আধুনিক রাশিয়ার ইতিহাসে আলেক্সান্দর পাক্রীশকিনের প্রতি উত্সর্গ করা এই উড়ান কাকতালীয় নয়. জগদ্বিখ্যাত ধুরন্ধর সোভিয়েত বৈমানিকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অনর্গল মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে উড়ানের সুখ্যাতি লোকগাথায় পরিণত হয়েছে. রাশিয়ার ‘দোসাআফ’-এর উপ-অধিকর্তা ভিক্তর চের্নোভ বলছেন, যে পাক্রীশকিনের আকাশের প্রতি নিগূঢ় আকর্ষণ শুরু হয়েছিল তার শৈশবে, যখন তিনি প্রথমবার প্রত্যক্ষ করেছিলেন তথাকথিত প্রচারধর্মী উড়ান. –

আজ আমরা যে উড়ানের আয়োজন করছি, তার রুট যাবে সেইসব জায়গা দিয়ে যেখানে আলেক্সান্দর পাক্রীশকিন তার শৈশব অতিবাহিত করেছিলেন, যেখানে তিনি পাইলটে পরিণত হয়েছিলেন, যেখানে কেটেছে তার যুদ্ধকালীন সর্বাপেক্ষা স্মরণীয় প্রাত্যহিকতা. আমরা আশা রাখছি, যে বিভিন্ন অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের সংগঠণকে, আর বিশেষতঃ যুব সম্প্রদায়কে এই ঘটনা উদ্বুদ্ধ করবে. আমাদের আশা এই, যে হাজার হাজার যুবক ও যুবতীকে এই উড়ান উদ্বুদ্ধ করবে বৈমানিক হওয়ার জন্য, তারা আলোড়িত হয়ে আসবে বিমানচালনা শিখতে.

‘দোসাআফ’ এই উড়ানে যাত্রা করবে ‘এল-৪১০’ মডেলের একটি বিমানে. তার গায়ে আঁকা হয়েছে আলেক্সান্দর পাক্রীশকিনের প্রতিমূর্তি এবং তার দ্বারা চালিত যুদ্ধবিমান ‘এ্যারোস্নেক’-এর প্রতিচ্ছবি. প্রথম উড়ান যাবে পের্ম হয়ে, যেখানে তার হাতেখড়ি হয়েছিল পাইলটিংয়ের ও কুবানের রাজধানী ক্রাসনাদার হয়ে, যেখানে তিনি পেশাদারী দক্ষতা অর্জন করেছিলেন ও তার অভাবনীয় প্রতিভার উন্মোচণ হয়েছিল. এই উড়ানের সময় আয়োজন করা হবে আসমানী উত্সবের, যেখানে দর্শকরা দেখতে পাবেন সেই সব যুদ্ধবিমান, যেগুলিতে চড়ে আকাশে উড়তেন আলেক্সান্দর পাক্রীশকিন. ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাতকারে এই উড়ানের চীফ-পাইলট আলেক্সান্দর তিমাশেঙ্কো বলছেন, যে সেইসাথেই রাশিয়ার বিশাল পতাকা নিয়ে রেকর্ডজনক উচ্চতা থেকে প্যারাশ্যুটাররাও ভূমিতে অবতরণ করবেন. –

পতাকাটির দৈর্ঘ্য ৩০ মিটার, প্রস্থ ২০ মিটার. এত বড় মাপের পতাকা নিয়ে বিশ্বে এর আগে কেউ আকাশ থেকে ঝাঁপ দেয়নি. এর জন্য প্রয়োজন অত্যন্ত জটিল পেশাদারী মুন্সীয়ানা. এরকম মাপের পতাকা নিয়ে ঝাঁপ দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু আবহাওয়া জনিত সীমাবদ্ধতাও আছে – বলছেন তিনি.

এই উড়ান চলবে চারদিন ধরে এবং তা সম্পন্ন হবে মস্কোর শহরতলীতে ঝুকোভস্কিতে বিশ্ববন্দিত বার্ষিক এয়ারশো ‘ম্যাক্স-২০১৩’-তে. ভিক্তর চের্নোভের কথায় এটা অনুষ্ঠিত হবে এমন একটা দিনে, যে দিনটিকে ‘শো’য়ের সংগঠকরা উত্সর্গ করবেন আলেক্সান্দর পাক্রীশকিনের প্রতি.