ক্রেমলিনে বহুকাল ধরেই শিকারী পাখিদের আস্তানা. শুধু আস্তানা নয়, সেখানে তারা রীতিমতো সুফলদায়ী কাজ করে. ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে জাতীয় সংরক্ষণ দপ্তরের আধিকারিকের মুখ্য-উপদেষ্টা সের্গেই দেভিয়াতভ বলছেন, যে শিকারী পাখিগুলি, আর ইদানীং প্যাঁচারাও ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধগুলি সংরক্ষণ করে. –

মস্কোর ক্রেমলিনে বহুকাল ধরেই পক্ষিতত্ত্ব বিভাগ জিইয়ে রয়েছে. সেটা অবস্থিত বরভিত্স্কি টিলার পাদদেশে, মস্কভা নদীর তীরে. গত শতাব্দীর সত্তরের দশক থেকে সেখানে শিকারী বাজপাখিদের ঘরসংসার. শুধুমাত্র এভাবেই ক্রেমলিন ও তার আশেপাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধের সমাহার রক্ষা করা সম্ভব.

কাকেরা সব গীর্জার চূড়া থেকে সোনার পাত ঠুকরে খেয়ে সমূহ ক্ষতি করে. তাই প্রত্যেক সন্ধ্যায় পক্ষিতত্ত্ববিদরা তাদের ডানাওয়ালা সহকারীদের নিয়ে গোটা ক্রেমলিনের অন্তর্ভুক্ত এলাকায় চক্কর দেয়. সুফল পাওয়া যায় হাতেনাতে. অন্ততপক্ষে আজ আর কাকেরা মস্কোর কেন্দ্রস্থলে রাত্রিযাপন করে না.

এখন মস্কোর পক্ষিতত্ত্ববিদেরা মহানগরীর স্বাভাবিক পরিবেশে শিকারী খেচরদের বংশবৃদ্ধি করাচ্ছেন সাফল্যের সঙ্গে. সাপসান বাজপাখিরা এই পরিবেশে চমত্কার মানিয়ে নেয়. প্রাচীনকালেও ওরা শহরের পরিবেশে মানিয়ে নিয়ে থাকতে অভ্যস্ত ছিল, আর এখন মহানগরীর পরিবেশেও চমত্কার খাপ খাইয়ে নিয়েছে – বলছেন রুশী বাজপাখি কেন্দ্রের অভিজ্ঞ বিজ্ঞানকর্মী আলেক্সান্দর বরদিন. –

ক্রেমলিন – সাপসানদের ছাড়ার জন্য মোক্ষম জায়গা. সাক্ষ্যপ্রমাণ আছে, যে অতীতে তারা ক্রেমলিনে, বিশেষতঃ ইভান দ্য গ্রেটের নামাঙ্কিত ঘন্টাবুরুজে বাসা বাঁধতো. অজস্র ফাঁকফোকর সহ ওখানকার স্থাপত্য পাহাড়ী এলাকার দৃশ্যপটের মতো, মানে এমন জায়গা, যেখানে আজও সাপসানরা বাসা বাঁধতে পারে.

গত বছর ক্রেমলিনে নিয়ে আসা হয় প্রথম পক্ষীশাবকদের, যাদের বয়স এক মাসের বেশি নয়. দুই সপ্তাহ তাদের ধরে রাখা হয়েছিল একটি বুরুজে বিশেষভাবে নির্মিত বদ্ধ ঘরে. তাদের খাওয়ানো হতো এমনভাবে, যাতে তারা মানুষের হাত থেকে খাবার পেতে অভ্যস্ত না হয়. তারপরে বদ্ধ ঘরের দেওয়াল খুলে দেওয়া হয়. পক্ষীশাবকদের কয়েকদিন লেগেছিল উন্মুক্ত প্রান্তরে বেরোনোর সাহস করতে. কিন্তু শীঘ্রই তারা ডানা মেললো. ৬টি সাপসান বাজপাখির মধ্যে ২টি উড়ে চলে যায় মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুউচ্চ অট্টালিকার চূড়ায়, বাকিগুলো ক্রেমলিনেই ফিরে এসে বাসা বেঁধেছে.

তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যে নিরীক্ষাটি সফল হয়েছে. তাই এবছরে আরও পাঁচটি বাজপাখির শাবক আনা হয়েছে ক্রেমলিনে. গবেষকরা এই ব্যাপারে আশাবাদী, যে শীঘ্রই মস্কো ও সারা রাশিয়ায় সাপসান বাজপাখিদের জনসংখ্যা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে.