এলাকার লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সারা রাশিয়া সামাজিক মতামত কেন্দ্র জুলাই মাসের শেষে যা দেখতে পেয়েছে, তাতে বোঝা গিয়েছে যে, নির্বাচনের সম্ভাব্য বিজয়ীর রেটিংয়ে খুবই ভরসাযোগ্য ভাবেই এগিয়ে রয়েছেন বর্তমানে দায়িত্ব প্রাপ্ত অস্থায়ী রাজ্যপাল আন্দ্রেই ভরোবিয়েভ. তাঁকে সমর্থন করতে তৈরী রয়েছেন উত্তরদাতাদের মধ্যে শতকরা ৫২ ভাগ. বিভিন্ন ধর্ম মতের লোকদের মধ্যে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় নি. কিন্তু একটা ধারণা তৈরী হয়েছে যে, মস্কো এলাকার মুসলমানরা – বর্তমানের যে দল কাজ করছে, তাদেরই পক্ষে. তার একটা কারণ হল – ধর্মীয় সমাজগুলোর প্রতি এঁদের তরফ থেকে খুবই মনোযোগ দিয়ে কাজের সম্পর্ক.

মস্কোর শহরতলীতে – ৭৭টি শহর রয়েছে. তার মধ্যে অর্ধেকগুলোতে আজ মুসলমান সমাজ কাজ করছে. এটা ঠিক যে, এলাকায় মসজিদের সংখ্যা মাত্র চারটি. এই বছরের শুরুতে মস্কো শহরতলীর মুসলিম ধর্মীয় সমাজের নেতৃত্ব প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছেন আরও আটটি মসজিদ নির্মাণের জন্য. ভবিষ্যতে প্রত্যেক শহরেই মসজিদ অথবা প্রার্থনার জায়গা থাকা উচিত্. “রেডিও রাশিয়ার” প্রতিনিধি সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার সময়ে মস্কো এলাকার প্রশাসনের প্রথম ডেপুটি ইউরি ওলেইনিকভ বলেছেন:

“আমরা ধীরেধীরে এই অবস্থায় পৌঁছবো. আমাদের রাজ্যপাল – একজন আধুনিক মানুষ, যাঁর খোলা মন ও বুদ্ধি প্রশস্ত. আমরা অনেককেই একসাথে বোঝাবো যে, মসজিদের প্রয়োজন রয়েছে. আমি বলতে পারছি না যে, আজ এই প্রশ্ন মস্কো এলাকার বিভিন্ন জায়গায় সকলেই সহজে ও একই ভাবে নিতে পারছেন, অনেকেই মুসলিম মসজিদ তৈরী হওয়াটাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন. কিন্তু আমরা পরিস্থিতি বদলের চেষ্টা করবো”.

মুসলমানদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মস্কো শহরতলির প্রশাসন প্রথম পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই নিয়েছেন: ঈদুল-ফিতর উত্সব পালনের দিনগুলোতে এর আগে প্রার্থনার জন্য আলাদা করে দেওয়া ১৯টি জায়গার সঙ্গে আরও ৮টি যোগ করা হয়েছে.

ইউরি ওলেইনিকভ নিজে মস্কো শহরে রাশিয়ার মুফতি সভার আয়োজিত রমজানের শিবিরে এই পবিত্র মাসের শেষ দিনগুলোর মধ্যে গিয়েছিলেন, যা তৈরী করা হয়েছিল স্মৃতির উদ্দেশ্য তৈরী মসজিদের পাশে, মস্কোর ভিক্ট্রি পার্কে. রমজান শিবিরে অতিথিদের সামনে মস্কো শহরতলীর প্রশাসনের উপসভাপতি ভাষণ দিতে গিয়ে স্বীকার করেছেন যে, তিনি নিজের জীবনে একাধিকবার পবিত্র কোরানের শরণ নিয়েছেন. এই প্রসঙ্গে আমাদের প্রতিনিধি সাংবাদিককে তিনি বলেছেন:

“এটা ঠিকই যে, এটা সকল বইয়ের একটা বই. কিছু আয়াত মুখস্থ করে, তাতে বারবার ফিরে আসতে হয়. এটা পড়ার জন্য কোনও শক্তি খরচ করতে হয় না, আর এটাই হল গিয়ে ভাল. হাল্কা কোনও বই – এটা আগ্রহের বিষয় নয়. কিন্তু কোরান – খুবই জটিল বই, তাতে অনেক ঘুরিয়ে বলা কথা রয়েছে. আমি মন থেকেই চাই আমার জীবনের অবশিষ্ট অংশ কোরান পাঠে মন দিতে আর সেই জ্ঞানে অভিভূত হতে, যা পরমেশ্বর আমাদের এই বইয়ের মাধ্যমে দিয়েছেন”.

মস্কো শহরতলীতে আজ সত্তর লক্ষের বেশী মানুষ থাকেন. এই মানুষরা বেশ কয়েক ডজন জাতির লোক, কিন্তু রুশ ও ইউক্রেনের পরে তৃতীয় স্থানে মজবুত অবস্থাতেই রয়েছে তাতারস্থানের লোকরা.

এটা রুশ প্রজাতন্ত্রের এক সবচেয়ে বেশী সংখ্যার জাতির লোক, যাঁরা প্রায় দশ শতকের বেশী সময় ধরেই ইসলাম ধর্ম পালন করে আসছেন. তাতার মানুষরাই বেশীর ভাগ মস্কো উপকণ্ঠের শহরে মুসলিম সমাজের মূল অংশ. বিগত বছর গুলিতে এঁদের সঙ্গে যোগ হয়েছে উত্তর ককেশাস থেকে আসা বহু মানুষ. তার মধ্যে মুখ্য হল যে, মস্কো শহরতলীর সমস্ত লোকই যাতে একে অপরের মধ্যে নিজেদের দেশের লোককেই দেখতে পান, এই কথা উল্লেখ করে ইউরি ওলেইনিকভ বলেছেন:

“আমাদের সকলের কাজ হল – এমন করা, যাতে মুসলমানদের প্রতি সেই রকমের মানুষদের মতই দেখা হয়, যাঁরা পরমেশ্বরের আইন ও নীতি নিয়েই বেঁচে রয়েছেন. এই আইন গুলিই জানার দরকার রয়েছে, তার প্রতি ভাল ভাবেই দেখা দরকার. এখানে কোন রকমের “সহনশীলতা” বা সহিষ্ণুতা দেখানোর প্রয়োজন নেই. সেই রকম করার দরকার নেই যে, বিভিন্ন ধর্মের লোকরা একে অপরকে যাতে সহ্য করতে থাকে. বরং এমন করা দরকার যে, যাতে তাঁরা একে অপরের বিষয়ে বেশী করেই জানতে পারে – আর তখনই একে অপরকে বুঝতে সক্ষম হবে, আর তারই সঙ্গে – অন্তর থেকেই সম্মান করতে শিখবে. আর তখনই কোনও সমস্যা হবে না”.

মস্কো শহরতলীর নির্বাচকদের এই ধারণা কতটা আশা পূর্ণ করার উপযুক্ত, তা একমাস বাদেই জানতে পারা যাবে.