মস্কোর প্রতিযোগিতায় কোন বিশ্ব রেকর্ড হয় নি. কিন্তু এই সিজনের সেরা ফলাফল, জাতীয় রেকর্ড, ব্যক্তিগত ভাবে সবচেয়ে ভাল ফলের সংখ্যা ছিল অফুরন্ত. আর তা শুধু ফাইনালগুলোতেই নয়, বরং কোয়ালিফাইং রাউণ্ডেও.

এই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপের একজন বীর হয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত মানুষ হুসেইন বোল্ট. তিনি ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে সোনা পেয়েছেন, আর তার সঙ্গে ৪ x ১০০ মিটার রিলে রেসেও. একশ মিটার দৌড়ের ফাইনালে তিনি সত্যিকারের একটা শো তৈরী করে দিয়েছিলেন: দৌড়ের শুরুতে একটু আস্তে হয়ে প্রথমে সকলকে এগিয়ে যেতে দিয়ে, তিনি এই দৌড়ের মাঝামাঝি সময়েই একেবারে সকলকে পার হয়ে গিয়ে সোনার মেডেল জিতে নিয়েছেন. আর একবার দৌড়ের পরে রাশিয়ার এক মেয়ে এই দৌড়বীরের উপরে একেবারে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সে এই স্প্রিন্টারের হাত ধরে তার কপালে চুমু দিয়েছিল.

লুঝনিকি স্টেডিয়ামের বড় খেলার মাঠে সবচেয়ে বেশী সংখ্যায় লোক এসেছিলেন এক কাজের দিনেই, যখন এলেনা ইসিনবায়েভা প্রতিযোগিতা করেছিলেন. হঠাত্ করেই তাঁর সিল্যুয়েট এই চতুর্দশ ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড চ্যাম্পিয়নশীপের আনুষ্ঠানিক ব্যানারে লাগানো হয় নি. পোল ভল্টে দুবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ও ২৮ বারের বিশ্ব রেকর্ডের মালিক মস্কো চ্যাম্পিয়নশীপের পরে একটা বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি এবারের বিজয়কে নিজের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে মন্তব্য করেছেন:

“এথেন্স থেকে বেজিং পর্যন্ত এই খেলার পুরো পথটাই আমার জন্য ততটা কঠিন ছিল না. আমি সমস্ত প্রতিযোগিতাই জিতেছিলাম. আমি বিশ্ব রেকর্ড করেছিলাম. আমি জানতাম না হেরে যাওয়া কি. আজ সোনার মেডেল জেতার পরে আমি বলবো এটাই আমার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে মূল্যবান মেডেল. কারণ বেজিংয়ের পরে আর মস্কো চ্যাম্পিয়নশীপের আগে আমার এত সমস্যা হয়েছিল এত বার হারতে হয়েছিল, এতবার চোট ও আঘাত হয়েছিল... আমার নিজের শক্তির উপরে সম্পূর্ণ আস্থা ছিল না. আমি আজ দারুণ খুশী যে, আমি আমার ট্রেনার ইভগেনি ভাসিলিয়েভিচের (ত্রফিমভ) সঙ্গে সকলকে দেখিয়ে দিতে পেরেছি যে, ইসিনবায়েভার যুগ আবার ফিরে এসেছে, আর তা মোটেও শেষ হয়ে যায় নি”.

আয়োজকরা সন্দেহ করেছিলেন যে, মস্কোর লোকরা বড় খেলাধূলা দেখে এতই বেশী রকমের আয়েসী যে, এবারে চ্যাম্পিয়নশীপের সময়ে স্টেডিয়ামের সীটগুলো অর্ধেক খালিই থেকে যাবে. কিন্তু তাদের আশঙ্কা সত্যি হয় নি আর দর্শকদের কোন খামতিও ছিল না.

সেই সমস্ত সন্দেহবাতিক লোকদের পূর্বাভাসও সত্য হয় নি, যারা কাজান শহরের ইউনিভার্সিয়াডে রাশিয়ার খেলোয়াড়দের সফল হওয়ার পরে বলেছিলেন যে, এবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে ও ওয়াটার স্পোর্টসে জাতীয় দলের ফল খুব খারাপ হতে চলেছে. এটা কিন্তু হয় নি. বৈদ্যুতিন তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা অনুযায়ী আটটি সন্ধ্যা বেলার সেশনের পরে স্টেডিয়ামে এসেছিলেন ২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৫০০ মানুষ, আর সাংবাদিক ও সরকারি প্রতিনিধি দল সমেত – প্রায় চার লক্ষ মানুষ. তুলনা করার জন্য, দক্ষিণ কোরিয়ার টেগু শহরে গত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে সন্ধ্যা বেলার অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিলেন প্রায় ২ লক্ষ ৬২ হাজার মানুষ.