দিল্লীর এই ঘোষণা যে, প্রতিবেশী দেশের তরফ থেকে সীমান্ত পার হয়ে আসা নতুন সন্ত্রাসের ঢেউয়ে যে স্পষ্ট করেই “সামরিক চিহ্ন” দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তা পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বে আসন্ন স্থান পরিবর্তনের খবরের সঙ্গে একই সময়ে হয়েছে. আগামী দিনগুলোতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ পদাতিক বাহিনীর সংযুক্ত দপ্তরের প্রধানের নাম ঘোষণা করতে বাধ্য, যিনি এই পদে গত ছয় বছর ধরে থাকা আশফাক পারভেজ কায়ানির জায়গা নেবেন. জেনারেল কায়ানির সঙ্গে ইস্তফা দেবেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর দপ্তর প্রধান খালেদ শামিম উন্নী.

পাকিস্তানের সর্ব্বোচ্চ সামরিক নেতৃত্বে আসন্ন পরিবর্তন একই সঙ্গে দেশের অসামরিক নেতৃত্ব ও প্রভূত ক্ষমতাশালী সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে ক্ষমতার নতুন করে ভূমিকা বণ্টন করার চেষ্টা হতে পারে, যে সামরিক বাহিনী এই দেশকে বহু দশক ধরেই শাসন করেছে ও তাই আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন উল্লেখ করে বলেছেন:

“পাকিস্তানের শেষ সামরিক প্রশাসক পারভেজ মুশারফের আট বছর ব্যাপী শাসনের যুগের শেষ হয়ে যাওয়ার পরে ইসলামাবাদে গণতান্ত্রিক সংস্কারের অপরিবর্তনীয় প্রয়োজন ও সামরিক স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার অসম্ভব হওয়া নিয়ে কথাবার্তা হওয়া স্বত্ত্বেও, জেনারেল কায়ানি পাকিস্তানে নিজের সম্বন্ধে পেছনে থাকা ছায়া প্রশাসকের মর্যাদা বজায় রাখতে পেরেছিলেন. এর আগের রাষ্ট্রপতি জারদারির প্রশাসনের সময়ে তিনি বাস্তবে, ছিলেন দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি, যাঁর প্রচুর বাস্তব ক্ষমতা ছিল আর তা রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার চেয়েও বেশী”.

প্রসঙ্গতঃ, শক্তিশালী প্রভাব বিস্তারের অস্ত্র হাতে থাকা স্বত্ত্বেও, জেনারেল কায়ানি সবসময়েই বলে এসেছেন যে, পাকিস্তানের জন্য সামরিক প্রশাসনের দিন শেষ হয়েছে, আর নতুন করে সামরিক অভ্যুত্থানের কোনই সম্ভাবনা নেই.

তারই মধ্যে, বর্তমানের অবস্থান যে, সামরিক বাহিনী দেশের রাজনীতিতে অংশ নেবে না, তা দেশের একদল জেনারেলের পছন্দ হয় নি. তাই সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ লোকদের একাংশ, তাদের মধ্যে যেমন অবসর নেওয়া, তেমনই বর্তমানে কার্যে রত জেনারেলরাও রয়েছেন, যারা আশা করেছেন যে, নতুন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সময়ে তাঁরা আবার করে চেষ্টা করবেন রাজনীতিতে নিজেদের স্বাধীন ভূমিকা ফিরিয়ে আনার, অসামরিক প্রশাসনকে নিজেদের কাছে অনুগত হতে বাধ্য করেই. আর প্রয়োজনে – তাদের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরিয়েও দেবেন. এই পরিস্থিতিতে অনেকটাই তার ওপরে নির্ভর করবে, যে, কে কায়ানির উত্তরাধিকারী হবেন আর তাঁর সম্পর্ক শরীফের সঙ্গে কি রকমের হবে, যাঁকে ১৯৯৯ সালে জেনারেল মুশারফ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বহিষ্কৃত করেছিলেন”.

এই ভাবেই, সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর নিয়মিত ভাবে ঘটা ঘটনা পাকিস্তানের রাজনীতির জন্য একটা জটিল বাস্তবের সৃষ্টি করতে পারে. দেশের দিক নির্দেশের জন্য অধিকার ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ণয়ের বিষয় এখন তার শেষ সিদ্ধান্ত মূলক অধ্যায়েই উপনীত হয়েছে.