রুশ ফেডারেশনের পেন্সনপ্রাপ্তদের পার্টির নেতা ইগর জোতভের মতে বৃদ্ধবৃদ্ধাদের চলনসই জীবনযাত্রা মান সুনিশ্চিত করার কর্তব্য নবীন প্রজন্মের রাষ্ট্রের সাথে ভাগ করে নেওয়া উচিত. সেই জন্য তিনি প্রস্তাব দিচ্ছেন – প্রত্যেক সন্তানের মাসিক বেতন বা অন্যান্য আয় থেকে প্রত্যেক জীবিত মা ও বাবার পেন্সনের খাতে ২% করে জমা করার. ম্যাক্রো ইকনমিক বিশ্লেষণ ও সল্পমেয়াদী পূর্বাভাস ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞা ইলেনা পেনুখিনা এই প্রসঙ্গে বলছেন, যে বলতে গেলে মা-বাবা কর চালু করা হচ্ছে. –

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে নতুন সামাজিক বিমার খাতে বাড়তি কর জারি করা হতে চলেছে. তাও আবার আত্মীয়তার সূত্র ধরে. আমার কাছে ব্যাপারটা খুবই আশ্চর্যজনক.

খসড়া আইনটিতে বহু অসঙ্গতি রয়েছে. সেখানে বলা হয়েছে, যে সন্তানদের আয় থেকে ২% করে পেতে পারেন প্রত্যেক জনকজননী, শুধুমাত্র সংশোধনের অযোগ্য মদ্যপ ও মাদকাসক্তরা ছাড়া. আর যেসব নবীনরা স্বাস্থ্যের সমস্যার কারণে কর্মপোযোগী নয়, তাদেরও কি প্রাপ্য সরকারী ভাতা থেকে ২% করে মাবাবার পেন্সনের খাতে জমা দিতে হবে? আর সেই সব বয়স্ক মানুষের বেলায় কি হবে, যারা সন্তান হারিয়েছেন এবং নিজেরাই নাতিপুতিদের মানুষ করছেন?

উপরন্তু, নৈতিক দিক থেকে ব্যাপারটা দেখতে এরকম লাগে, যে খসড়া আইনটির সংকলক যেন আইনের নাগপাশে জড়িয়ে সন্তানদের মাবাবার প্রতি শ্রদ্ধা বাড়াতে চাইছেন, বলে চলেছেন বিশ্লেষিকা ইলেনা পেনুখিনা –

আরও একটা দিক আমি লক্ষ্য করতে পারছি, সেটা হল জন্মদানের হার বৃদ্ধিতে উত্সাহ যোগানো. কিন্তু আদপে এর সাফল্য সম্পর্কে যথেষ্ট সন্দেহ আছে. কারণ এই আইন যাতে অভীষ্ট ফল দেয়, সেজন্য সন্তানের জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করার.

সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত রুশ ফেডারেশনের বার্ধক্যে উপনীত নাগরিকদের পেন্সন যোগানোর দায়িত্ব ছিল একমাত্র রাষ্ট্রের. পেন্সনের অঙ্ক নির্ভর করতো শ্রমশীল থাকার মেয়াদ, কর্মপদ ও গড় মাসিক বেতনের মাপের উপর. ২০০২ সাল থেকে অপেক্ষাকৃত কমবয়সী নাগরিকরা বাধ্য হচ্ছেন পেন্সন খাতে বেতনের একাংশ জমা দিতে. এখন পেন্সনের নতুন ফর্মুলা নির্ণয় করার কাজ চলছে. বিশেষজ্ঞদের মতে, অবসরপ্রাপ্তদের স্বচ্ছল জীবনযাত্রা মান সুনিশ্চিত করা শুধু রাষ্ট্রের একার দায়িত্ব নয়, বহুলাংশে তা করা দরকার নিজস্ব জমানো অর্থের দ্বারা. প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, যাতে মানুষ সমস্ত কর্মজীবি জীবন ধরেই যেমন বাধ্যতামুলক, তেমনই স্বেচ্ছামুলক চাঁদা জমা করে তার ভাবী অবসর ভাতার খাতে. অতএব তারা এতটাই পুঁজি জমা করে তুলতে পারবে, যে অবসরগ্রহণের মুহুর্ত থেকে বার্ধক্যে তার স্বচ্ছল জীবনযাত্রার মান সুনিশ্চিত হয়ে যাবে.

অন্য কথায় বলতে গেলে, কে স্বচ্ছল বার্ধক্য সুনিশ্চিত করবে – মানুষ নিজেই, রাষ্ট্র নাকি অন্য কেউ – এই প্রশ্নের সমাধান এখনো করা যায়নি. তবে সংসদ খুব সম্ভবত ইগর জোতভের আনা খসড়া আইন অনুমোদন করবে না. যাই হোক না কেন, রুশ ফেডারেশনে ৮৭ নম্বর ধারা এখনো বলবত আছে, যার বলে কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা বৃদ্ধ ও অক্ষম মাবাবার খাওয়াপরা মেটাতে বাধ্য. সুতরাং যে সব পিতামাতার সন্তানরা আর্থিক সাহায্য দিতে অস্বীকার করে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে সহজেই জেতা যায়, আর তখন ২% কর নয়, মাসিক আয়ের ২৫% মা বা বাবাকে গুণে দিতে হবে ভাতাস্বরূপ.