীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে. আমরা সেই ধারণা থেকেই কথা বলছি যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের মিশন সিরিয়ার প্রশাসনের সঙ্গে তদন্ত করার জন্য সমঝোতায় আসা উচিত্. কোন কারণ না থাকাতেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের প্রথম ডেপুটি ইয়ান এলিয়াস্সন স্পষ্ট করে বলেন নি যে, এই ধরনের কাজ করার জন্য কম করে হলেও তদন্তের সময়ে যুদ্ধ বিগ্রহ বন্ধ রাখতে হবে”.

বেশীর ভাগ বিশেষজ্ঞই এমনকি সেই পশ্চিমেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, সরকারি ফৌজ এই ধরনের একটা নির্বোধ কাণ্ড করবে. এই রকম মনে করেন যেমন, ফ্রান্সের হায়ার স্কুল অফ ন্যাশনাল সিকিউরিটির অন্তর্গত “ডিফেনস” নামের জার্নালের প্রধান সম্পাদক রিশার ল্যাবেভিয়ের. খুব সম্ভব যে, সিরিয়ার জঙ্গীরা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে থাকতে পারে, যাতে সমাজের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায়, এই রকম মনে করি তিনি বলেছেন:

“সিরিয়াতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে গবেষণার কাজে খুবই মনোযোগী হওয়া দরকার. এই বিষয় প্রত্যেকবারই উদ্ভব হয়েছে, যখন সিরিয়ার বিরোধী পক্ষ দুর্বল হয়ে পড়েছে. এই রকমই কিছু একটা ইরাকের সঙ্গেও হয়েছিল. সেখানে যা হয়েছিল, তাই আজ সিরিয়ার সঙ্গে হচ্ছে. এখানে কথা হচ্ছে, খুব সম্ভবতঃ রাজনৈতিক যুদ্ধ নিয়ে আর সামাজিক মতামতকে প্রয়োজন মতো নিজেদের পক্ষে নেওয়ার জন্যই”.

তারই মধ্যে পশ্চিমে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের পৃষ্ঠপোষকরা, তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা না করেই, ইতিমধ্যে সিরিয়ার পরিস্থিতিকে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সমাধান করানোর জন্য প্রচার শুরু করে দিয়েছে. এই বিষয়ে সরাসরি বলে দিয়েছে তুরস্ক, গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্স. প্রসঙ্গতঃ, প্যারিসই দামাস্কাসকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আহ্বানের সুর ঠিক করে দিয়েছে. এখানে দেখার মতো হল যে, ফ্রান্স, যেমন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি নিকোল্যা সারকোজির সময়ে লিবিয়াতে ২০১১ সালে বোমা বর্ষণের বিষয়ে প্রধান উদ্যোগী দেশ হয়েছিল.

একটি ফরাসী টেলিভিশন চ্যানেলকে শেষ দেওয়া সাক্ষাত্কারে পররাষ্ট্র মন্ত্রী লোরান ফাবিউস ঘোষণা করেছেন যে, এবারে সময় এসেছে “সরাসরি কাজ” করার, তিনি বলেছেন:

““সরাসরি কাজ” বলতে কি বলা হচ্ছে? আমরা অবশ্যই সেখানে পদাতিক বাহিনী পাঠাতে যাবো না. কিন্তু আমাদের প্রতিক্রিয়া শক্তি প্রয়োগ করে উত্তর হতেই পারে”.

মন্ত্রী তারই সঙ্গে বলেছেন যে, “যদি রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার ঘটনা নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তবে সেই ধরনের সিদ্ধান্ত অন্য পথে নেওয়া হবে:. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি আলেকজান্ডার লুকাশেভিচ ফাবিউসের রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে এড়িয়ে শক্তি প্রয়োগ করে উত্তর দেওয়াকে বলেছেন খুবই অদ্ভুত. তার ওপরে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রামাণ্য কোন তথ্য এখনও পাওয়া যায় নি, তাই তিনি বলেছেন:

“হতে পারে এই রকমের ঘটনা পরম্পরা বিশ্লেষণ করে কোনও লাভ নেই. আমরা সেই ধারণা থেকেই কথা বলছি – যা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সনদে লেখা রয়েছে, - যে শক্তি প্রয়োগ করা যেতে পারে একমাত্র রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের তরফ থেকে আপাততঃ শক্তি প্রয়োগের উপায় নিয়ে কোন কথা বলে নি. পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি যেমন ঘোষণা করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, দামাস্কাসের উপকণ্ঠে সম্ভাব্য রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ নিয়ে সমস্ত খবরকে যোগাড় করে বিশ্লেষণ করার দরকার রয়েছে.