রাশিয়ার “জি২০” শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্য তালিকায় রয়েছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমস্যা, বিনিয়োগ সন্ধান, কর সংক্রান্ত ব্যবস্থার সংশোধন, বাণিজ্য ব্যবস্থা, জ্বালানী ক্ষেত্রে বিকাশ. রাশিয়া চেষ্টা করেছে সবচেয়ে বেশী বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে এক জায়গায় করার. আর মূল বিষয় নিয়ে বাছতে বসে রাশিয়া ঠিক করেছে সেই বিষয়কেই তুলে ধরার, যা কুড়িটি দেশের সব কটিকেই স্পর্শ করে, এই কথা উল্লেখ করে ক্সেনিয়া ইউদায়েভা বলেছেন:

“মুখ্য বিষয় হিসাবে আমরা সেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়কেই বেছে নিয়েছি. বিগত বছরগুলোতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যাতে অর্থনৈতিক বাজারগুলোতে একটা স্থিতিশীল পরিস্থিতি আসে. আর এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়, আর তার মধ্যে বিনিয়োগ এবং নতুন বিকাশের উত্স খোঁজাই হবে সমস্ত দেশের কাজের তালিকায় প্রথমে. আমরা এটা আগে থেকেই অনুমান করতে পেরেছি. এটাই এখন সমস্ত অর্থনীতির জন্যই মুখ্য হয়েছে, আর তা শুধু ইউরোপের আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই নয়, যা আমরা আগে ভেবেছিলাম”.

তাছাড়া এর আগের শীর্ষ সম্মেলনগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে, রাশিয়া ঠিক করেছে “জি২০” গোষ্ঠীর সিদ্ধান্তগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য নতুন ধরনের কাজের ব্যবস্থা প্রস্তাব করার, এই কথা যোগ করে ক্সেনিয়া ইউদায়েভা বলেছেন:

“আমাদের সভাপতিত্বের বিশেষত্ব হল যে, বহু ক্ষেত্রেই আমরা সমস্ত রাষ্ট্রের জন্য একই ধরনের উপায় প্রস্তাব করি না, সেই ক্ষেত্রে হয় এক গুচ্ছ উপায়, যার থেকে দেশগুলো তাদের জন্য গ্রহণযোগ্য ধরন বেছে নিতে পারে, অথবা এমন কোন উপায়ের সমষ্টি, যখন দেশগুলো একাই নিজেদের উপরে কোন না কোন দায়িত্বভার নিতে পারে. এটা সেই বিষয়ের সঙ্গেই জড়িত যে, আমরা অর্থনীতিগুলোর বিভিন্ন হারে মজবুত হওয়ার গতির সঙ্গে মুখোমুখি হচ্ছি, বিভিন্ন দেশে তার নানারকমের সমস্যা ও পরিস্থিতি, যা আলাদা করে প্রত্যেক দেশ নিজের এলাকায় সম্মুখীণ হচ্ছে. তাই একই ধরনের উপায়, যা যেমন কানাডায় “জি২০” শীর্ষ সম্মেলনের সময়ে নেওয়া হয়েছিল, যখন দেশগুলো সকলেই নিজেদের খরচ কমানোর দায়িত্ব নিয়েছিল, তা আর বর্তমানে চলতে পারে না”.

এই শীর্ষ সম্মেলনের সময়ে রাজনৈতিক প্রশ্নগুলো দ্বিতীয় সারিতে সরে যাওয়ার কথা বলে নিশ্চিত আছেন রাশিয়ার শেরপা. খুব সম্ভবতঃ, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা ও উদ্যোগের বিষয় নিয়ে দ্বিপাক্ষিক স্তরে কথাবার্তা হবে. “জি২০” সম্মেলনের মূল কথা এটা অর্থনীতি. আর এই ধরনের সম্মেলনে রাজনৈতিক প্রশ্নের সমাধান করা সুবিধাজনক নয়, তাই ক্সেনিয়া ইউদায়েভা ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

“একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা রয়েছে বহুমেরুত্ব. “জি৭” এক সময়ে পশ্চিমের বিশ্বের স্বার্থ নিয়ে একমত হওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠান হয়েছিল. “জি৮” – এটাও বিশ্বের উত্তরাঞ্চলের প্রতিষ্ঠান. আর “জি২০”তে বিশ্বের পাঁচটি মহাদেশের সব কটির প্রতিনিধিরাই রয়েছেন আর তা বাস্তবেই আধুনিক বিশ্বের পরিস্থিতির প্রতিফলন করে. “জি২০” – এটা বড় আর প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো, যারা সামগ্রিক আলোচ্য বিষয় নিয়েই আলোচনা করে. আর যেহেতু এইগুলি পাঁচটি মহাদেশের থেকে, তাই তাদের প্রতিনিধিরাও নানা ধরনের আর এখানে কোন একটা গোষ্ঠী নিয়ে বলা যেতে পারে না. এটা স্রেফ সম্মেলন, যার আলোচ্যের তালিকা একেবারেই নানা ধরনের কাঠামো ও স্বার্থের প্রতিনিধিদলের মধ্যে সকলের জন্যই তৈরী করা, যারা ঐক্যবদ্ধ বিশ্বের ব্যবস্থার মধ্যে যোগ দিয়েছে, আর এর কাঠামোর মধ্যেই একে অপরের উপরে নির্ভরশীল”.

ক্সেনিয়া ইউদায়েভার কথামতো, এই শীর্ষ সম্মেলনের শেষে প্রায় দশটি মূল দলিল গ্রহণ করা হবে. এটা “সেন্ট পিটার্সবার্গের কাজের পরিকল্পনা”: ও তার সঙ্গে অনেকগুলো আনুষঙ্গিক দলিল, যা আলাদা করে উপস্থাপিত হওয়া প্রশ্নগুলোর সম্বন্ধে, যেমন: কর, বাণিজ্য, জ্বালানী. তারই সঙ্গে দলিল প্রকাশিত হবে, যাতে বিগত বছরগুলোতে “জি২০” গোষ্ঠীর কাজের ফলাফল জানানো হবে. এটাও অংশতঃ প্রয়োজন রয়েছে, যাতে সন্দেহবাতিক লোকদের এর প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে প্রমাণ দেওয়া সম্ভব হয়, আর তারই সঙ্গে পরবর্তী কালের কাজকর্মের পরিকল্পনা ঠিক করা হয়ে থাকে.