এখন অবধি রাশিয়ার লোকরা পিরামিড স্কীম থেকে সুরক্ষিত ছিলেন না. রুশ প্রজাতন্ত্রের ফৌজদারী আইনের মধ্যে বড় মাপের অর্থের জন্য লোক ঠকানো বা তার চেষ্টার জন্য ধারা কাজ করতে শুরু করত, যখন পিরামিড ভেঙে যেত আর যারা তাতে অর্থ বিনিয়োগ করেছিল, তারা খালি হাতেই থেকে যেত, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার আইন পরিষেবা দপ্তরের আইনবিদ কনস্তানতিন গুসভ বলেছেন:

“রাশিয়ার ফৌজদারী আইনে সত্যিকারের ঠকে যাওয়া লোক না থাকলে বদমায়েশী বুদ্ধির জন্য শাস্তি দেওয়া সম্ভব নয়. আপাততঃ, যতক্ষণ না একজন ঠকে যাওয়া লোক অভিযোগ করছে যে, সে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, ততদিন আইন রক্ষী বাহিনী শুধু পিরামিডগুলোকে অনুসরণই করতে পারে. অর্থাত্ সকলেই বোঝে যে, আগে হোক আর পরেই হোক এই সব পিরামিড ভেঙে পড়বেই, কিন্তু বাধ্য হয়, সেই ভেঙে পড়ার অপেক্ষা করতে”.

যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য ঠগীকে জেলে দেখতে পাওয়াটা খুবই কম সান্তনা দায়ক হয়ে থাকে, কারণ নিজেদের অর্থ ফেরত পাওয়া খুব কম লোকেরই সম্ভব হয়েছে. এখন প্রস্তাব করা হয়েছে আইন ব্যবস্থায় এই ভাবে পরিবর্তন করার, যাতে ঠগদের চক্র ও তার আয়োজকদের একেবারেই পিরামিড তৈরী শুরুর অবস্থায় ধরে শাস্তি দেওয়া. তদন্তের জন্য যথেষ্ট হবে যদি: কোন সংগঠন নাগরিকদের ব্যক্তিগত অর্থ জমা করার জন্য আহ্বান শুরু করে ও তাদের আয় নতুন ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে দেওয়ানোর ব্যবস্থা করে, যদি এই আয় ব্যাঙ্কের সুদের হারের চেয়ে অনেক বেশী হারে হয়, আর যদি এই ক্ষেত্রে এই গোষ্ঠী কোন রকমের বিনিয়োগ না করে ও কোন রকমের ব্যবসাও না করে. পিরামিড আয়োজকদের ও তাদের সক্রিয় প্রচারকদের দায়িত্ব তারা যে পরিমান অর্থ যোগাড় করতে পেরেছে, তার উপরেই নির্ভর করবে: পনেরো লক্ষ রুবল অবধি (প্রায় পঞ্চাশ হাজার ডলার) – প্রশাসনিক ভাবে, অর্থাত্ জরিমানা, এর বেশী হলেই ফৌজদারী অপরাধ – সাত বছর অবধি জেল.

এই আইনের খসড়া ইতিমধ্যেই বেশীর ভাগ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সহমতে করা হয়েছে – যেমন প্রধান অভিশংসক দপ্তর, স্বরাষ্ট্র দপ্তর, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষেবা, রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক, অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ইত্যাদি. এই ধরনের আইন রাশিয়ার জন্য প্রয়োজন, এই রকম একটা বিশ্বাস নিয়ে স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ইগর নিকোলায়েভ বলেছেন:

“খুবই ঠিক হয়, যদি আমাদের এই ধরনের একটা আইন তৈরী হয় আর তা ব্যবহার করার অভ্যাসও তৈরী হয় তাহলে. তার ফলে রাশিয়াতে একেবারে পাইকারী ভাবে পিরামিড স্কীম তৈরী করার ক্ষেত্রে প্রচুর অপরাধকে বন্ধ করা যাবে. এটা একটা আশার সঞ্চার করেছে যে, সেই বেআইনি কারবার, যা গত শতকের নব্বইয়ের দশকে ছিল, তা আর হবে না”.

১৯৯০ এর দশকে রাশিয়াতে পিরামিড স্কীম তৈরী করার কারবার হয়েছিল একেবারে প্রচুর ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে. সবচেয়ে বড় হয়ে আলাদা করে হয়েছিল সের্গেই মাভরোদির তৈরী করা এমএমএম. তখন তার জালে ফেঁসেছিল এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ রুশ নাগরিক. সাড়ে চার বছর জেলে ঠগ কারবারের জন্য বন্দী থাকার পরে বেরিয়ে মাভরোদি আবার তার নিজের চেনা ব্যবসায়ে ফিরেছে. তার তৈরী এমএমএম-২০১১ ওয়েবমানি নামের বৈদ্যুতিন পে সিস্টেম ব্যবহার করে কাজ করেছিল. এই কোম্পানী স্রষ্টা মোটেও লুকোয় নি যে, এটা পিরামিড স্কীম, যদিও সে এটাকে বিশ্বজোড়া পারস্পরিক সহায়তার পে সিস্টেম বলা বেশী করে পছন্দ করেছে. বছরে সুদের হার বলা হয়েছিল শতকরা ৩৬০ শতাংশ. যখন টের পেয়েছিল যে, এটা ধ্বংস হতে চলছে, মাভরোদি এমএমএম- ২০১১ বন্ধ করে তত্ক্ষণাত চালু করেছিল এমএমএম- ২০১২, আর সেটায় আবার বছরে ৪৮০ শতাংশ সুদ ঘোষণা করেছিল. নতুন আইন কাজ শুরু না করা পর্যন্ত এটা অনন্তকাল ধরেই চলতে পারে.

তার ওপরে আবার মাভরোদি নিজের ব্যবসার প্রসার বাড়িয়েছিল. প্রথমে সে প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের এলাকাতেই ফোঁকটে বড়লোক হওয়া পছন্দ করা লোক খুঁজে বের করেছিল, সেই লাতভিয়া, ইউক্রেন, বেলোরাশিয়াতে, আর তারপরে ছিপ ফেলেছিল ভারতে. ৫০০০ টাকা এই এমএমএম ইন্ডিয়া (মাভরোদি মন্ডিয়াল মানিবক্স, ভারত) কোম্পানীকে দিলে, তারা আশ্বাস দিয়েছিল মাসে শতকরা তিরিশ ভাগ হারে সুদ দেওয়ার. মে মাসে ভারতের এই কোম্পানীর লোকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিন্তু তার মধ্যেই লোকের ক্ষতি হয়েছিল ১৫ কোটি টাকার বেশী (২৬ লক্ষ ডলারের বেশী). এমএমএম নিয়ে ভারতে তদন্ত চলছে. আর মাভরোদি এবারে নতুন ছক খসছে – এবারে চিনকে নিয়ে.