মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের পশ্চিমের সহযোগী দেশ গুলি ভারতকে নিজেদের রাজনৈতিক গতিপথে জোড়ার জন্য সরাসরি চাপ দেওয়ার নীতি নেওয়া পরিহার করছে না. উদাহরণ স্বরূপ, ভারতকে ইরানের থেকে সবচেয়ে কম খনিজ তেল কিনতে বাধ্য করতে চেয়ে প্রথমে পশ্চিমের ব্যাঙ্ক গুলি এই ধরনের বেচাকেনা করার জন্য লেনদেনে অস্বীকার করেছে, তারপরে বীমা কোম্পানীগুলি ইরান থেকে তেল বয়ে নিয়ে যাওয়া ট্যাঙ্কার বীমা করতে অস্বীকার করেছে. যদিও ভারত চেষ্টা করেছে এড়িয়ে যাওয়ার রাস্তা বের করতে (অংশতঃ, ভারতীয় মুদ্রায় দাম দিতে ও নিজেরাই বীমা করতে), গত অর্থনৈতিক বছরে তাও ভারতকে শতকরা ২৬, ৫ ভাগ ইরানের খনিজ তেল আমদানী কমাতে হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“বর্তমানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভারতেই খুবই জরুরী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী করে. যারা ভারতে এই কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সেই ইরানের থেকে খনিজ তেল কেনা কমানোর ফলে একটি কারণ হিসাবে দেশে মূল্যবৃদ্ধির স্পাইরাল দ্রুত উপরে ওঠা ও একই সঙ্গে ভারতের মুদ্রার দাম আরও দ্রুত পড়ে যাওয়া শুরু হয়েছে. আর তাই সেই সিদ্ধান্ত, যা এই সপ্তাহের শুরুতে অর্থমন্ত্রী চিদাম্বরম ঘোষণা করেছেন, তা মোটেও আচমকা মনে হচ্ছে না”.

মন্ত্রীসভার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে পারস্পরিক হিসাব নিকাশ করা হবে ভারতীয় টাকাতেই, তার মানে হল যে, ইরান ভারতীয় উত্পাদিত দ্রব্য আরও বেশী করেই কিনতে বাধ্য হবে. এটা ভারতের জাতীয় মুদ্রাকেও জায়গা ফিরে পেতে সাহায্য করবে আর তার ফলে মূল্যবৃদ্ধি কমানো সম্ভব হবে. নিজেদের পক্ষ থেকে ইরান, যারা নিষেধাজ্ঞার ফলে প্রাথমিক প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র পাওয়ার বিষয়েই ঘাটতি দেখতে পাচ্ছে, তারাও একটা নির্দিষ্ট রকমের হাঁপ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ পাবে.

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বাস্তব মূল্য দুই পক্ষের কাছেই স্পষ্ট. ভারতের জন্য ইরান – এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও যাতায়াতের হিসাব রাখার অঙ্গ, যা আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়াতে পৌঁছনোর পথ খুলে দেয়. ইরানের জন্য ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা – একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ, যা পশ্চিমের নিষেধাজ্ঞার জন্য তাদের দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতি কমিয়ে দেয়.