অংশতঃ, ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি যেমন নির্দিষ্ট করে বলেছেন যে, সেই ধরনের প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে যেমন, রাশিয়ার সঙ্গেই সহযোগিতার মাধ্যমে বুশের পারমাণবিক কেন্দ্রের আরও কয়েকটি ব্লক দিয়ে ভবিষ্যত প্রসার করা ও ইরানে অন্য জায়গাতেও পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র তৈরী করা.

শান্তিপূর্ণ পরমাণুর বিষয়ে রুশ- ইরান সহযোগিতা প্রসারের সম্বন্ধে আলোচনা করে মন্তব্য করেছেন তেহরানের রাজনীতিবিদ হাসান হানিজাদে, তিনি বলেছেন:

“দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়ে উজ্জ্বল হয়ে থাকা বিগত সময়ের সফল অভিজ্ঞতা বিচার করলে, যা আমাদের রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে রয়েছে ও তারই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানী শক্তি ক্ষেত্রে খুবই প্রসারিত সহযোগিতার দিকে দেখলেই বোঝা যায় যে, রাশিয়ার অংশগ্রহণে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানে বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের কাজ খুবই সম্ভবতঃ দ্বিপাক্ষিক ভাবে রাষ্ট্রপতিদের সাক্ষাত্কারের সময়ে উপস্থিত করা হবে. যেমন জানানো হয়েছে যে, এই ধরনের সাক্ষাত্কারের বিষয়ে সমঝোতা করা হয়েছে. আমি কোন সন্দেহ করি না যে, দুই পক্ষই শান্তিপূর্ণ পরমাণু ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক ভাবে লাভজনক সহযোগিতা চালু রাখা নিয়ে সমঝোতা করবে. আমি মনে করি যে, এর পরে ইরানে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় নতুন পারমানবিক বিদ্যুতকেন্দ্র তৈরীর চুক্তি স্বাক্ষর আশা করা যেতে পারে. অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ও পশ্চিমের দেশ গুলি রাশিয়ার উপরে এই প্রশ্নে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে ও জোর দেবে যে, যাতে তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক শক্তি সংক্রান্ত সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে সংযত হয়. কিন্তু মিস্টার পুতিনের স্বাধীন অবস্থানের জন্য ও বিশেষ করে পররাষ্ট্র নীতির বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গীর জন্যই পশ্চিমের তরফ থেকে চাপ কোন লক্ষ্যণীয় প্রভাব ফেলতে পারবে না”.

নিজেদের পক্ষ থেকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা “রসঅ্যাটম”, যারা বুশের পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রে প্রথম রিয়্যাক্টর ব্লক তৈরী করে দিয়েছে, তারা ঘোষণা করেছে যে, বুশের পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে প্রথম ব্লক হস্তান্তর করার পরে নতুন ব্লক তৈরী করা নিয়ে আলোচনায় ফিরবে. “একই সঙ্গে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে কোন রকমের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে: এই ধরনের সহযোগিতা অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক হতে হবে ও তা রাশিয়ার আন্তর্জাতিক দায়ভারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরী করতে হবে”, - বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কর্পোরেশনে.

এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার সামাজিক-রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ বলেছেন:

“রাশিয়া ও ইরান সেই বিষয়ে আগ্রহী হতে পারে যে, বুশের পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের দুটি খালি জায়গায় নতুন শক্তি উত্পাদনের ব্লক তৈরী করা হতে পারে. খালি জায়গায় তৈরী করার ব্যাপারে আরও লক্ষ্য সাধন সম্ভব হতে পারে এই কারণে যে, রাশিয়া জার্মান যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিষয়ে কোন রকমের বাধ্যবাধকতার সামনে উপস্থিত হত না. ঠিক সেই জার্মান প্রযুক্তিকে রাশিয়ার প্রযুক্তির সাথে মেলাতে গিয়েই এই বিদ্যুতকেন্দ্র প্রথম এনার্জী ব্লক তৈরীর কাজ এত দিন ধরে হয়েছে, যা তৈরী করতে শুরু করেছিল জার্মান “সিমেন্স” কোম্পানী, আর শেষ করেছে “রসঅ্যাটম” সংস্থা. আমি মনে করি যে, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছর সময়ের মধ্যে রাশিয়া বুশের কেন্দ্রে আরও দুটি এক হাজার মেগাওয়াটের পারমাণবিক রিয়্যাক্টর তৈরী করতে পারে”.

এই ধরনের প্রকল্পের বাস্তবায়নের ফলে তা ইরানের অর্থনীতির জন্যই ভাল হতে পারে. সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রে প্রতি বছরের সাথেই বিদ্যুত শক্তির চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে শতকরা সাত থেকে দশ শতাংশ. এই দৃষ্টিকোণ থেকেই রাশিয়া ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের শক্তি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ভাবে সহযোগিতা করতে পারত.

আর রাশিয়ার অন্যান্য বিদেশী সহকর্মীদের সঙ্গে এর জন্য কি ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, যদি “বুশের” প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য রাশিয়া সহযোগিতা চালিয়ে যেতে থাকে? এই প্রসঙ্গে ইরানের রাজনৈতিক তথ্য পোর্টাল ইরানিয়ান পলিসি ডট কমের সমীক্ষক সাজ্জাদ তৈয়ারি মন্তব্য করে বলেছেন:

“আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, রাশিয়া সত্যই ঝুঁকি নিচ্ছে, যদি বুশের শহরের পারমাণবিক প্রকল্পের আরও বাস্তবায়ন করতে যাওয়া হয়. এটা সিরিয়া সঙ্কট নিয়ে তাদের পশ্চিমের সহকর্মীদের সঙ্গে পারস্পরিক ভাবে কাজ করাকে আরও কঠিন করে দেবে. তাছাড়া, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, “বুশের” পারমাণবিক প্রকল্পের প্রথম ব্লকই এখনও হস্তান্তর করা হয় নি, আর তার মানে হল যে, এই প্রকল্প নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে নেওয়া সমস্ত দায়িত্ব এখনও সম্পূর্ণ ভাবে পালন করা হয় নি. আবার একই সময়ে স্বীকার করা দরকার: যদি রাশিয়া “বুশের” কেন্দ্রে নতুন এনার্জী ব্লক তৈরী করে, তবে এটা রাশিয়া – ইরানের সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের শুরু করবে – তা মনে হয় অভূতপূর্ব ভাবে কাছের হবে, আর পারস্পরিক বিশ্বাসের মাত্রাও এই দেশ গুলির মধ্যে অনেক গুণে বেড়ে যাবে”.

কিন্তু, বুশের কেন্দ্রে নতুন এনার্জী ব্লক তৈরী নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর এখনও অনেক দূরের ব্যাপার. আগে দ্বিপাক্ষিক ভাবে ইচ্ছাপত্র স্বাক্ষর করতে হবে. ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান আলি আকবর সালেখির কথামতো, এই ধরনের সমঝোতা পত্র হতে পারে পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া নিয়ে ইচ্ছাপত্র, যা মস্কো ও তেহরান আসন্ন সময়েই স্বাক্ষর করতে পারে.