ইজিপ্টে বিদ্রোহী “মুসলমান ভাইদের” থেকে ইতিমধ্যেই তাদের এক প্রধান স্পনসর নিজেদের সরিয়ে ফেলেছে – এটা কাতার রাষ্ট্র. এই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী, খালেদ আল-আত্তীয়া, ঘোষণা করেছেন যে, ইজিপ্টে এর আগে পাঠানো সমস্ত অর্থ সাহায্যই ছিল শুধুমাত্র সেই দেশের প্রশাসনকে সহায়তার জন্য, “মুসলমান ভাইদের” আন্দোলনের জন্য নয়.

আসন্ন সময়ে ইজিপ্টে “ভাইয়েরা” আবার একেবারেই বেআইনি বলে ঘোষিত হতে পারে. পিরামিডের দেশের প্রশাসন এখন সেই দলকে সম্পূর্ণ ভাবেই বেআইনি ঘোষণার প্রশ্ন নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন অন্তর্বর্তী কালীণ প্রশাসনের প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল-বাবলাউই. তিনি বলেছেন,- “তাদের সঙ্গে কোন সমঝোতায় আসা সম্ভব নয়, যাদের হাতে রক্তের দাগ রয়েছে”.

নিজেদের শেষ শক্তি প্রয়োগের কাজ দিয়ে “ভাইয়েরা” ২০১১ সালের “আরব বসন্তের” চিত্রনাট্য অনুযায়ীই আবার করে সব করতে চেয়েছিল. কিন্তু বর্তমানের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এটা সম্ভব নয়. তার ওপরে আবার আরব বিশ্বে পরিস্থিতিও অনেকখানি বদল হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার “হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের” বিশ্লেষক লিওনিদ ইসায়েভ বলেছেন:

“ইজিপ্টের সামরিক বাহিনী স্রেফ সমঝোতা করতে যেতে পারে না. তারা আর পুরনো সংবিধান মেনে নেওয়ার বিষয়ে সহমত হতে পারে না আর প্রাক্তন ঐস্লামিক রাষ্ট্রপতি মুর্সিকেও মেনে নিতে পারে না. ইজিপ্টের সামরিক বাহিনীর আর পিছিয়ে যাওয়ার কোনও পথ নেই”.

“ইজিপ্ট কারও সামনেই নতজানু হবে না আর কোন রকমের নির্দেশ বা ভয় দেখানোতে মাথা ঝোঁকাবে না” – ঘোষণা করেছেন দেশে জনপ্রিয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আবদেল ফাত্তাহা আল –সিসি. সরকার হুকুম দিয়েছে প্রতিবারের প্রার্থনার পরেই দেশের সমস্ত মসজিদকে খালি করে দিতে হবে ও তা বন্ধ রাখতে হবে. এটা এই জন্য করা হয়েছে যে, যাতে কায়রোর রামসেস স্কোয়ারের আল-ফাত্হ মসজিদের ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, যেখানে প্রায় চব্বিশ ঘন্টা ধরে বহু শত ঐস্লামিক লুকিয়ে থাকার জায়গা করে নিয়েছিল.

গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এই প্রথম ১৯শে আগষ্টের রাত কায়রো শহরে শান্তিতেই কেটেছে. শুক্রবার (১৬ই আগষ্ট) থেকে রাজধানীতে নিহত হয়েছেন ১৭০ জন মানুষ. কিন্তু কিছু বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন যে, “মুসলমান ভাইয়েরা” প্রশাসনের বিরোধীতা করা বন্ধ করবে না আর এবারে তারা “শহরে সন্ত্রাসের” কৌশল নেবে.

এই ধরনের মত “রেডিও রাশিয়াকে” এক সাক্ষাত্কারে মধ্য এশিয়া ও নিকটপ্রাচ্যের সমস্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞ সিমিওন বগদানভ বলেছেন:

“ইজিপ্টে গৃহযুদ্ধ সিরিয়ার মত কোনও যুদ্ধ হবে না, তা চলতে থাকবে সারা দেশ জুড়ে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম দিয়ে ও সামরিক ঘাঁটি, প্রশাসনিক ভবন আর পুলিশের থানাগুলো আক্রমণ করা দিয়ে”.

আপাততঃ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী জেনারেল আল-সিসি, যিনি “লৌহমুষ্টি” দিয়ে ঐস্লামিকদের ১৬-১৮ আগষ্টের রাস্তার বিদ্রোহ পদানত করেছেন, তিনিই থেকে যাচ্ছেন জনগনের প্রিয়পাত্র হয়ে. তার ছবি শুধু কায়রোতেই নয়, দেশের অন্যান্য শহরের রাস্তাতেও টাঙানো রয়েছে.