এই সব ঘটনার মধ্যে একটি নাকি অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যের সীমান্ত লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত. যদিও এক গুচ্ছ সীমান্ত সমস্যার সমাধান ভারতবর্ষ ও চিনের মধ্যে করা হয়েছিল সেই ২০০৩ সালেই, তবুও এই রাজ্যের এলাকার উপরে নিজেদের দাবী চিনারা এখনও বন্ধ করে নি.

বুধবারে ভারতের “টাইমস অফ ইন্ডিয়া” সংবাদপত্র জানিয়েছে যে, সেই ১৩ই আগষ্ট চিনের সেনাবাহিনী ভারতীয় এলাকার ভিতরে প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে ঢুকে পড়েছিল, আর সেখানে থেকে গিয়েছিল দুদিনের জন্য. কিন্তু একই দিনে অন্য এক ভারতীয় সংবাদপত্র “হিন্দু” লিখেছে যে, এই খবর সন্দেহজনক. তাদের খবর অনুযায়ী ২০ কিলোমিটার নয় বরং ৩৫ কিলোমিটার অবধি চিনা সৈনিকদের ঢুকে পড়ার খবর এসেছে একটি উত্স থেকেই – আর সেটা ভারতীয় লোকসভার বিরোধী পক্ষ জনতা দলের সদস্যের কাছ থেকে, আর তারপরে তা ইন্টারনেটে বিভিন্ন উত্স ব্যবহার করে বহুবারই প্রচার করা হয়েছে. ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এই খবরে কোন প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকার করা হয়েছে, বলা হয়েছে: “আমরা না ঘটা ঘটনা নিয়ে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলি না”. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“তা সে যাই হোক না কেন, এই ঘটনা খুবই স্পষ্ট করে দেখিয়ে দেয় যে, চিনের পক্ষ থেকে সত্যি অথবা বানিয়ে বলা সীমান্ত লঙ্ঘনের ঘটনা আরও বেশী করেই স্পষ্ট দেখার মতো ও খুবই তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক চেহারা নিয়েছে, আর বিজেপি ঠিক করেছে সক্রিয়ভাবে এই বিষয় নিয়ে প্রশাসনকে আক্রমণ করার, তাদের মতে যারা খুবই নিষ্ক্রিয় অবস্থান নিয়েছে”.

সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা আরও এক গুচ্ছ কারণের সঙ্গে যুক্ত. চিন যে ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন নিজেদের এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে (বিশেষত তিব্বতে), এই বাস্তব বিষয়টা সন্দেহের উর্ধে. ঠিক তেমনই চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মুখ্য স্ট্র্যাটেজিক এলাকা হয়ে দাঁড়াচ্ছে নেপাল. আর এখন আবার ভুটানের ফ্যাক্টর সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে.

বৃহস্পতিবারে এই রাজতন্ত্রের রাজধানী – থিম্পু শহরে চিন ও ভুটানের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাই এই প্রসঙ্গেও বরিস ভলখোনস্কি মন্তব্য করে বলেছেন:

“এখানে উল্লেখ করা উচিত্ হবে যে, ভুটান ঐতিহ্য মেনেই শুধু ভারতের সহযোগী দেশই নয়, বরং বাস্তবে ভারতের হাতেই পররাষ্ট্র রাজনীতির দায়ভার তুলে দিয়েছে. এই প্রসঙ্গে এই ছোট্ট দেশের নিজেদেরই প্রতিবেশী দৈত্যাকার দেশ চিনের সঙ্গে রয়েছে এলাকা নিয়ে বিরোধ.

আর এই পরিস্থিতিতে অনেকটাই নির্ভর করছে ভুটানের ক্ষেত্রে বেজিং কোন পথ বেছে নেবে. সমস্ত রকমের মনে করার জন্য ভিত্তিই রয়েছে যে, চিন এলাকা নিয়ে প্রশ্ন নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব এই দেশে বৃদ্ধি করেই বদলে নিতে পারে, যে দেশ সেই সমস্ত এলাকারই খুব কাছে রয়েছে, যা চিন আবার নিজেদের এলাকা বলেই মনে করে”.

আরও একটা কারণ রয়েছে এই সীমান্ত এলাকার সমস্যা নিয়ে উল্লেখ করার জন্য. এটা খুবই তীক্ষ্ণ রকমের আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদের মাথাচাড়া দেওয়া, যা সেই ভারতেই হয়েছে অন্ধ্র প্রদেশ থেকে আলাদা করে দিয়ে তেলেঙ্গানাকে আলাদা রাজ্য হিসাবে স্বীকৃতী ঘোষণা করার পরে. তার ওপরে আবার আলাদা করে নতুন রাজ্য তৈরীর জন্য আন্দোলন বেশী হচ্ছে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের এলাকায়. গোর্খারা নিজেদের জন্য চাইছে গোর্খাল্যান্ড. যা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই রয়েছে. আর বোড়ো প্রজাতির লোকরা চাইছে আসামের থেকে আলাদা হয়ে রাষ্ট্রই তৈরী করতে.

এই সব পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের এলাকায় অনেকখানিই নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে. আর চিনের জন্য ভারতের মধ্যেই সহযোগী জুটে যাবে.