আগুন ২৯০০ জনপদ দিয়ে যাবে. অলিম্পিক আগুনের পথের দিকে খেয়াল রাখবে বাস্তবে প্রায় পুরো পৃথিবী জুড়ে.

অলিম্পিকের মশালদৌড়ে অংশ নেবে ১৪০০০ মশাল বাহক. অলিম্পিক আগুনের রাস্তা ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ভাবে উল্লেখযোগ্য জায়গা দিয়ে যাবে, যেগুলো কোন রকমের বাড়িয়ে না বলা অবস্থাতেই রাশিয়ার ভিজিটিং কার্ড বলে মনে করা হয়. যেমন ইয়াসনায়া পলিয়ানা গ্রামের বাড়ী, যেখানে থাকতেন ও লিখতেন রাশিয়ার বিখ্যাত লেখক লেভ তলস্তয়, আর্খাঙ্গেলস্ক রাজ্যের প্লিসেত্স্ক মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র, কামচাত্কার জীবন্ত আভাচিন আগ্নেয়গিরি, ইয়াকুতিয়া রাজ্যের সবচেয়ে বড় হীরার খনি. অলিম্পিকের আগুন যাবে কারেলিয়া রাজ্যের বিশ্ব বিখ্যাত কিঝি দ্বীপে, যেখানে রাশিয়ার কাঠের গৃহ নির্মাণের সেরা নিদর্শন রয়েছে – একটি গির্জা, যা তৈরী করা হয়েছে একটিও পেরেক ছাড়া. কিঝি সংরক্ষিত এলাকা ও যাদুঘরের ডেপুটি ডিরেক্টর ইরিনা পাভলোভা এখনই সঠিক ভাবে জানেন যে, ২২শে অক্টোবর অলিম্পিক আগুনের রিলে রেস তাদের দ্বীপের উপর দিয়ে পুরো এক কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করবে, তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“কাঠের কাজের যাদুঘর – এমন একটা জায়গা, যেখানে আগুন জ্বালানোই নিষিদ্ধ. যে কোন রকমের আগুন এখানে থাকাতেই আমরা আশঙ্কা করি বিপদের, তবে অলিম্পিকের আগুনের জন্য আমরা সবুজ সঙ্কেত দিয়েছি. আমরা বিশ্বাস করি না যে, অলিম্পিকের আগুন থেকে কোন রকমের বিপদ হতে পারে বলে”.

অলিম্পিকের আগুন শুধু গাড়ী চড়েই যাবে না, যাবে ট্রেনে ও প্লেনে চড়েও. প্রায় আধ কিলোমিটার তা যাবে ভেলায় চড়ে! আর তারই সঙ্গে - রুশ তিন ঘোড়ায় টানা রথ ত্রোইকা চড়ে, বল্গা হরিণে টানা স্লেজ গাড়ীতে, মেরু অঞ্চলের কুকুরে টানা স্লেজ গাড়ীতে, বরফের উপরে চলার গাড়ী চড়ে, আর ফসল কাটার কম্বাইনেও. আগুন যাবে মোটর বোটে, নৌকায় চড়ে, স্নো বোর্ডে চেপে, স্কি আর স্কেটিং চেপেও, উঠবে ঝুলন্ত রোপ ওয়ে দিয়ে, নামবে পাহাড় থেকে নামার ফুনিকুলের চেপে, আকাশে উড়বে ফানুসে, বৈকাল হ্রদের অতলে তলিয়ে যাবে বাতিস্কাফে, ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় এলব্রুসের চূড়ায় উঠবে এমনকি যাবে মহাকাশেও.