এই সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ হয়েছে সমস্ত গোলমাল, যা বুধবারে নতুন শক্তিতে জ্বলে উঠেছে, সামরিক বাহিনীর সহায়তায় কায়রো শহরে পুলিশের অপারেশনের পরে. তাদের লক্ষ্য ছিল দুটি তাঁবু খাটানো এলাকাকে ভেঙে দেওয়া, যেখানে প্রাক্তন পদচ্যুত রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সির সমর্থক মুসলমান ভাইয়েরা ও অন্যান্য লোকরা শহরের চকগুলোতে করেছিল. প্রথম শিবির পুলিসের লোকরা দ্রুত গুটিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল. কিন্তু দ্বিতীয়টির ভেতরে থাকা লোকরা অনেকদিন ধরেই পুলিশের আক্রমণের অপেক্ষা করেছিল আর এই তাঁবু খাটানো এলাকার চারপাশ বালির বস্তা দিয়ে ঘিরে রেখেছিল. ফলে এই শিবির ধ্বংস করতে যাওয়াটা সত্যিকারের যুদ্ধেই পর্যবসিত হয়েছিল. বিরোধের দুই পক্ষ থেকেই প্রত্যক্ষদর্শীদের কথামতো স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে. আর তাই – অনেক সংখ্যায় মৃত ও আহত রয়েছে.

কিন্তু যে কোন ক্ষেত্রেই সরকারের শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত অনিবার্য ছিল, এই কথা “রেডিও রাশিয়াকে” ঘোষণা করেছেন ইজিপ্টের বিখ্যাত লেখক ও বিশ্লেষক এবং এক সময়ে “মুসলমান ভাইদের” দলের একজন নেতা সারভাত আল-হেরবাভি, তিনি বলেছেন:

“যদি “মুসলমান ভাইদের” দিকে দেখা হয়, তাদের কাঠামোর দিকে দেখা হয়, তাদের পশ্চিমের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগকে দেখা হয়, তবে খুবই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এই সংগঠন, একটা গোপন সামরিক বাহিনীর মতই, আর তারা যে কোন মুহূর্তে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত. এই ক্ষেত্রে এই যুদ্ধের সামনের সারি হয়েছে কায়রোর চকগুলো. তারা বাস্তবে সামরিক শিবিরে পরিণত হয়েছে, যাতে লোকে সময় ধরে পাহারা দিয়েছে – যখন একদল ঘুমিয়েছে, অন্যরা পাহারা দিয়েছে. সেখানে এমন সমস্ত স্লোগান দেওয়া হয়েছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিকদের জন্যই বেশী করে উপযুক্ত. লোকে স্পষ্টই কিছু একটার জন্য তৈরী হয়েছিল. এই পাগলামি নিজে থেকে শেষ হতে পারত না, তা আরও বেশী করেই ছড়িয়ে পড়তে পারত. তাই সরকারের অন্য কোন বাছাইও ছিল না, শক্তি প্রয়োগ করে এই জমায়েতকে হঠানো ছাড়া, যারা ইজিপ্টের সমাজকেই হিংসার দিকে ঠেলে দিচ্ছিল”.

ইজিপ্টের সরকার এক ঘোষণা করেছে, যাতে হিংসার জন্য অভিযোগ করা হয়েছে “মুসলমান ভাইদের”. মন্ত্রীসভা তাদের আহ্বান করেছে থামতে ও জনতাকে গোলমালে উস্কানি না দিতে. এই প্রসঙ্গে মন্ত্রীসভা দেশে হিংসার প্রসার ও মাত্স্যন্যায় করার সমস্ত প্রচেষ্টাকেই সমূলে কঠোর ভাবে মোকাবিলা করার আশ্বাস দিয়েছে, আর “ভাইদের” নেতৃত্ব থেকে নতুন করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে.

যদিও ইজিপ্টের গোলমাল ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে নানা রকমের তীব্রতা নিয়ে চলছে, বহু বিশেষজ্ঞই মনে করেন যে, এই উত্তেজনা ধীরে হলেও কমে যাবে. এর পক্ষে অন্যান্য কারণের মধ্যে পিরামিডের দেশের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতাই বলে দেয়, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের সাধারণ রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র লেকচারার লিওনিদ ইসায়েভ বলেছেন:

“যদি ইজিপ্টের ইতিহাসের দিকে দেখা হয়, তবে লক্ষ্য করা যেতে পারে যে, গৃহযুদ্ধ ইজিপ্টের জন্যই সম্পূর্ণ অর্থে খুবই কম সম্ভাব্য. ইজিপ্টে ১৯৫২ সালে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান হয়েছিল, ইংরেজ উপনিবেশবাদীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছিল. কিন্তু নিজে থেকেই সেই রকমের গৃহযুদ্ধ, যখন দেশের জনগন দুভাগ হয়ে গিয়ে একে অপরকে কাটতে শুরু করেছিল, তা কখনও হয় নি”.

তা সে যাই হোক না কেন, আপাততঃ ইজিপ্টে পরিস্থিতি উত্তেজকই হচ্ছে. কায়রো থেকে গোলমাল অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে, তার মধ্যে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেকজান্দ্রিয়াতেও.