সৌদী আরবের তথ্য সংস্থা SPA ১৯শে আগষ্ট সন্ধ্যায় রাজতন্ত্রের পররাষ্ট্র প্রধান প্রিন্স সৈদ আল-ফয়সলের একটি বিশেষ ঘোষণা প্রকাশ করেছে, যাতে বলা হয়েছে: “তারা, যারা ইজিপ্টকে সাহায্য কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করেছে অথবা তা করার হুমকি দিয়েছে – তাদের জানা দরকার যে, আরবের ও মুসলিম দেশগুলো ধনী ও তারা কোন রকমের দ্বিধা ছাড়াই ইজিপ্টের সহায়তা করতে এগিয়ে আসবে”. এর-রিয়াদ থেকে করা এই ঘোষণা নির্দেশ করা হয়েছে ২১শে আগষ্ট ইউরোপীয় সঙ্ঘের ২৮টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অধিবেশনকে লক্ষ্য করেই. তাতে ঠিক করা হবে ইজিপ্টের নতুন প্রশাসনের প্রতি ব্রাসেলসের সম্পর্ক আর কায়রোকে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার বিষয়ে.

সৌদী আরব, কুয়েইত, সংযুক্ত আরব আমীরশাহী এবং অন্যান্য কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যেই ইজিপ্টকে সহায়তা হিসাবে এক হাজার চারশো কোটি ডলার দিয়েছে. সুতরাং বর্তমানের সঙ্কট, সব দেখেশুনে মনে হয়েছে যে, ইজিপ্টের জন্য নতুন বন্ধু ও দাতার সংখ্যা দূরের পশ্চিম থেকে না করে কাছের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকেই বাড়বে. কিছু বিশ্লেষক এমনকি বলছেন যে, “নতুন ইজিপ্ট” চিন ও রাশিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক মজবুত করবে.

সৌদী আরবের সঙ্গে “বন্ধুত্ব “নীতিগত ভাবেই আগে থেকে অনুমান করার মতো: এর রিয়াদ তৈরী আছে অর্থ দেওয়ার জন্য, এই রকম মনে করেছেন রাশিয়ার “হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের” বিশ্লেষক কনস্তানতিন ত্রুয়েভ্তসেভ. রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত হওয়া নিয়ে যা বলা যায়, তা হল আপাততঃ পিরামিডের দেশের পরিস্থিতি যতক্ষণ না স্থিতিশীল হচ্ছে, ততক্ষণ পররাষ্ট্র নীতিতে দিক নির্দেশের বিষয়ে বলা তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে. আর ইজিপ্টের সামরিক বাহিনীর পশ্চিমের উপরে অভিমান খুবই ব্যাখ্যা করার মতো, এই কথা যোগ করে ত্রুয়েভ্তসেভ বলেছেন:

“ইজিপ্টের সামরিক বাহিনীর লোকরা, বিগত প্রায় ৩০ বছর ধরে নিজেদের মনে করেছে একেবারে পশ্চিমের দিকে থাকা লোক বলেই. আর নিজেদের কাজ নিয়ে সেই পশ্চিমের পক্ষ থেকেই কড়া সমালোচনা দেখে, সেটা তাদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া না ডেকে এনে পারে নি.”

এই প্রতিক্রিয়া অন্তর্বর্তী কালীণ সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাবিল ফাহমির ইজিপ্টের টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাত্কারে প্রতিফলিত হয়েছে. “আমরা একদল বন্ধুদের অন্য দলের বন্ধু দিয়ে বদলাতে চাই না, কিন্তু আমরা বিশ্বের কাছেই উন্মুক্ত হতে চাই আর অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়তে চাই, যাতে আমাদের বেছে নেওয়ার উপায় থাকে”, - বলেছেন ফাহমি.

ইউরোপীয় সঙ্ঘের দেশগুলো ইজিপ্টকে প্রায় প্রতি বছরে তিরিশ কোটি ইউরোর অস্ত্র সম্ভার বিক্রী করে থাকে. ইউরোপের প্রধান ব্যাঙ্কের তরফ থেকে ও সব মিলিয়ে সহায়তা ও ধারের পরিমাণ ২০১২-২০১৩ সালে মূল্যায়ণ করা হয়েছিল পাঁচশো কোটি ইউরোর মতো. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাহায্যের পরিমাণ বছরে একশ তিরিশ কোটি ডলারের সমান আর তার সঙ্গে কুড়ি কোটির সামান্য কিছু বেশী ডলারের মানবিক সাহায্যও দেওয়া হয়ে থাকে.