জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সাথে বৈঠককালে ল্যাভরোভ বলেন, সিরিয়ায় জঙ্গী সংখ্যা বেড়েই চলছে যারা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আর এ ধরণের কার্যক্রম চলতে থাকলে পুরো দেশে স্থায়ী অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী হবে। রাশিয়া নিজেদের দায়িত্বে থাকা অংশের কাজ সম্পন্ন করেছে এবং সিরিয়ার সরকারের একটি প্রতিনিধি দল জেনেভা সম্মেলনে যোগ দিতে তৈরী রয়েছে। অন্যদিকে সিরিয়ার বিরোধীপক্ষ এখনো সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করছে। পশ্চিমা জোট ও কিছু আরব দেশ তাদেরকে অর্থ সাহায্য ও পরামর্শদাতা হয়ে কাজ করছে যারা জেনেভা সম্মেলনকে “উদ্দেশ্যহীন” বলে অভিহিত করছে।

 অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন যারা কিনা শুরু থেকেই বাশার আসাদের পদত্যাগকে বর্তমান সংকট সমাধানের একমাত্র পথ বলে দাবী জানিয়ে আসছে সম্প্রতি এক আচমকা বিবৃতি দিয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার উপ পরিচালক মাইকেল মোরেল বলেছেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন আমেরিকার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সিরিয়ায় আল-কায়েদার পাশাপাশি এখন পশ্চিমা বহু দেশের সন্ত্রাসীরা লড়াই করছে। বাশার আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করলে আল-কায়েদার সন্ত্রাসীরা ক্ষমতা দখল করবে এবং এসব সন্ত্রাসী তখন আমেরিকার জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে যাবে। সিরিয়া নিয়ে এটি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। তবে একই সাথে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সামরিক অস্ত্র সরবরাহ করে যাচ্ছে। এই সূত্র ধরে সিরিয়ার বিরোধীজোটের বন্ধুরা হয়তবা স্মরণ করতে পারছে না যে বিরোধীরা কি পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছে। সিরিয়ার সংঘাতে এই প্রথম কুর্দিদের জড়িত করা হয়। সিরিয়ার ন্যাশনাল কোয়ালিশ দলের এক নেতা আনিস আয়রুত বলেন, সিরিয়ায় নীরিহ জনগনদের গণহত্যা বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারে ভারসাম্য নষ্ট করেছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, "এটি প্রথম কোন বিবৃতি নয়। তবে হত্যযজ্ঞ এখন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। দামাস্কাসে আবারো বোমা হামলা হয়েছে। দ্রুত এর সমাপ্তি টানা উচিত। আমি মনে করি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোন দ্বিধা না রেখে এই সব জঙ্গী কার্যক্রমের নিন্দা জানাবে এবং নিজের এ অবস্থান ধরে রাখবে। এর আগে আমরা দেখেছি নিরাপত্তা পরিষদের কিছু সদস্য সিরিয়ার দামাস্কাসের বোমা হামলার নিন্দা জানানো থেকে বিরত ছিলো।"

 তবে সত্য যে, সিরিয়ার বর্তমান সরকারের ক্ষমতাকে এখন পর্যন্ত কেউই আদিকাল বলে অভিহিত করেনি এমনকি শুত্রু দেশগুলোর পক্ষ থেকেও নয়। উল্লেখ করা যাচ্ছে যে, শুধু মাইকেল মোরেল সিরিয়ায় সামরিক আগ্রাসনের বিরোধীতা করেনি এবং মার্কিন স্থলপথ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল রেই আদিরেনো সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের বিরোধীতা করেছেন। মার্কিন বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ প্রধানদের চেয়ারম্যান মার্টিন দেম্পসি বলেন, সামরিক আঘাত তা কোন পক্ষের জন্যই সুফল বয়ে আনবে না।

 তারপরও এসব কর্মকর্তাদের মতামত সিরিয়ার বিরোধী দলকে অস্ত্র সরবরাহ করার ক্ষেত্রে তেমন কোন ভূমিকা রাখবে বলে মনে হয় না। তবে সেনাবাহিনীর ওপর অনেকেই ভরসা করছেন। তাছাড়া মার্কিন সেনাবাহিনী সিরিয়ার পরিস্থিতি এখন নিখুতভাবে পর্যবেক্ষন করছে।