নরেন্দ্র মোদী এই সব ভাঙচুর ও হত্যাকাণ্ড, যাতে কম করে হলেও এক হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছিল, কতটা জড়িত, তা আজ প্রামাণ্য ভাবে বলার জন্য কেউই রাজী হবে না. অন্তত পক্ষে ভারতের তদন্ত সংস্থাগুলো তিনবার এই প্রশ্ন নিয়ে তদন্ত করেও কোন প্রমাণ সরাসরি ভাবে মোদীর বিরুদ্ধে সেই ১১ বছর আগে হয়ে যাওয়ার ঘটনার ক্ষেত্রে উপস্থিত করতে সক্ষম হয় নি.

কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ছায়া এখনও রয়ে গিয়েছে. আর এমনকি সেই বিজেপি দলের মধ্যেও, যারা মোদীকে প্রাক্ নির্বাচনী প্রচারের নেতা ঘোষণা করেছে অথচ ঐক্যমতে পৌঁছতে পারে নি যে, মোদীকে তারা প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হিসাবে এগিয়ে দেবে বলে, যদি তাদের মোর্চা এমনকি ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়ও. এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“আপাততঃ ভারতেই এখনও আগামী প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য প্রার্থী স্থির করা হয় নি অথচ বিশ্বে অনেকেই এই পদে নরেন্দ্র মোদীকে সবচেয়ে সম্ভাব্য বলে মনে করেছেন. আর প্রথমে এটা অনুভব করেছে গ্রেট ব্রিটেনের রাজনীতিবিদরা. সেই গ্রেট ব্রিটেনেরই হাই কমিশনার ছিলেন প্রথম পশ্চিমের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী, যিনি গত বছরের অক্টোবর মাসে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন ও তা দিয়ে দশ বছরেরও বেশী সময় ধরে কূটনৈতিক ভাবে বয়কটের ইতি করেছিলেন”.

আর কয়েকদিন আগে মোদীকে স্বীকার করে নেওয়াটা একটা নতুন স্তরে পৌঁছেছে – ব্রিটেনের পার্লামেন্টের একদল সদস্য মোদীকে ওয়েস্ট মিনিস্টারের প্রাসাদে বক্তৃতা দিতে আহ্বান করেছে. এই সিদ্ধান্ত গ্রেট ব্রিটেনেই খুব পরস্পর বিরোধী প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে. মানবাধিকার রক্ষীরা আশানুরূপ ভাবেই বিপক্ষে কথা বলেছে, কিন্তু ব্যবসায়িক মহল মোদীর সঙ্গে যোগাযোগকেই স্বাগত জানিয়েছে. আর এমনকি সেটা আগামী প্রধানমন্ত্রী বলেই নয়, বরং গুজরাটের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বলেই, কারণ এই রাজ্যের গ্রেট ব্রিটেনের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ সমগ্র সংযুক্ত রাজতন্ত্রের বাকী ভারতবর্ষের সঙ্গে মোট যোগাযোগের চেয়ে বেশী বলেই. তাই ভলখোনস্কি বলেছেন:

“তা স্বত্ত্বেও এই পরিস্থিতির স্পর্শকাতরতা থেকেই যাচ্ছে, আর বিশেষ করে এটা টের পাওয়া যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে. একবিংশ শতকের প্রথম দশক ধরেই ওয়াশিংটন খুব একটা কম শক্তি প্রয়োগ করে নি ভারতের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা তৈরী করার জন্যে. এই প্রসঙ্গে ২০০৫ সাল থেকেই শুরু করে মোদী, যাকে খুব অল্প লোকই তখন প্রধানমন্ত্রী বা জাতীয় পর্যায়ের নেতা বলে মনে করেছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “প্রবেশের অনুপযুক্ত” মানুষ হিসাবেই রয়ে গিয়েছেন: পররাষ্ট্র দপ্তর একাধিকবার তাঁকে ভিসা দেওয়াতে আপত্তি করেছে”.

আর এইতো কয়েকদিন আগেই আমেরিকার ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শান্তি পরিষদের উপসভাপতি ডক্টর ক্যাটরিনা লান্টোস-সোয়েট আবারও মার্কিন রাষ্ট্রপতি, কংগ্রেস ও পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে আবেদন রেখেছেন যে, মোদীর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা যেন বহাল রাখা হয়.

তাই এখন একটা প্রশ্নের উদয় হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে কি বেশী হবে – যদি মোদী তাও প্রধানমন্ত্রী হন – বাস্তব প্রয়োজন যে, ভারতের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা বজায় রাখার দরকার রয়েছে, নাকি আমেরিকার পক্ষ থেকে স্থায়ী ভাবে মানবাধিকার রক্ষার নীতি মানা হচ্ছে বলে ঘোষণা? আর যদি এমনকি রাজনীতিবিদরা বাস্তববাদী ও কার্যকারণ সংক্রান্ত পথও বেছে নেন, তাহলেও মোদী নিজে তাঁকে করা সেই অপমান কত দ্রুত ভুলে যেতে পারবেন?