সিআইএ সংস্থার প্রধানের প্রথম ডেপুটি মাইকেল মরেল্ল, অবসর গ্রহণের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য মূল হুমকি গুলির তালিকা প্রস্তুত করেছেন. এই হুমকির তালিকায় রয়েছে ইরান, উত্তর কোরিয়া, “আল-কায়দা” ও সম্পূর্ণ রকম ভাবেই সাইবার যুদ্ধের সম্ভাবনা. মুখ্য বিপদ বলে মরেল্ল উল্লেখ করেছেন বাশার আসাদের প্রশাসনের পতনকে. যদি এটা হয়, তবে মরেল্ল মনে করেন যে, সিরিয়া সন্ত্রাসবাদীদের জন্য একটা বেড়ে ওঠার জায়গা হবে.

এই পূর্বাভাসের সঙ্গে একমত হয়ে সেন্ট পিটার্সবার্গের আধুনিক নিকট প্রাচ্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান গুমের ইসায়েভ বলেছেন:

“যে কোন রকমের গৃহযুদ্ধ, আর কেউই বর্তমানে অস্বীকার করছে না যে, সিরিয়াতে গৃহযুদ্ধই চলছে, তা একটা হিংসার সৃষ্টি করে. আর এই ধরনের প্রক্রিয়ার পরে খুবই কঠিন হয় হিংসার পথ ত্যাগ করা. তার ওপরে এমনকি বাশার আসাদের প্রশাসনের পতনের পরে পরবর্তী অধ্যায়ে বিজয়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ ও ক্ষমতার লড়াই অবশ্যম্ভাবী. এটা এমন এক প্রক্রিয়া, যা ক্ষমতায় নিয়ে আসতে পারে সেই গোষ্ঠীবদ্ধ চরমপন্থীদেরই”.

আরও বেশী করেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সমস্ত গোষ্ঠীদের সন্দেহ রয়েছে সিরিয়ার সঙ্কটে সরাসরি অংশগ্রহণ করা নিয়ে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদাতিক বাহিনীর দপ্তর প্রধান জেনারেল রে ওডিয়ের্নোর মতে এমনকি সীমিত সংখ্যায় অনুপ্রবেশও খুবই বেশী রকমের ক্ষতির সম্ভাবনা রাখে. আরও আগে সিরিয়ার সঙ্কটে সামরিক অংশগ্রহণের বিপক্ষে কথা বলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দপ্তরগুলির সংযুক্ত কমিটির প্রধান মার্টিন ডেম্পসি. তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, এই অপারেশন খুবই দামী হবে, আর তা মনে হয় না যে ফলপ্রসূ হবে.

সামরিক বাহিনীর লোকরা অন্যান্যদের চেয়ে আরও বেশী করেই ধারণা করতে পারেন, যুদ্ধ মানে কি, তাই এতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই যে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও একটি হঠকারিতা মূলক কার্যকলাপের মধ্যে টেনে নিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে, এই রকম মনে করে রাজনীতি বিশেষজ্ঞ বরিস মেঝুয়েভ বলেছেন:

“আমেরিকাতে সামরিক বাহিনী সংশ্লিষ্ট লোকরা ঐতিহ্য মেনেই বেশী শান্তিপ্রিয় অবস্থান নিয়ে থাকেন. সবচেয়ে বেশী শান্তিপ্রিয় লোকরা সেখানেই বসে থাকেন, যেখানে আমরা তাঁদের সবচেয়ে কম আশা করি – পেন্টাগনের সামরিক নেতৃত্বে. অর্থাত্ এঁরা সেই সামরিক বাহিনীগুলোর প্রধানরা. সামরিক বাহিনীর লোকরা খুব একটা যুদ্ধ করতে চান না. তার কারণ তাঁরা যুদ্ধের মূল্য সম্পর্কে খুব ভাল করেই জানেন”.

সিরিয়ার জঙ্গীদের সমর্থন করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেই ভুলই করছে, যা তারা আগেও একাধিকবার করেছে. যেমন, ১৯৮০ সালে তারা আফগানিস্তানের মোজাহেদদের সহায়তা করেছে, যারা তখন সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল. বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, ঠিক সেই সময়ে, এই লোকদেরই ভিতর থেকে আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর সাহায্য পেয়েই তৈরী করেছিল “আল-কায়দা” গোষ্ঠী.

এত বেশী রকমের না দেখেশুনে কাজ করা শুধু ওয়াশিংটনেরই স্বভাব নয়, তাদের পশ্চিমের সহকর্মীদেরও. এই বিষয়েই একাধিকবার লক্ষ্য করতে বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ. একটি বক্তৃতার সময়ে তিনি সরাসরি বলেছিলেন যে, মালিতে ফরাসী সেনাদের বিরুদ্ধে রয়েছে ঠিক সেই সমস্ত শক্তিরাই, যাদের প্যারিস লিবিয়াতে লড়াই করার জন্য অস্ত্র দিয়েছিল. এর মধ্যেই আবার লিবিয়ার জঙ্গীরা সিরিয়াতেও লড়াই করছে. “দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের ফরাসী সহকর্মীরা মালিতে লিবিয়ার সঙ্কটের প্রসারের সঙ্গে লড়াই করছেন আর সিরিয়াতে লিবিয়া থেকে যাওয়া জঙ্গীদেরই সাহায্য করছেন. এখানে খুবই কঠিন হল যুক্তি খুঁজে পাওয়া”, - মন্তব্য করেছিলেন লাভরভ.