ইজিপ্ট জুড়ে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ার পরে সরকার দেশে জরুরী অবস্থা জারী করেছে. আর কিছু জায়গায় কার্ফ্যু জারী করা হয়েছে. জরুরী অবস্থা হওয়াতে সামরিক বাহিনী পুলিশের সঙ্গে একসাথে কট্টরপন্থী মানসিকতার ঐস্লামিক লোকদের সঙ্গে লড়াইয়ের বিশেষ অপারেশনে যোগ দিতে পারছে. আর আলেকজান্দ্রিয়াতে জাতীয় যাদুঘর ভাঙতে ও লুঠ করতে ঢোকার চেষ্টার পরে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দেশের সমস্ত যাদুঘর ও প্রত্নতাত্ত্বিক খননের জায়গা বন্ধ করার.

সেন্ট পিটার্সবার্গের আধুনিক নিকটপ্রাচ্য নিয়ে গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান গুমের ইসায়েভ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে বলেছেন:

“আমরা জানি যে, ইজিপ্ট প্রাচীন বিশ্ব নিয়ে অনুসন্ধানের একটি কেন্দ্রীয় এলাকা. আর যদিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনের উপযুক্ত জিনিষ গুলি রয়েছে ইজিপ্টের বাইরে – যেমন গ্রেট ব্রিটেনে বা জার্মানীতে, - তবুও কোন সন্দেহ নেই যে, ইজিপ্টের পুরাতত্ত্বের সংগ্রহকেই বিশ্বের একটি সবচেয়ে সমৃদ্ধ সংগ্রহ বলে মনে করা হয়. আর এটা যেমন আগেও নিকটপ্রাচ্যে হয়েছে সমস্ত গুরুতর ওলটপালটের সময়েই যাদুঘরগুলো লুঠ হয়েছে. এটা হয়েছে ইরাকে, যখন হুসেইনের প্রশাসনের পতনের পরে যাদুঘরগুলো লুঠ হয়েছে. আর সমস্যা এমনকি এটা নয় যে, এই কাজ বাটপাড় লোকরা করেছে, বরং সেই ব্যাপারেই যে, সেখানে পেশাদার ডাকাতরা কাজ করছে, যারা মূল্যবান জিনিষ চুরি করে সেগুলোকে বেচাকেনা করে. আর নিকটপ্রাচ্যে এই ব্যবসা খুবই উন্নত”.

এখানে যোগ করা দরকার যে, ২০১১ সালের মতই এই সব গোলমালের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছিল আবার সেই আলেকজান্দ্রিয়াতে থাকা গ্রন্থাগার. বেশ কয়েকশো মুসলমান ভাইদের সমর্থক চেষ্টা করেছিল এটাকে ভেঙে ঢুকে পড়তে, কিন্তু তাদের পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনতার শক্তি দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে.

মুর্সির সমর্থকদের সঙ্গে নতুন প্রশাসনের মধ্যে বিরোধের এক অনিচ্ছুক অংশীদার হয়েছে ইজিপ্টের খ্রীষ্টানরাও. তাদের গির্জা ঐস্লামিকদের তরফ থেকে আক্রমণের লক্ষ্য হয়েছে. যখন গণ্ডগোল কায়রো থেকে অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল, তখন কম করে হলেও সাতটি খ্রীষ্টান গির্জায় মলোতভ ককটেল ছুঁড়ে আগুন লাগানো হয়েছে.

ইজিপ্টে ঘটা ঘটনা অন্যান্য দেশের প্রশাসনকেও নিজেদের নাগরিকদের নিয়ে চিন্তা করতে বাধ্য করেছে, যারা এই দেশে রয়েছেন. যেমন, বেশ কয়েকটি পশ্চিমের দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরও নিজেদের দেশের নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে ইজিপ্ট ভ্রমণ থেকে বিরত হতে. আর তারা, যারা সেখানে ইতিমধ্যেই রয়েছেন, পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে আহ্বান করা হয়েছে নিজেদের চলাফেরা নিয়ে সংযত হতে আর যতদিন দরকার, তার থেকে বেশী এই দেশে নিজেদের উপস্থিতি না বৃদ্ধি করার.

ইজিপ্টের জন্য এই ধরনের পর্যটনের প্রবাহ কমে যাওয়া খুবই দুঃখজনক পরিণতি নিয়ে আসতে পারে বলে গুমের ইসায়েভ মন্তব্য করেছেন:

“ইজিপ্টের অর্থনীতি তিনটি মূল ভিত্তির উপরে দাঁড়িয়েছিল. এটা, প্রাথমিক ভাবে, পর্যটন, তারপরে সুয়েজ চ্যানেলে জাহাজ চলাচল থেকে আয় ও তৃতীয়তঃ, সেই অর্থ, যা দেশের বাইরে (প্রধানতঃ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে)কাজ করে দেশের নাগরিকরা দেশে পাঠাতেন. ইজিপ্টের পর্যটন – এটা শুধু হোটেল ও পরিকাঠামোই নয়, তার সঙ্গে বহু সহস্র ও লক্ষ মানুষের জীবনও, যারা এই ক্ষেত্রের সঙ্গে সরাসরি ভাবে যুক্ত. এটা, অবশ্যই ইজিপ্টের অর্থনীতির এক মুখ্য বিষয়”.

ইজিপ্টের পরিস্থিতি একেবারে চরমে পৌঁছে গিয়েছে, যখন বুধবারে দেশের পুলিশ কায়রো শহরে মুসলমান ভাইদের দুটি চকে তৈরী বিক্ষোভ শিবির ভেঙে দিয়েছে, তারপরে. প্রত্যক্ষদর্শীদের খবর অনুযায়ী দুই পক্ষ থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে. এর পরেই বিশৃঙ্খলা অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে. ফলে, সরকারি তথ্য অনুযায়ী পাঁচশোরও বেশী লোক নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েক ডজন পুলিশের লোকও রয়েছে.