মুসলিম ব্রাদারহুডের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন রক্তাক্ত সহিংসতায় রুপ নেয় শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে ব্রাদারহুডের সমর্থকরা ক্ষোভ দিবস নামের বিক্ষোভ করার চেষ্টা করে মিশরজুড়ে বিভিন্ন শহরে কয়েক হাজার মুরসি সমর্থকরা রাজপথে আন্দোলনে অংশ নেয় সশস্ত্র আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক ভবন ও পুলিশের দপ্তরে হামলার চেষ্টা চালায় মিশরজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি থাকায় বিদ্রোহীদের ওপর গুলি করার অনুমতি দেয় অন্তর্বর্তীকালিন সরকার যার ফলশ্রুতিত গত কয়েকদিনে উভয় পক্ষের বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে

হোসনে মোবারককে যেভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে ঠিক তারই অনুকূলে মুসলিম ব্রাদারহুড চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মন্তব্য করেছেন রুশ পর্যবেক্ষক লেওনিদ ইসায়েভ রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন,"মুসলিম ব্রাদারহুড আরব বসন্তের চিত্রপটের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাচ্ছে যা ২০১১ সালে তিউনেসিয়া ও মিশরে ঘটেছিল বিক্ষোভ কর্মসূচি একই নামে ডাকা হচ্ছে যেমন ক্ষোভ দিবস মুরসির সমর্থকরা তাহরির স্কোয়ার দখল করার চেষ্টা করছে কিন্তু তাদের সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না পিছনের দিকে তাকালে চিত্রপটের যথেষ্ট মিল পাওয়া যায় কিন্তু কৌশলগত এর কোন যুক্তি নেই বাড়তি সুযোগ হিসেবে ব্রাদারহুড শুক্রবার জুম্মার নামাজে লোকসমাগম করার চেষ্টা করছে তাই সামগ্রিক দিক দিয়ে ২০১১ সালের চিত্রপটের সাথে যথেষ্ট মিল রয়েছে তারপরও আমার দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে আরব বসন্তের সময়কাল ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।"

 মিশরের বর্তমান থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এক অর্থে গৃহযুদ্ধ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে আগামী কয়েকদিনের ঘটনায় জানা যাবে বিক্ষোভকারীরা কোন পথে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করবে এমনি মনে করছেন আরেক রুশ বিশ্লেষক সেমিওন বাগদাসারোভ তিনি বলেছেন, "মুসলিম ব্রাদারহুড সরকারে সাথে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি এই সংগঠনে এমন মনোভাব নেই তাই পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে অগ্রসর হবে এবং হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়বে এখন যদি সেনাবাহিনী নিজেদের দায়িত্ব পালন করে এবং সাময়িকভাবে হলেও পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসে তাহলে মিশরে গৃহযুদ্ধ সিরিয়ার মতো হবে না তখন জঙ্গী হামলা বেড়ে যাবে সরকারি ভবন, পুলিশ ও সেনা দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলা করা হবেতবে এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষই নিজেদের সংযত রাখার চেষ্টা করছে।"

শুক্রবার বিকেলে কায়রোর রামসিস স্কয়ারের মসজিদের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। বিক্ষোভকারীদের এই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার আহবান করলেই তা প্রত্যাখন করা হয় ভোর পর্যন্ত সেখানে সেনাবাহিনীর ভারী সাঁজোয়া যান ও বিপুল সৈন্য মোতায়েন করা হয় তবে এখানে ব্রাদারহুডের সাথে সমঝোতায় পৌঁছায় সেনাবাহিনী তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বোঝাপড়ার সুযোগ এখনো রয়েছে

এদিকে মিশরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছেএতে মিশরের সংকটে জড়ানো প্রতিটি পক্ষকে সংঘাতের পথ পরিহার করার আহবান জানানো হয়