সম্পূর্ণ রকমের গুপ্তচর বৃত্তি করার কাজ নিজেদের রাষ্ট্রদূতাবাস অন্য দেশের এলাকায় ব্যবহার না করে করা সম্ভব নয়. বিদেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দপ্তর সবসময়েই সেই দেশের বিরুদ্ধে গুপ্তচর বৃত্তি করার জন্য প্রায় মুখ্য একটা মৌল হয়েই থাকে. এটা যেমন পালিয়ে যাওয়া লোকের জন্য আশ্রয়, তেমনই গুপ্তচরের জন্য নিজের কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের একটা খুবই ভরসার জায়গা. সর্বশেষ এটা একটা ভরসা করার মতো লুকিয়ে থাকার জায়গাও বটে – এমনকি যদি গুপ্তচর ধরা পড়ে যায় অথবা বামাল সমেত ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে, এই ক্ষেত্রে কূটনৈতিক কর্মীর মর্যাদা তাকে জেল থেকে বাঁচাতে পারে.

কিন্তু ইলেকট্রনিক গুপ্তচর ব্যবস্থা – এটা অন্য ব্যাপার. দূতাবাসের ভেতরে এই কারণে কোন সার্ভার লুকিয়ে রাখার দরকার নেই, আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা এই বিষয়কে যেখানে খুশী আয়োজনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে, এই রকম মনে করে ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞ, “স্ট্র্যাটেগ” নামের সাইট তৈরী কোম্পানীর জেনারেল ডিরেক্টর ইকাতেরিনা আকসিওনোভা বলেছেন:

“আমার মনে হয় যে, দূতাবাসে এটা রাখার কোন দরকারই নেই, কারণ বর্তমানের পরিকাঠামো যেমন সুরক্ষিত চ্যানেল তৈরী করতে দেয়, আর সার্ভারে খুব ভালো ঢোকার ব্যবস্থা করে দিতে পারে, আবার সামগ্রিক সুরক্ষার মাত্রাকেও যথেষ্ট উচ্চ স্তরের করে দিতে পারে, একেবারেই খুব কম স্পষ্ট আর সন্দেহের বাইরে রাখা জায়গাতে করারও তেমনই সুযোগ দিয়ে থাকে. এই সার্ভার রাখার ব্যাপারে কি রকমের কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা জানা নেই. আমার যেমন মনে হয় যে, এই প্রশ্নের সমাধান অনেক কম সরল উত্তর দেওয়ার মতো জায়গায় করা হতে পারে”.

এরই মধ্যে “গ্রোটেক” কোম্পানীর ব্যবসা উন্নয়ন ডিরেক্টর আলেকজান্ডার ভ্লাসভ মনে করেন যে, সমস্ত রকমের সাবধানতা স্বত্ত্বেও ইন্টারনেটের খোলা এলাকায় গুপ্তচর বৃত্তি করার ব্যবস্থা লাগানো সহজ কাজ নয়, তাই বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, তথাকথিত কোন সার্ভারের শারীরিক উপস্থিতি এখানে নেই. এটা খুব সম্ভবতঃ হবে ভার্চুয়াল সার্ভার, এক ধরনের খবর নেওয়ার ব্যবস্থা, যা তা যোগাড় করে তত্ক্ষণাত ডাটা বেসে জমা করে দেয়. যদি আমরা ইন্টারনেটের সকলের জন্য খোলা জায়গার কথা বলি, তবে কোন জায়গায় চিহ্ন না রেখে তা করা মনে হয় না যে সম্ভব. চিহ্ন থাকবেই”.

কিন্তু যদি সাইবার গুপ্তচর বৃত্তির সার্ভারের মস্কোর মার্কিন রাষ্ট্রদূতাবাসে থাকা ব্যাপারটা বিশেষজ্ঞরা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে রাজী নাও হন, তবুও রাশিয়ার এলাকাতেই এই ধরনের গুপ্তচর বৃত্তির সম্ভাবনাকে তারা উড়িয়ে দেন নি. ইকাতেরিনা আকসিওনোভা যেমন উল্লেখ করেছেন যে, আমেরিকার বিশেষ বিভাগের পক্ষ থেকে দয়া উদ্রেক করা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব সমেত ঘোষণা দেখেই এই বিষয়ে কোন রকমের সন্দেহ আর নাও করা যেতে পারে, যা সেই আমেরিকার লোকদেরই এমনকি অসন্তুষ্ট করে তুলেছে.