সব মিলিয়ে ঠিক হয়েছে ১০০ জন প্যালেস্তিনীয় নাগরিককে ছাড়া হবে, যারা বহু দিনের জন্যই জেলে বন্দী আর তাদের মধ্যে ইজরায়েলের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের কাজ করার অভিযোগে শাস্তি পাওয়া লোকও রয়েছে. ইহুদী রাষ্ট্রের নেতৃত্ব ঠিক করেছে যে, এই ইশারা হবে তাদের শুভেচ্ছার একটা স্পষ্ট দেখতে পাওয়ার মতো ইঙ্গিত.

তা স্বত্ত্বেও, খুবই কম সম্ভাবনা রয়েছে যে, এই আলোচনা সফল হবে, এই রকমের একটা ধারণা নিয়ে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

“এই ইতিহাস, আগেও খুব কম করে হলে কয়েক ডজন বার পুনরাবৃত্তি করেছে. একদিকে ইজরায়েল ২৬জন বন্দীকে ছেড়ে দিচ্ছে, আর অন্যদিকে - সিদ্ধান্ত নিচ্ছে জর্ডন নদীর পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণ চালিয়ে যাওয়ার. অর্থাত্ এক পা আগে এগিয়ে দুই পা পিছিয়ে যাওয়া হচ্ছে. এখানে মুখ্য সমস্যা হল যে, প্যালেস্টাইন- ইজরায়েলের আলোচনায় অগ্রগতি হতে পারে শুধু দ্বিতীয় সারির গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের ক্ষেত্রেই, যা আবার করে সজীব করার চেষ্টা হচ্ছে, তা খুব সম্ভবতঃ আবারও বীরের মতই প্রাণ ত্যাগ করবে. এটাই বাস্তব, যা কোন রকমের সমর্থনের প্রয়োজন বোধ করে না”.

বহু বিশেষজ্ঞই বিশ্বাস করেন যে, আজকের দিনে জর্ডন নদীর পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণ অথবা জেরুজালেমের অধিকারের প্রশ্ন আর সমঝোতার মাধ্যমে নীতিগত ভাবে সমাধান করা সম্ভবই নয়. সমঝোতা ও ছাড় দেওয়া সম্ভব শুধু অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বের প্রশ্ন ও বিষয়ের ক্ষেত্রেই.

এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ইজরায়েল ও ইহুদী গোষ্ঠী নিয়ে গবেষণা বিভাগের কর্মী দিমিত্রি মারিয়াসিস মন্তব্য করে বলেছেন:

“একটা ব্যাপার হল যে, প্যালেস্টাইনের বন্দীদের ছেড়ে দেওয়া. এটা শুভেচ্ছার একটা ইশারা, যা ইজরায়েল আলোচনায় প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দেয়. কিন্তু ব্যাপার হল যে, ছাড় রয়েছে আর রয়েছে নীতিগত ভাবে সিদ্ধান্তের প্রশ্ন. বন্দীদের ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু এলাকার স্ট্যাটাস ও এলাকার হাত বদল, এগুলো শেষ অবধি নিষ্পত্তি করার জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত. আপাততঃ যখন কোন রকমের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে না, ইজরায়েল তাদের একাংশ রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধারণা অনুযায়ী যা খুশী তাই করতেই পারে. কারণ এই সব এলাকা ইজরায়েলের সমাজের একাংশ মনে করে নিজেদের বলে”.

জর্ডন নদীর পশ্চিম পারে নতুন ইহুদী বসতি নির্মাণের সিদ্ধান্ত শুধু প্যালেস্টাইনের লোকরাই সমালোচনা করে নি, তার বিরুদ্ধে যেমন রাশিয়া, তেমনই ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও অন্যান্য দেশরাও. কিন্তু ইজরায়েলের উপরে এই সমালোচনা দেখার মতো কোন ভাবে প্রভাব ফেলতে পারে নি. সম্ভবতঃ পুরনো সেই নীতি – “এক কদম আগে, তো দু’কদম পেছনে ফেলা” – এটাই মূল নীতি, যা থেকে ইজরায়েলের নেতৃত্ব আপাততঃ বিরত হতে চাইছে না. কিন্তু যদি তাই হয়, তবে শুধু এই আলোচনার পরিণতিতে সাফল্যই নয়, এমনকি তা কার্যকরী করতে যাওয়াই এখন পড়বে বিপদের মুখে.