“সামরিক প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতা – এটা সেই সমস্ত ক্ষেত্রের মধ্যে একটা, যাতে রাশিয়া (আর আগে সোভিয়েত দেশ) ও ভারত ঐতিহ্য মেনেই সফল ভাবে সহযোগিতা করে চলেছে. বছর দুয়েক আগে ভারত বিশ্বে সমরাস্ত্র আমদানীকারকদের মধ্যে প্রথম স্থানে উঠে এসেছিল আর এই বিষয়ে চিনকে পেছনে ফেলেছিল. এটা সামরিক প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতাকে আরও বেশী করেই বিশ্বের নেতৃস্থানীয় সমরাস্ত্র সরবরাহকারীদের মধ্যে লোভনীয় করে তুলেছিল. এই প্রসঙ্গে বিগত বছরগুলোতে রাশিয়া প্রতিযোগীদের দিক থেকে খুব কম চাপ অনুভব করছে না, যারা প্রায়ই এনজিও অথবা সংবাদ মাধ্যমকে স্রেফ পয়সা দিয়ে কিনে নিয়ে এই সব কাজে ব্যবহার করছে, যাতে তারা রাশিয়ায় তৈরী অস্ত্রের অপযশ করে”.

এই বাস্তব ব্যাপার এমনকি ভারতের সমাজ বিজ্ঞানীরাও বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন. যেমন, সোভিয়েত দেশে তৈরী যে কোন মিগ- ২১ বিমানের (আর এই ধরনের দুর্ঘটনা বিগত কয়েক বছরে একশরও বেশী বার হয়েছে) দুর্ঘটনা হলেই সংবাদ মাধ্যমের মনোযোগ একেবারে খুবই বেশী করে দেওয়া হয়ে থাকে, যাতে কোন সুযোগ পেলেই মনে করাতে ভুল করা হয় না যে, এই বিমান তৈরী হয়েছে রাশিয়াতে – আর তার দুর্ঘটনার কারণ পাইলটের ভুল বা স্রেফ বিমানের কাজ করার সময় ফুরিয়ে গিয়ে থাকলেও সেটা উল্লেখ করা হয় না – এখানে প্রধান হয় রাশিয়ার উপরেই একটা দুর্নাম দেওয়ার, যে রাশিয়া এই রকম অস্ত্র দিয়েছে, তাই ভলখোনস্কি বলেছেন:

“ঠিক এই বারেও “সিন্ধুরক্ষক” ডুবোজাহাজে দুর্ঘটনার খবর দেওয়ার সময়ে যদিও একটি খবরেও জাহাজের যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়ে কিছু নাও বলা হয়ে থাকে, আর বিশেষজ্ঞরা সমস্বরে যেমন “কিলো” স্তরের রাশিয়ায় তৈরী ডুবোজাহাজ আর রাশিয়ার অন্যান্য সমরাস্ত্রের গুণ নিয়ে বলেও থাকেন, তবুও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে কিভাবে এই দুর্ঘটনার খবরকে ভারতের সংবাদ মাধ্যমে প্রথম দিনগুলোতে আর বিশেষ করে পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে. প্রায় প্রত্যেক প্রবন্ধের শিরোনামে অথবা প্রথম লাইনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “রাশিয়ার তৈরী ডুবোজাহাজ ডুবেছে”. এই ভাবেই সরাসরি এই ডুবোজাহাজ নির্মাতাদের নামে অভিযোগ না করেও, এই সমস্ত প্রবন্ধের লেখকরা রাশিয়ায় তৈরী যন্ত্রের ভরসাযোগ্য না হওয়া নিয়ে নিজেদের ধারণাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন”.

একই সঙ্গে উল্লেখ করা দরকার যে, এই ধরনের অশুভ বুদ্ধি নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রেই করা হচ্ছে না – করা হচ্ছে অন্য একটি রুশ- ভারত সহযোগিতার সম্ভাবনাময় দিকেও – সেটা পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্র. আর সেখানেও, ইতিহাস যেরকম দেখিয়ে দিয়েছে যে, কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নিয়ে রাশিয়ার প্রতিযোগীরা হানী-কারক অপপ্রচার করাতে মোটেও পিছিয়ে যায় নি, আর তারা প্রায়ই স্থানীয় এনজিও ব্যবহার করেছে জনতাকে উত্তেজিত করতে, যেটা দেখাতে চেয়েছে “আপনা থেকেই গজিয়ে ওঠা” প্রতিবাদ বলেই.

তাছাড়া দুর্ঘটনা, যা “সিন্ধুরক্ষকের” সঙ্গে হয়েছে, তা নতুন করে সেই বিখ্যাত ২০১০ সালে নেওয়া পারমাণবিক দায়ভার আইনের দিকে দেখতেই বাধ্য করেছে. শেষমেষ উত্পাদক সেই সব ভুলের দায় নিতে পারে না, যা যে কোন রকমের জটিল যান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যবহারের সময়ে যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করা কর্মীরা করতে পারে.

এই পরিস্থিতিতে শুধু আশা করাই যেতে পারে যে, সরকারি কমিশন এই ডুবোজাহাজে দুর্ঘটনার কারণকে খুবই খুঁটিয়ে দেখবে আর ভারতের সংবাদ মাধ্যমও সত্ভাবে এটাকে সমাজের সামনে তুলে ধরবে, কোন রকমের সিদ্ধান্তকেই রাশিয়ার সঙ্গে অসাধু উপায়ে প্রতিযোগিতা করা লোকদের সুবিধার জন্য বিকৃত না করে.