নতুন দলিল, যা অক্টোবর মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের বেজিং সফরের সময়ে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে, তার নাম হবে সীমান্তে সামরিক সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা পত্র.

এই বিষয় নিয়ে বিশদ করে মন্তব্য করেছেন আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন, তিনি বলেছেন:

“সীমান্তে সামরিক সমঝোতা নিয়ে চুক্তি হতে চলেছে দিল্লী ও বেজিংয়ের মধ্যে ১৯৯৬ সালের পর থেকে হওয়া সবচেয়ে বড় চুক্তি, যখন দুই দেশ স্থির করেছিল যে, একতরফা ভাবে ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকে স্ট্যাটাস-কো পুনর্বিবেচনা করার জন্য কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না. প্রকাশিত নতুন চুক্তির খুঁটিনাটি হল: এটা করা হচ্ছে মূলগত ভাবেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে খারাপ পরিস্থিতিকে পরিবর্তনের উদ্দেশ্য নিয়ে, যা বিগত কয়েক মাস ধরে বহু সংখ্যক সীমান্ত এলাকায় ঘটা ঘটনা দিয়ে ধৈর্যের পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে”.

ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্ককে রিসেট করার উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরী হয়েছিল মে মাসে চিনের রাষ্ট্রীয় সভার নতুন প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের নয়াদিল্লী সফরের সময়েই. প্রতিবেশী দেশ হয়েই, নতুন পদে আসীন হয়ে চিনের প্রধানমন্ত্রী, যে তাঁর বিদেশ সফরের হিসাব শুরু করেছিলেন আর সেই দেশকেই দিয়ে, যাদের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক মোটেও সহজ নয়, তা গ্রহণ করা হয়েছিল একটা ইঙ্গিত হিসাবে যে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন হাওয়া বইতে শুরু করেছে.

মে মাসের সফরের প্রধান পরিণাম হয়েছিল ১৯৬২ সাল থেকে রয়ে যাওয়া এলাকা সংক্রান্ত বিরোধের যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করার চেষ্টা নিয়ে সমঝোতা. এই লক্ষ্য পূরণের জন্য ভারত ও চিনের নেতৃত্ব ঠিক করেছিল দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের একটা দেখা করার ব্যবস্থা তৈরী করার. এই সব দেখাশোনার সময়ে সীমান্ত নিয়ে বুদ্ধি ও যুক্তিসঙ্গত, ন্যায্য এবং দ্বিপাক্ষিক ভাবেই গ্রহণযোগ্য মীমাংসা তৈরী করার কথা হয়েছিল, তাই সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“যদি দুই পক্ষেরই সম্ভব হয় বর্তমানের সীমান্ত এলাকায় ঘটনাগুলোকে একেবারে সমূলে উত্পাটন করে ফেলার, তবে এটা খুবই ভাল একটা পরিবেশ তৈরী করে দেবে পরবর্তী কালে এগিয়ে যাওয়ার জন্যে. ভারতের মনমোহন সিংহের মন্ত্রীসভার পক্ষে বেজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করা একটা খুবই ওজনদার যুক্তি হবে আগামী লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রচারের সময়ে বিরোধী পক্ষ ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে তর্কের ক্ষেত্রে, যা হতে চলেছে ২০১৪ সালে. বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লী ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ও তীক্ষ্ণ হয়ে যাওয়া, যা স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তার মধ্যে চিনের দিকে পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে একটি বিজয় ভারতের জাতীয় কংগ্রেস দলকে তাদের জন্য বড়ই প্রয়োজনীয় কিছু রাজনৈতিক পয়েন্ট এনে দিতে পারে”.

কিন্তু এখানে প্রয়োজন হবে উল্লেখ করার যে, নিজের নাম স্বত্ত্বেও – সীমান্ত এলাকায় সামরিক সহযোগিতা, দিল্লী ও বেজিংয়ের মধ্যে সর্বজন গ্রাহ্য সীমান্ত সংক্রান্ত সমঝোতা পত্রের জায়গা নিতে পারবে না. কারণ চিন ও ভারতের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থে সীমান্তের জায়গা নেবে সেই পুরনো বাস্তব নিয়ন্ত্রণ রেখাই.

সুতরাং বলে দেওয়া যে, দ্রুত ও সম্পূর্ণ এলাকা সংক্রান্ত বিরোধ মেটানো হয়েছে, এটা আপাততঃ তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে: বেজিংয়ের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে দ্বিপাক্ষিক ভাবে গ্রহণযোগ্য চুক্তি সম্ভবতঃ ভবিষ্যতের মন্ত্রীসভাই করতে পারে, বলে সব দেখে শুনে মনে হয়েছে.