অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের জনগনের মন জয় করার জন্য নরেন্দ্র মোদী নিজের ভাষণ শুরু করেছিলেন তেলেগু ভাষায়. আর তাঁর বক্তৃতার মূল লক্ষ্য ছিল ইউপিএ জোটের বিগত সময়ে প্রশাসনের কাজ কারবারের কড়া সমালোচনা. বিশেষ করে সরকারের উপরে ক্ষোভ বেশী করেই প্রকাশ করা হয়েছে তথাকথিত খুবই নরম অবস্থান, যা কয়েকদিন আগে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে পাকিস্তানের গুলি চালনায় পাঁচ ভারতীয় জওয়ানের নিহত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে.

প্রসঙ্গতঃ এই দিনেই বিজেপি দলের সভাপতি রাজনাথ সিংহ দাবী করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ যেন অবিলম্বে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সঙ্গে নিউইয়র্ক শহরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভার নেপথ্যে দেখা করার পরিকল্পনা থেকে বিরত হন.

প্রসঙ্গতঃ, হায়দ্রাবাদের মিটিংয়ে নরেন্দ্র মোদী শুধু পাকিস্তানকে একচোট নিয়েই ক্ষান্তি দেন নি, তিনি একই সঙ্গে কড়া সমালোচনা করেছেন দেশের সরকারের বিতর্কিত লাদাখ এলাকায় কয়েকদিন আগের ঘটনা নিয়ে অবস্থানের জন্যও.

বিশেষ করে চোট পড়েছে বিদেশ মন্ত্রী সলমন খুরশিদের উপরে, তাঁর কয়েকদিন আগের বেজিং সফরের জন্যই. শেষমেষ তিনি মনে করিয়ে দিতে ভোলেন নি যে, ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের নেত্রী আগের মতই রয়েছেন সোনিয়া গান্ধী, যাঁকে ভারতে আগের মতই বিদেশিনী বলে ভাবা হয়ে থাকে. তাঁকে সরাসরি আক্রমণ না করে, তিনি ভারত সরকারের কাজকর্মকে সমালোচনা করেছেন ইতালির নাবিকদের মামলা প্রসঙ্গে, যাদের নামে ভারতে ধীবরদের হত্যার অভিযোগ ঝুলছে, অথচ যাদের সরকার জামিনে ছেড়ে দিয়েছে.

এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“যদি এই সমস্ত মন্তব্যকে বিশ্লেষণ করা হয়, তবে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যেতে পারে যে, মোদী বাস্তবে দেশের সমস্ত প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের সঙ্গেই সম্পর্ক খারাপ করার পক্ষে কথা বলছেন. আর তাঁর ইতালি সম্বন্ধে মন্তব্য শুনে মনে হয়েছে যে, বিজেপি ও তাদের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ভারতের খুব বেশী রকমের পশ্চিমের সঙ্গে কাছে আসা পছন্দের নয়. এই প্রসঙ্গেই দেখা উচিত হবে তাঁর দেশে মূলধন ফিরিয়ে নিয়ে আসা নিয়ে দাবী, যা দেশ থেকে দেশের ব্যবসায়ীরা বেআইনি ভাবে বার করে নিয়ে গিয়ে বিদেশের ব্যাঙ্কে গচ্ছিত করে রেখেছে”.

এখানে হিসাবের মধ্যে আনার দরকার রয়েছে যে, যদিও মোদী সরাসরি ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কিছু বলেন নি, তবুও ভারত- আমেরিকার সম্পর্ক তাঁর ক্ষমতায় আসার ঘটনার পরে খুবই অনিশ্চিত বলে দেখাচ্ছে. ২০০২ সালের পর থেকে অর্থাত্ সেই গোধরা কাণ্ডের পর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একাধিকবার মোদীকে সেই দেশের যাওয়ার বিষয়ে ভিসা দিতে অস্বীকার করা হয়েছে, আর পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধিদের কয়েকদিন আগের মন্তব্য শুনেও মনে হয়েছে যে, আপাততঃ তারাও নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে ইচ্ছা প্রকাশ করছে না.

মোদীর বক্তৃতার মোদ্দা কথা হয়েছে এই স্লোগান যে, - “ভারত – সবার আগে”. স্বাভাবিক ভাবেই মোদীর এই ঘোষণা থেকে উপস্থিত জমায়েতের হর্ষধ্বনি শুনতে পাওয়া গিয়েছে.

এখানে প্রশ্নের উদ্রেক হয় যে, প্রথমে – মোদীর মন্তব্যকে কতটা মুহূর্তের প্রয়োজনে রাজনৈতিক স্বার্থ প্রণোদিত ও জনপ্রিয় হওয়ার উদ্দেশ্য করা বলে মনে করতে হবে, আর কতটা – তাঁর সরকারের বিদেশ নীতির বাইরের আকার গঠন বলে ভাবতে হবে? যদি অবশ্যই, বিজেপি দল নির্বাচনে জিততে সমর্থ হয় তাহলে. আর দ্বিতীয় হল যে, এখানের মূল প্রশ্ন হচ্ছে, একঘরে হয়ে থাকা কি জাতীয় স্বার্থের পক্ষে অনুকূল হবে, যার লক্ষণই আরও বেশী করে বিজেপি দলের কাজ কারবারে ও তাদের নেতার কথায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে?