এলেনা ইসিনবায়েভা – অ্যাথলেটিকসের রাণী! মস্কোর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে মঙ্গলবারে তিনি খেলাধূলার অনুরাগীদের জন্য একটা উত্সবই তৈরী করে দিয়েছেন. প্রথম বারের চেষ্টাতেই চার মিটার ঊননব্বই সেন্টিমিটার লাফ দিয়ে পেরিয়ে, তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তিনিই সেরা ও তিনি- সবার চেয়ে ভাল. এলেনা নিজের আনন্দকে চেপে রাখতে পারেন নি, তাই বলেছেন:

“বেজিং থেকে মস্কো পর্যন্ত এটা একটা খুবই দীর্ঘ পথ ছিল, কারণ সরকারি প্রতিযোগিতাগুলোতে অনেকদিনই কিছু জিততে পারি নি. এই জয় খুবই ভালবাসার, খুবই চাওয়ার. স্বাভাবিক ভাবেই, দর্শকদের সহায়তা ছাড়া, আমার ট্রেনার জিনিয়াস না হলে, পরিবারের পক্ষ থেকে সমর্থন না পেলে আর আমার ভালবাসার লোকদের কাছ থেকেও মনের জোর না পেলে কিছুই করা সম্ভব হত না. তাই এটা আমাদের সকলের জয়, আমি সকলের কাছেই অত্যন্ত কৃতজ্ঞ”.

এলেনা ইসিনবায়েভা ভলগোগ্রাদ শহরে ১৯৮২ সালে জন্মেছিলেন. হাতে পোল ভল্টের পোল অনেক দেরীতেই নিয়েছিলেন – ১৫ বছর বয়সে. তার আগে তিনি অনুশীলন করতেন স্পোর্টিং জিমন্যাসটিক্স আর তাতে তাঁর কোনও সম্ভাবনাই স্বীকৃত হয় নি. কিন্তু ট্রেনার তাঁর ক্ষমতা দেখতে পেয়েছিলেন ও নিজের ছাত্রীকে অ্যাথলেটিকসের ট্রেনার ইভগেনি ত্রফিমভকে দেখিয়েছিলেন. তার ঠিক ছয় মাস পরেই ইসিনবায়েভা মস্কো শহরে বিশ্ব কিশোর চ্যাম্পিয়নশীপে জিতেছিলেন. আর তারপরে শুরু হয়েছিল বিশ্ব রেকর্ড করা. ইসিনবায়েভের ক্যারিয়ারে সেই গুলোর সংখ্যা – ২৮! শেষগুলোর মধ্যে – বদ্ধ জায়গায় পোল ভল্টে – ৫, ০১ মিটার লাফের ও খোলা জায়গায় তাঁর লাফানো ৫, ০৬ মিটার সেই ২০০৯ সাল থেকেই কেউই আর পার হতে পারছেন না.

ইসিনবায়েভের জন্যে এটা আবার কোন সীমাই নয়. মঙ্গলবারে তিনি নিজের রেকর্ডকে আরও ভাল করতে পারেন নি – জয়ের পরে আবেগই হয়তো অসুবিধা করেছে, কিন্তু এলেনা এখন এমন ফর্মে আছেন যে, তিনি পাঁচ মিটার ১৫ সেন্টিমিটারও পার হতে পারেন, এই রকম বিশ্বাস নিয়ে চ্যাম্পিয়নের ট্রেনার ইভগেনি ত্রফিমভ বলেছেন:

“২৯শে এপ্রিল ভলগোগ্রাদে এলেনা পাঁচ মিটার ১১ সেন্টিমিটার পার হয়েছিল. তারপরে একটা ছোট চোট লেগেছিল, যার পরে আমরা আর শারীরিক ফর্মের কোন উন্নতি করার সুযোগ পাই নি. কিন্তু এখন এলেনা আংশিক ভাবে সেটাই বাস্তব করেছে, যা আমরা আগে অভ্যাস করেছিলাম”.

প্রসঙ্গতঃ, আগামী কয়েক বছরে এলেনা ঠিক করেছেন নিজের জীবনের প্রাথমিক কাজের তালিকা বদল করবেন. এখন তাঁর চিন্তা শুধু সংসার করা নিয়ে, তাই তিনি বলেছেন:

“আমি এখন খেলা ছেড়ে দিচ্ছি. আমার এখন মা হতে ইচ্ছা হয়েছে, বিয়ে করতে ইচ্ছা হয়েছে. তারপরে চেষ্টা করবো ফিরে আসার – রিও ডি জেনেইরো শহরের অলিম্পিকের সময়ে”.

অলিম্পিক হবে ২০১৬ সালে. সুতরাং এই মহিলা ক্রীড়াবিদের রয়েছে সামনে তিনটি বছর, যাতে নিজের স্বপ্নও সফল করা যায় আবার নতুন করে বিজয়ের জন্য খেলার উপযুক্ত শারীরিক ফর্ম ফিরে পাওয়া যায়. এটা খুবই কঠিন কাজ, তবে ইসিনবায়েভার পক্ষে বোধহয় তাও করা সম্ভব. তিনি একেবারেই ছাই থেকে নতুন করে সৃষ্টি হতে পারেন – চোট আঘাতের পরে, প্রতিযোগিতায় হারের পরে, ব্যক্তিগত ভাবে দুঃখ কষ্টের পরেও. মুখ্য হল যে, তিনি নিজের ভুল থেকেই শিখে নিতে জানেন ও সেগুলোকে স্বীকার করতেও পারেন.

তাঁর কৌশল, চরিত্রের জোর ও উজ্জ্বল হাসির জন্যে সারা বিশ্বেই অনুরাগীরা ইসিনবায়েভাকে ভালবাসেন. মঙ্গলবারে তাঁর জন্য শুধু রাশিয়ার লোকরাই উদ্বিগ্ন ছিলেন না. এমনকি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীরা স্বীকার করেছেন যে, যখন এই খেলোয়াড় নিজের জায়গায় এসে দাঁড়ান – লাফের জন্য দৌড়ের শুরুতে, তখন সমস্ত মনোযোগ তাঁরাও ইসিনবায়েভার দিকেই দিয়ে থাকেন. আর এই মনোযোগই তাঁকে সুন্দর বিজয় এনে দিয়েছে. আশা করব যে, এটাই শেষ নয়.