দামাস্কাসের পূর্ব উপকণ্ঠে লড়াই সত্যই চলছে. কিন্তু রাশিয়ার কূটনীতিবিদেরা যে রকম জানতে পেরেছেন যে, এখানের ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভাবেই বিকৃত করে জানানো হয়েছে.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, “আঞ্চলিক টেলিভিশন স্টেশনের রিপোর্টের সততা নিয়ে পরীক্ষা করে যা বোঝা গিয়েছে”, তা হল যে, “২১শে আগষ্ট খুব ভোর বেলায় এই এলাকায় জঙ্গীদের দখল করা অবস্থান থেকে একটা হাতে তৈরী করা রকেট ছাড়া হয়েছিল, ঠিক সেই রকমই, যা ১৯শে মার্চ সন্ত্রাসবাদীরা আলেপ্পো শহরের কাছে হান আল- আসাল শহরে প্রয়োগ করেছিল, তবে এবারে ব্যবহৃত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ সঠিক ভাবে এখনও নির্ণয় করা হয় নি”.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষ মিশন আলেপ্পো শহরের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বাস্তব ঘটনা নিয়ে তদন্ত করবে বলে ঠিক রয়েছে. সেই মিশন ২০শে আগষ্ট সিরিয়াতে কাজ শুরু করেছে.

কিছু লোক সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, এবারেও কথা হচ্ছে জারিন গ্যাস নিয়ে. আর তার চেয়েও বেশী হল যে, এখানে আহ্বান করা হয়েছে ইন্টারনেটে প্রচার করা ছবি সম্বন্ধেও সাবধান হতে, যা নাকি এই আক্রমণের অব্যবহিত পরেই তোলা হয়েছিল. তাতে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, “যারা ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাথমিক শুশ্রূষা দিচ্ছে, তাদের গায়ে কোন প্রতিরক্ষার পোষাক নেই”, - এটা ইউরোপীয় সঙ্ঘের রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা সমস্যা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ জাঁ-পাস্কাল জানদের্স নিজের ব্লগে লিখেছেন. তিনি বিশ্বাস করেন যে, “জারিন নিয়ে তা করা যেতে পারে না. প্রতিরক্ষা মূলক পোষাক না থাকলে বহু দ্বিতীয় দফায় ক্ষতিগ্রস্ত লোক থাকত”.

দামাস্কাসের উপকণ্ঠে এই অপারেশন ঠিক তখনই করা হয়েছে, যখন সিরিয়াতে সম্ভাব্য রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে তদন্তের জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের কমিশন কাজ করতে শুরু করেছে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের ধারণা অনুযায়ী এই সবই সেই ধরনের চেষ্টার মতো হয়েছে, যা সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন নিয়ে জেনেভায় শান্তি সম্মেলনের আয়োজনকে ভণ্ডুল করে দেওয়ার জন্য করা যেতে পারে. রাশিয়া ও আমেরিকার বিশেষজ্ঞদের আরও একবার দেখা হওয়ার কথা ২৮শে আগষ্ট.

“বিরোধী পক্ষের আর কিছুই হারাবার মতো নেই. তারা জিততে পারে না আর যে কোন ধরনের শক্তি প্রয়োগ করে চেষ্টা করছে পশ্চিমকে দিয়ে এই বিরোধে হস্তক্ষেপ করানোর” – এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

“এই সবই আগেও করা হয়েছে. আমেরিকার পক্ষ থেকে শুধু বলার অপেক্ষা ছিল যে, তারা সিরিয়াতে রাসায়নিক অস্ত্র পাওয়া গেলে হস্তক্ষেপ করবে, ঠিক তখনই কাতারের “আল- জাজিরা” চ্যানেল ঘোষণা করেছিল যে, তারা ইতিমধ্যেই এটা খুঁজে পেয়েছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে তথ্যের বিষয়ে তদন্তের জন্য বিশেষজ্ঞদের শুধু সিরিয়াতে আসার অপেক্ষাই ছিল, আর ঠিক তখনই দুবাই থেকে “আল- আরাবিয়া” জানিয়েছে যে, সরকারি ফৌজ সিরিয়াতে এই অস্ত্র ব্যবহার করেছে. এটা খুবই মোটা দাগের কাজ”.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ (২১শে আগষ্ট) জরুরী অধিবেশন করেছে আর সেখানে আহ্বান করা হয়েছে দামাস্কাস উপকণ্ঠের এই ট্র্যাজেডির খবরের খুঁটিয়ে তদন্ত করার. রাশিয়াও মনে করে যে, খুঁটিয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে. আর এই কাজ ইতিমধ্যেই সিরিয়াতে থাকা রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞদের করার দরকার রয়েছে.