“ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য গত সপ্তাহে হওয়া দুর্ঘটনা বিশেষত ডুবোজাহাজ বাহিনীর জন্যই খুব বড় ট্র্যাজেডি. এই সময়ে আপনারা জানেন যে, ডুবুরিরা খুবই চেষ্টা করছেন কি করে এই ডুবোজাহাজের ভেতর উদ্ধার করা যায়, আর আমার মনে হয়েছে যে, অন্যদের কাছ থেকে যেমন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক এজেন্সীর কাছ থেকে বিশেষ ধরনের ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজে সহায়তা নেওয়ার আগে নৌবাহিনীর লোকরা চাইছেন নিজেরাই যত বেশী সম্ভব তদন্তের কাজ সেরে ফেলার”.

কিন্তু আপাততঃ ভারতীয় পক্ষ থেকে রুশ বিশেষজ্ঞদের এবং বিশেষ করে এই জাহাজ যাঁরা তৈরী ও মেরামত করেছেন সেই জ্ভিওদোচকা কারখানার লোকদের এই কাজে লাগার অনুমতি দেওয়া হয় নি.

উদয় ভাস্কর বলেছেন:

“আমি এই সময়ে ভারতীয়দের দ্বিধার কারণ বুঝতে পারি, আপনারা জানেন যে, ডুবোজাহাজ এই রকম ভাবে নষ্ট হয়েছে আর সেটা একটা ভয়ানক চমক ও হতাশার কারণ এটা একটা ডুবোজাহাজ আর আমি এটাকে বলব সাধারণ প্রাতক্রিয়া বলেই. রাশিয়ার সাথে ভারতের একটা বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে কারণ শুধু ডুবোজাহাজই রাশিয়া থেকে আসে না বরং যখন এমনকি রাশিয়া প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের অংশ ছিল, তখনও আমরা ১৯৬৭ সালে আমাদের প্রথম ডুবোজাহাজ আইএনএস “ক্যাভালরি”, সেখান থেকেই পেয়েছিলাম. সুতরাং, কোন সন্দেহই নেই যে, মস্কোর নয়া দিল্লীর সঙ্গে একটা বিশেষ সম্পর্ক আছে বিশেষত প্রতিরক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রে.

এখন আমি এই মুহূর্তেই ভারত নিজে তদন্ত করতে চেয়েছে বলে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করব না, আর আমার একজন ভারতীয় হিসাবে এখানে মনে হয়েছে যে, ভারতীয়রা এই সাবমেরিনকে তুলে আনতেই পারে, হতে পারে এটাকে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে পারে, আর সেখানে আরও বিশদ ভাবে প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিষয়ে খুঁটিয়ে অনুসন্ধান- তদন্ত করে দেখতে পারে. আমি নিশ্চিত যে, কোন রকমের প্রয়োজন হলেই ভারত যে কোন রকম বিশেষ অভিজ্ঞতার সহায়তা নেবে.

এই সময়ে জাহাজ উঠিয়ে আনা নিয়ে বলা খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে. আর আমি মনে করি যে, আমি সরকারের হয়ে কথা বলছি না, আমি স্রেফ একজন ব্যক্তিগত পর্যায়ের বিশ্লেষক. কিন্তু আমি বলছি যে, রাশিয়াও এই বিষয়ে জানে আর আমরা বহু রুশী সহকর্মীদের কাছ থেকে সমবেদনা ও শোকবার্তা পেয়েছি এবং আমি মনে করি যে, এটা খুবই গভীর ভাবে স্বীকার করা হয়েছে. তবে এই মুহূর্তে আমি মনে করি যে, ভারতীয় নৌবাহিনী ধীরে এগোতে চায়, মনোযোগ দিয়ে, আর একবার যদি কোন রকমের সহায়তার প্রয়োজন পড়ে, তা যে কোন ধরনেরই হোক না কেন অথবা কোন বিশেষ ধরনের অভিজ্ঞ লোকের পরামর্শ, আমি নিশ্চিত যে, যে তা সবচেয়ে সঠিক ভাবেই নেওয়া হবে”.

ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা বিষয়ে আপনার মূল্যায়ণ কি, সেটা কি ভারতের জন্য জরুরী ব্যাপার?

শ্রী ভাস্কর বলেছেন:

“আমি বরং বলবো যে, এটা ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি ধরে নেবো যে, এটা রাশিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ. আমি ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময়ের সম্পর্কের কথাও মনে করতে পারি. আমার একটা সৌভাগ্য হয়েছিল, যখন অ্যাডমিরাল গর্শকভ আমাদের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শ্রী ভেঙ্কটরামনের সময়ে একটি মিটিংয়ে এসেছিলেন, সেই সময়ে উপস্থিত থাকার. সুতরাং আমি নিজে এই সম্পর্ককে কাছ থেকে দেখেছি ও আমি এখনও বিশেষ করে উল্লেখ করি যে, নয়াদিল্লী ও মস্কোর সম্পর্ক একেবারেই বিশেষ রকমের. কিন্তু তা সে পারমাণবিক ডুবোজাহাজের জন্যই হোক অথবা বিমান পরিবহনে সক্ষম জাহাজই হোক, কিংবা সাধারণ ডুবোজাহাজই হোক, রাশিয়া এখনও আমাদের জন্য সবচেয়ে ভরসাযোগ্য ও সামনেই দেখতে পাওয়ার মতো সহকর্মী দেশ. আমাদের খুবই মজবুত সম্পর্ক রয়েছে আর তার মূল্যও দেওয়া হয়ে থাকে এবং আমরা রাশিয়া থেকে “আকুলা” শ্রেনীর ডুবোজাহাজ পাওয়ার জন্য অপেক্ষায় রয়েছি”.