“গুটা মরূদ্যান এলাকায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের খবরে এক বিন্দুও সত্য নেই. এটা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিজেদের কাজ করার ব্যাপারে মনোযোগ নষ্ট করার জন্যই করা হয়েছে” – সিরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা সানার সাইটে বলা হয়েছে এই মন্তব্য.

“আল-আরাবিয়া” এর আগেও একাধিকবার মিথ্যা খবর দিয়েছে বলে ও বাস্তবকে বিকৃত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে. কিন্তু এই টেলিভিশন চ্যানেলের শেষ এই “রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের” খবর সমস্ত রকমের অপপ্রচারের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে. খুবই কষ্টকর হবে ধারণা করতে যে, সিরিয়ার সামরিক বাহিনী রাসায়নিক অস্ত্র দিয়ে নিজেদের রাজধানীর কাছে জমি তৈরী করবে, যেখান থেকে তারাই কিনা শেষ জঙ্গী গোষ্ঠী গুলোকে পিটিয়ে তাড়াচ্ছে.

এখানে লক্ষ্যণীয় হল যে, এই খবর সেই মুহূর্তেই উদয় হয়েছে, যখন দামাস্কাস ও আলেপ্পো এলাকায় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দল কাজ করতে শুরু করেছে, এই কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার “হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের” বিশ্লেষক লিওনিদ ইসায়েভ. সিরিয়াতে এই বিশেষজ্ঞদের দল এসে পৌঁছেছে ১৮ই আগষ্ট আর তারা এখানে সম্ভাব্য রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে সমস্ত ঘটনাকেই পরীক্ষা করে দেখবেন. “আল- আরাবিয়া” বিরোধী জঙ্গীদের জন্য তথ্য সংক্রান্ত সহায়তা করা চালিয়েই যাচ্ছে, তাই ইসায়েভ বলেছেন:

“এখন এই “আল- আরাবিয়া” ও অন্যান্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলো, যারা সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সমর্থন করছে, তারা চেষ্টা করবে দেশের সরকারি ফৌজের জন্যই একটা অপ্রিয় বাতাবরণ তৈরী করার. তারা মিথ্যা খবর দিতে থাকবে, যাতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলা যায়”.

এই সবই একেবারেই প্ররোচনা দেওয়ার মতো, এই রকম মতের সঙ্গে একমত হয়ে মস্কোর রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ভেনিয়ামিন পাপোভ বলেছেন:

“একেবারেই বাদ দেওয়া যেতে পারে না যে, বিরোধী পক্ষের জঙ্গীরাই এই অস্ত্র ব্যবহার করেছে, যাতে সব পরে প্রশাসনের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া যায়. এটা ধারণা করা যে, যখন দামাস্কাসে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে একদল আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন, ঠিক তখনই সরকার এই অস্ত্র প্রয়োগ করছে – এটা একেবারেই অ্যাবসার্ড ব্যাপার”.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞরা তিনটি জায়গা পরিদর্শন করবেন, তার মধ্যে আলেপ্পো শহরের উপকণ্ঠও রয়েছে, যেখানে এই বছরের বসন্তকালে নাকি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল রাসায়নিক বিষাক্ত জিনিষ ব্যবহারের প্রমাণ. সিরিয়ার এলাকায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আমেরিকার প্রশাসন জানিয়েছিল আর তারা দোষ দিয়েছিল সিরিয়ার প্রশাসনকে ও সরকারি ফৌজকে.

তারই মধ্যে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করে দিয়েছিল যে, জারিন গ্যাস সমেত ব্যবহার করা গোলা তৈরী করা হয়েছিল কোন হাতে করে তৈরীর জায়গায়. সেই জুন মাসেই এই বিষয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছিলেন:

“আমাদের বিশেষজ্ঞরা সেই জায়গায় গিয়ে প্রামাণ্য সংগ্রহ করেছেন, তাঁরা রাসায়নিক অস্ত্র বন্ধ করার সংগঠনের স্বীকৃত ল্যাবরেটরীতে সেই প্রামাণ্য পরীক্ষা করে দেখেছেন এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, সেই গোলা ও তার ভেতরের জারিন গ্যাস ছিল হাতে তৈরী. সেখানে একেবারেই স্পষ্ট ও কোন রকমের দ্ব্যর্থ বোধক সিদ্ধান্ত নেই যে, এই গোলার গুণমান - সেই সমস্ত স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে মেলে না, যা রাসায়নিক অস্ত্র বানানোর শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, আর এই জারিন গ্যাসও সেই রকমের নয়. আমাদের বাড়তি তথ্য অনুযায়ী, এই গোলা ও এই জিনিষ ছিল ২০১৩ সালে সিরিয়ার জঙ্গী অধিকৃত স্বাধীন সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা জায়গায় বানানো, আর তা বানিয়েছিল এক গোষ্ঠী, যারা এই স্বাধীন সামরিক বাহিনীর সঙ্গেই যুক্ত”.

বিরোধী পক্ষের যোদ্ধারা ইতিমধ্যেই একাধিকবার সিরিয়ার প্রশাসনকে বিষাক্ত জিনিষ ব্যবহার করার জন্য দোষ দিয়েছে. কিন্তু কোন রকমের প্রমাণ আপাততঃ নেই. আর জঙ্গীরাই যে এই ধরনের জিনিষ ব্যবহার করেছে, তা নিয়ে প্রমাণ রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণেই.