রাজধানীর গ্র্যাডপাস এলাকায় সন্ধ্যার নামাজের সময়ে একদল উগ্র জাতীয়তাবাদী সিংহলী যুবকের দল, বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের নেতৃত্বে, মসজিদে ভাঙচুর শুরু করেছিল, তখন রাস্তায় বেরিয়ে এসেছিল পালেপালে মুসলমান লোক. তার ফলে শুরু হয়েছিল দুই পক্ষের সংঘর্ষ আর শেষে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে সাতজন লড়াইয়ের লোক আর দুই পুলিশ কর্মী. এরপরে প্রশাসনকে বাধ্য হতে হয়েছে সামরিক বাহিনী ও পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স বলবত্ করে কার্ফ্যু জারী করে পরিস্থিতি আয়ত্বে আনতে, যা অবশেষে রবিবারে তুলে নেওয়া হয়েছে.

আজ সরকার বুঝিয়ে দিতে চাইছে যে তারা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে পেরেছে আর প্রশ্ন হল যে, এই আপাতঃ শান্তি কতদিন টিকবে? এটাই এখন মুখ্য প্রশ্ন. সরকারের সদস্যরা, যারা ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে শ্রীলঙ্কার মুসলিম কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আছেন, তাঁরা খুবই গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, “সমাজে কিছু এমন মৌল রয়েছে, যাদের অপরাধের জন্য কোন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না”, এই কথা উল্লেখ করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“এই রকম মনে করার সমস্ত ভিত্তি রয়েছে যে, এই ঘোষণা মোটেও কোন ফাঁকা আওয়াজ নয়. কারণ গত মাসগুলোতে শ্রীলঙ্কায় আরও বেশী করেই মৌলবাদী শক্তিরা মাথা চাড়া দিয়েছে, যারা দেখতে পাওয়া গিয়েছে যে, মনে করে, তাদের স্থানীয় মুসলমানরা বেশী করেই অসুবিধা করছে. যেমন, এই বছরের বসন্তকালে, বৌদ্ধ মৌলবাদী প্রতিনিধিরা ঐস্লামিক ধর্মীয় নেতাদের বাধ্য করেছে স্থানীয় বাজারে হালাল করা জিনিষপত্র বিক্রী বন্ধ করাতে, তাদের মত হল যে, শ্রীলঙ্কায় শতকরা ৯০ ভাগ লোক মুসলিম নন, সুতরাং বাজারে তাদের কেন বাধ্য হতে হবে হালাল করা জিনিষ কিনতে. কিন্তু খাবার জিনিষে কি এমন অসুবিধা করতে পারে ধর্মীয় অনুভবের বিষয়ে এই বৌদ্ধদের? কিন্তু এই ভাবেই তারা শ্রীলঙ্কার বাকী মুসলিম নন, এমন সমস্ত সমাজের পক্ষ থেকেই কোন দায়িত্ব না পেয়েও একটা ঝামেলা তৈরী করেছে. শ্রীলঙ্কায় তো শুধু বৌদ্ধ নয়, হিন্দু, খ্রীষ্টান ইত্যাদি সম্প্রদায়ের বাস রয়েছে. আর অন্যরা তো বৌদ্ধদের এই কাজ করার জন্য দায়িত্ব দেয় নি”.

স্বাধীন শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে বৌদ্ধ ধর্মের নামে মৌলবাদ ইতিমধ্যেই খুব গুরুতর ভূমিকা পালন করেছে. প্রায় পঞ্চাশ বছরেরও আগে আধুনিক শ্রীলঙ্কার প্রথম “স্থপতি ও পিতা” সলোমন বন্দরনায়েকে নিহত হয়েছিলেন এক মৌলবাদী বৌদ্ধ যুবক তালদুয়ে সোমারামা থেরোর হাতে ২৫শে সেপ্টেম্বর ১৯৫৯ সালে. আজ, ইতিহাসের এক নতুন মোড় ঘোরার মুহূর্তে আবারও সামনের সারিতে এগিয়ে এসেছে মৌলবাদী সংগঠন “বোদু বালা সেনা” (বৌদ্ধ ক্ষমতার শক্তি), যারা এই বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে নিজেদের লক্ষ্য হিসাবে ঘোষণা করেছে মুসলিম ধর্মীয় সংগঠন গুলির সাথে ও তাদের এই দ্বীপের রাষ্ট্রে থাকা ঐতিহ্যের সঙ্গে লড়াইকে.

মুসলমানদের এখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া রাষ্ট্রপতি মাহিন্দা রাজপক্ষের প্রশাসনকে খুবই অসুবিধায় ফেলেছে, তাদের বাছাই করার সম্ভাবনাও কমেছে. একদিকে, মুসলমান সংখ্যালঘু জনগনকে রক্ষা করতে গেলে রাজপক্ষের নিজের দেশের ইতিহাসে “সিংহলীদের রাষ্ট্রপতির” ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে, যিনি “তামিল টাইগারদের বিচ্ছিন্নতাবাদ” ধ্বংস করতে পেরেছেন, আর হয়তো সেই কারণেই শ্রীলঙ্কাতে এই ধরনের মুসলমানদের উপরে আক্রমণের জন্য কাউকেই গুরুতর শাস্তি পেতে হয় নি. আবার অন্য দিকে, নিয়মিতভাবেই কট্টরপন্থীদের রাস্তা করে দিতে থাকলে, দেশে বিভিন্ন সমাজের মধ্যে বিরোধের আগুন জ্বলে উঠতে পারে, যা বিগত সময়ে এই দেশেই বহু লক্ষ জীবন নষ্ট হওয়ার কারণ হয়েছে. আজ সঠিক সময় এসেছে, যখন মনে করা দরকার যে, তামিল রাজনৈতিক বিরোধ শুরু হয়েছিল সেই কলম্বো শহরেই ভাঙচুর করা দিয়ে, যার জন্য ক্ষতি হয়েছিল তামিলদের.