কারণ তা না হলে এই বিশাল এলাকায় স্থিতিশীলতা রাখা সম্ভব নয়, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পাঁচ বছর ধরে শাসনের সন্তুষ্ট না হওয়ার মতো ফলাফলের সঙ্গে বিগত সময়ে যোগ হয়েছে আরও এক গাদা কারণ, যা শুধু দেশের আভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকেই নয়, বরং পাকিস্তানের পরবর্তী কালে ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র হিসাবে টিকে থাকাকেই প্রশ্নের সম্মুখীণ করেছে. এই সমস্ত কারণের একাংশ আভ্যন্তরীণ ব্যাপারের সঙ্গেই জড়িত, আর অন্য গুলির উত্স খোঁজা দরকার দেশের বাইরে. বাইরের কারণের মধ্যে রয়েছে যেমন, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের উপরে ক্রমাগত আক্রমণ, যা আমেরিকার ড্রোন বিমান দিয়ে করা হচ্ছে, মানসিক ও রাজনৈতিক সমর্থন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বৃত্তে বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতি করা হচ্ছে”.

তারই মধ্যে, দেখাই যাচ্ছে যে, পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ বিরোধ, যা “আরব বসন্তের” মত অথবা, তার থেকেও যা খারাপ, তা এই দেশের কয়েকটি আপাতঃ রাষ্ট্রের মত খণ্ডে টুকরো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই পূর্বাভাসের অযোগ্য পরিণতি নিয়ে আসতে পারে. আর তা শুধু পাকিস্তানের জন্যই নয়, বরং সমগ্র প্রসারিত এলাকার জন্যেই. আর এখানে ব্যাপার শুধু সন্ত্রাসবাদীদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র পড়তে পারে এই ধরনের সমস্যাই নয়, যদিও এই আশঙ্কাকেও হিসাব থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে না, তাই বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“এখানে মুখ্য বিপদ যুক্ত রয়েছে সেই কারণের সাথে যে, প্রায় দশ বছরেরও বেশী সময় ধরে “বৃহত্ নিকটপ্রাচ্যে” আমেরিকার সামরিক ভাবে হঠকারিতা করার পরে এখানে তৈরী হয়েছে এক “অস্থিতিশীলতার বৃত্তচাপ”. ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের কথা রয়েছে – সেই দেশ থেকে, যেখান থেকে এই হঠকারিতা শুরু হয়েছিল আর যা এই “অস্থিতিশীলতার বৃত্তচাপে” সবচেয়ে বিস্ফোরক মৌলের মতই দেখাচ্ছে”.

আফগানিস্তানের ও তার চারপাশের ঘটনা ২০১৪ সালের পরে কোথায় নিয়ে যাবে, তা আজকের দিনে বিশ্বাস নিয়ে কেউই বলতে পারে না. কিন্তু একটা ব্যাপারই স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে: পাকিস্তানের পক্ষ থেকে গঠনমূলক অংশগ্রহণ ছাড়া আফগানিস্তানে কোন রকমের স্থিতিশীলতা নিয়ে বলা যেতে পারে না.

কাশ্মীরের বিগত কিছুদিন আগে উত্তেজনা বৃদ্ধি, যাতে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরকে দোষ দিয়েছে, সেই সম্বন্ধে কথা বলতে গিয়ে বান কী মুন আহ্বান করেছেন দুই পক্ষকেই শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধান করতে আর একই সঙ্গে যোগ করেছেন: “আমার মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব এখনও অটুট রয়েছে. যদি দুই পক্ষই এটাকে উপকারী মনে করে ও দুই পক্ষই এতে রাজী হয়, তবে আমি তৈরী রয়েছি নিজের মধ্যস্থ হওয়ার পরিষেবা প্রস্তাব করতে”.

ভলখোনস্কি এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন:

“এই বাক্যটি নিজেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের পক্ষ থেকে পাকিস্তান সংক্রান্ত বিবাদে পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়াকে যদি প্রকাশ না করেও থাকে সরাসরি ভাবে, তবুও অন্তত তাঁর পক্ষ থেকে পাকিস্তানের মতামত শুনতে চাওয়ার ব্যাপারে তৈরী থাকাকে প্রকাশ করেছে. কারণ আন্তর্জাতিক ভাবে কাশ্মীরের বিষয়ে মধ্যস্থতা - এটাই পাকিস্তান সারাটা সময় ধরে দাবী করে এসেছে, যাতে সকলে মেনে নেয় যে, এই সমস্যা রয়েছে, আর যা, ভারতের পক্ষ থেকে এত জোর দিয়েই উপেক্ষা করা হয়েছে, যারা মনে করেছে যে, এই সমস্যা শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক স্তরেই সমাধান হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে”.

মনে তো হয় না যে, এমনকি এখনকার এই বান কী মুনের প্রস্তাবও কোন বাস্তব অগ্রগতি পাবে – দিল্লী নিজের অবস্থান পাল্টাতে তৈরী নয় – বিশেষ করে ভারতেই জাতীয়তাবাদী মানসিকতার বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে. কিন্তু পাকিস্তানের চারপাশ ঘিরে পরিস্থিতিকে নরম করার চেষ্টা রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের পক্ষ থেকে স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে.

যাই হোক না কেন, বিশ্ব সমাজের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রতি যতই অভিযোগ থাকুক না কেন (তা যেমন অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে নিজেদের দেশেই সন্ত্রাসের উত্সকে দমন করতে না পারা নিয়েও), আজ বিশ্ব সমাজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল খুবই বেশী করে দেখিয়ে দেওয়া যে, তারা কোন রকমের অংশ না নিয়ে পাকিস্তানে হওয়া প্রক্রিয়াগুলোকে ছেড়ে রাখবে না. আর এটার মধ্যেই মূল আর স্পষ্ট করে ঘোষণা না করা হলেও রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের কাজ নিহিত রয়েছে.