তালিবদের স্বীকৃত মুখপাত্র জাবিবুল্লা মুজাহেদ, তুরস্কের সংবাদপত্রে যেমন লেখা হয়েছে, প্রত্যুত্তরে ঘোষণা করেছেন যে, আন্দোলন এখনও কাবুলের প্রস্তাবের উত্তর নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ঠিক করে নি. বিষয় নিয়ে বিশদ হয়েছেন আমাদের সমীক্ষক পিওতর গনচারভ.

তালিবদের অবশ্যই উত্তর নিয়ে ভাবার কারণ রয়েছে. এর আগে সরকারি ভাবে কাবুল একেবারেই রাজী হয়নি “ঐস্লামিক আমীরশাহী আফগানিস্তানের” মঞ্চে কথা বলতে যেতে. এখন তারা আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দপ্তর খুলতে বলছে, আর এই প্রসঙ্গে মনে তো হচ্ছে যে, সঠিক করে বলে নি যে, সেই দপ্তরগুলোতে কি পতাকা ঝুলবে – “ঐস্লামিক আমীরশাহী” নাকি শুধু “তালিবান”.

ঝানান মুসাজাই যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তার পেছনে কি আছে? সেটা যে একেবারে ব্যক্তিগত আচমকা উদ্যোগ হতে পারে না. আফগানিস্তানের পার্লামেন্টের “ভুলুসি জির্গি” বা নিম্ন কক্ষের সদস্য সৈয়দ ইশাক গিলানি এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন:

“মন্ত্রীসভার রাজনীতি বর্তমানে কানাগলিতে গিয়ে ঠেকেছে, আর তারা বাধ্য হচ্ছে নতুন পথ খুঁজে দেখতে, কারণ কাতারে আলোচনা করার একটা সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে. তুরস্কের দু-তিনটে ব্যাপার তাদের পক্ষে নয়. প্রথমতঃ, তারা ন্যাটো জোটের সদস্য. দ্বিতীয়তঃ – তাদের যোদ্ধারা আফগানিস্তানে রয়েছে. আর তৃতীয়তঃ – তুরস্ক আমাদের থেকে দূরে এবং জেহাদের সময়ে তারা খুব একটা আফগানিস্তানের প্রশ্নে জড়িত ছিলও না. বরং উল্টো – সৌদী আরব ঐস্লামিক রাষ্ট্র গুলির জন্য – এমন এক দেশ যেখানে, সমস্ত ঐস্লামিক তীর্থস্থান গুলি রয়েছে. অন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল যে, সৌদী আরবের তালিবদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কাছাকাছি, তারা সরকারি ভাবে তালিবদের প্রশাসনকে স্বীকৃতী দিয়েছিল. তারা আগের মতই বড় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রভাব রাখতে পেরেছে তালিবদের উপরে. শেষমেষ, সৌদী আরব পাকিস্তানের উপরেও বড় প্রভাব রাখে ও প্রয়োজনে তালিবদের সঙ্গে আলোচনা আয়োজনের ক্ষেত্রে তার উপরে চাপ সৃষ্টিও করতে পারে. সৌদী আরব – সমস্ত দিক থেকেই সবচেয়ে উপযুক্ত দেশ”.

সৌদী আরব আপাততঃ এই প্রসঙ্গে চুপ করে রয়েছে. আর তুরস্কে কি ভাবা হচ্ছে? তুরস্কের আন্তর্জাতিক স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের ডেপুটি ডিরেক্টর কামের কাসীম এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“তুরস্কের সঙ্গে একটা ত্রিপাক্ষিক ভাবে আলোচনার ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান আছে. কিন্তু তুরস্ক কি চাইবে নিজেদের কাছে এই আলোচনাকে নিতে, যাতে “তালিবান আন্দোলন” অংশ নেবে? আমি এই বিষয়ে খুব একটা ভরসা করতে পারছি না. আমার মনে হয় যে, কাবুলের আগে ব্যাখ্যা করতে হবে কাতারের মধ্যস্থতায় যেটা শুরু করতে চাওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমানের উদ্যোগের কি পার্থক্য রয়েছে. অর্থাত্ কি কারণে কাবুল সম্ভাব্য সাক্ষাত্কারের জায়গা হিসাবে তুরস্ক অথবা সৌদী আরবের নাম করেছে? আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল – এই বিষয়ে “তালিবান” কি প্রতিক্রিয়া দেখাবে? এই দুটি প্রশ্নই একসাথে দেখা দরকার”, সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন কাসীম.

অর্থাত্ সমস্যা শুধু সেই বিষয়ে নয়, যাতে কোথায় আলোচনা হবে বোঝা – তুরস্কে, অথবা সৌদী আরবে. সবচেয়ে মুখ্য বিষয় হল – সেটা আদৌ হবে কি না. আর এটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়ে গিয়েছে – যেহেতু সরকারি ভাবে কাবুল নিজেদের কোন “পূর্ব শর্তের” কথা তোলে নি, আর তালিবরাও নিজেদের পক্ষ থেকে কোন নিশ্চিত করে “না” বলে নি.