রাশিয়াতে তৈরী “ভারশাভিয়ানকা” প্রকল্পের ডিজেল-বিদ্যুত চালিত ডুবোজাহাজ (ন্যাটো জোটের শ্রেনী বিভাগ অনুযায়ী “কিলো”), যার একটি এই “সিন্ধুরক্ষক” ডুবোজাহাজ, নিজের কাজ করার সময়ে সারা বিশ্বের সমস্ত সাগরেই খুব ভাল জাহাজ বলেই স্বীকৃত হয়েছে. তাই এই জাহাজের যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত বিষয়ে কোন রকমের অভিযোগ করা যেতেই পারে না. তার ওপরে এই ট্র্যাজেডির সময়ে সেটা সমুদ্র যাত্রার জন্যই তৈরী হচ্ছিল, সুতরাং সম্পূর্ণ ভাবেই ঠিক ছিল.

তাছাড়া, তারপরে এক বছরেরও কম সময় গিয়েছে, যখন ভারতের ডুবোজাহাজ রাশিয়াতে সম্পূর্ণ ধরনের পরিকল্পনা অনুযায়ী মেরামত করানো হয়েছিল, এই কথা উল্লেখ করে “জাতীয় প্রতিরক্ষা” জার্নালের প্রধান সম্পাদক ও রুশ প্রজাতন্ত্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সামাজিক সভার সদস্য ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

“এই প্রকল্পের ডুবোজাহাজগুলো খুবই বিরল রকমের ভরসাযোগ্য, আর তা আজ এক দশক ধরেই রাশিয়ার নৌবাহিনীতে ব্যবহার করা হচ্ছে না. তাছাড়া, এই ধরনের ডুবোজাহাজ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার এক গুচ্ছ দেশকেই সরবরাহ করা হয়েছে, যেখানে সেগুলো কোন রকমের দুর্ঘটনা ছাড়াই ব্যবহার করা হচ্ছে. তাই বলা যে, সমস্যা এই জাহাজের সঙ্গে জড়িত, আমার মনে হয়, ঠিক হবে না. তার ওপরে আধুনিকীকরণ করার পরে এই জাহাজ নিজেই চলে গিয়ে ভারতে পৌঁছেছে, যাতে কয়েক সহস্র সামুদ্রিক মাইল পার হতে হয়েছে. বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গিয়েছে যে, দুটো কারণ – দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভঙ্গ করা ও ব্যবহারের জন্য যে নিয়ম রয়েছে তা ভঙ্গ করা – এই গুলোই সাধারণতঃ এই ধরনের ট্র্যাজেডি ঘটার কারণ হয়ে থাকে”.

এই ধারণার সমর্থনেই মুম্বাই মিরর কাগজে বের হওয়া খবর দেখা গিয়েছে. ভারতীয় নৌবাহিনীর উত্স থেকে পাওয়া খবর হিসাবে উল্লেখ করে এই কাগজে লেখা হয়েছে যে, দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে রকেট লোড করার সময়ে শর্ট সার্কিট. বুধবার ভোর রাতে ডুবোজাহাজের কর্মীরা দুটি বিশেষ খোলে রাশিয়াতে তৈরী ক্লাব –এস রকেট লোড করছিল. এই রকমের একটা ধারণা রয়েছে যে, প্রথম খোলে আটটি রকেট সাফল্যের সঙ্গেই ভর্তি করা হয়েছিল, কিন্তু দ্বিতীয়টিতে নাবিকরা ভুল করেছিল আর ঠিক করে রকেট ভরে নি. যার ফলেই শর্ট সার্কিট হয়েছিল.

এরই মধ্যে “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ভারতীয় নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কমোডর (প্রথম শ্রেনীর ক্যাপ্টেন) পরমবীর সিংহ বাওয়া মন্তব্য করেছেন যে, এই দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে হাইড্রোজেনের বিস্ফোরণ, তিনি বলেছেন:

“আমি ১৯৮২ থেকে বম্বে শহরের ডুবোজাহাজ ঘাঁটির নেতৃত্বে ছিলাম আর ভাল করেই এই ধরনের ডুবোজাহাজগুলোকে জানি. ভারতের নেতৃত্ব কোন রকমের অন্তর্ঘাতের সম্ভাবনাকেই নাকচ করেছে. কিছু একটা জাহাজের ভেতরেই হয়েছে. আমার মনে হয়েছে যে, খুব সম্ভবতঃ, এই সমস্ত ঘটনার মূলে রয়েছে হাইড্রোজেনের বিস্ফোরণ. কারণ এখন স্থির করা হচ্ছে. আমাদের প্রজন্মের ডুবোজাহাজের কর্মীরা খুবই ভাল করে রাশিয়াতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল, তারপরে আমরাই আমাদের দেশের নাবিকদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি. তারাও সকলে খুব ভাল করেই প্রশিক্ষণ পেয়েছে. গত চল্লিশের বেশী বছর সময় ধরে আমাদের একটাও বড় মাপের দুর্ঘটনা হয় নি”.

জানা রয়েছে যে, এই ডুবোজাহাজের রিচার্জেবল ব্যাটারী কিছুটা সময় পরপর আবার করে চার্জ করার দরকার থাকে. তত্ত্বগত ভাবে এই সময়ে হাইড্রোজেন গ্যাস বের হতে পারে. আর সমস্যা আরও এই কারণে যে, রাশিয়ার জাহাজঘাটাতে শীত কালে এই জাহাজের আধুনিকীকরণের সময়ে ক্রেতার দাবী অনুযায়ী “সিন্ধুরক্ষক” জাহাজে রাশিয়ার ব্যাটারী বদলে ভারতীয় ব্যাটারী লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল. তাদের গুণমান নিয়ে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা কোন রকমের গ্যারান্টি দিতে তৈরী নয়. ভারতীয় নৌবাহিনী এই ঘটনা নিয়ে তদন্ত করছে. প্রয়োজনে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা তাঁদের সহায়তা দিতে তৈরী রয়েছেন.