এই প্রদর্শনীতে প্রায় ৫০টির মতো বই রাখা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে আরবী ভাষায় কোরান, যা ইজিপ্টে ১৯৮৫ সালে ব্রেল বর্ণমালা ব্যবহার করে ছাপা হয়েছে. ব্রেল বর্ণমালা – এক ধরনের বিশেষ রকমের জমির উপরে উঁচু হয়ে থাকা অক্ষর, যা দৃষ্টিহীণ লোকদের আঙ্গুলের ডগা ব্যবহার করে হাত বুলিয়ে পড়তে সাহায্য করে. এই গ্রন্থাগারের ডিরেক্টর আইগুল আমিনেভা “রেডিও রাশিয়ার” সাংবাদিক প্রতিনিধিকে এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“এই কোরানের পাঠকের তালিকা পুরোটাই লেখায় ভরে গিয়েছে, কারণ এটা আমাদের পাঠকদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় বই. এই সংস্করণ – ছয়টি খণ্ডে, আর বাস্তবে এই গুলি সব সময়েই মানুষের হাতেই থাকে. তাছাড়া, আমরা এখানে সংস্কৃতি – ইতিহাস, ধর্মীয়-বিবেক সংক্রান্ত বইও রেখেছি. এই গুলি সেই রকমের বই, যা থেকে মুসলমান শিক্ষা, বিভিন্ন মুসলমান জাতির জীবনের নিয়ম শিখতে পারা যায়. এই গুলিও লোকে নিয়ে পড়ে”.

বাশকর্তোস্তান রাজ্য – রাশিয়ার একটি অঞ্চল, যার জনগন বহু শতক ধরেই সুন্নী মতে ইসলাম ধর্ম পালন করে আসছেন. বাশকর্তোস্তান রাজ্যের এলাকায় প্রায় পঁয়তাল্লিশ লক্ষ মানুষের বাস ও এখানে প্রায় এক হাজার মসজিদ রয়েছে.

১৯৯৩ সালে এই রাজ্যে কোরানের প্রথম সংখ্যা বাশকির ভাষায় বের হয়েছিল. তার প্রথম সংস্করণ ছাপা হয়েছিল পঞ্চাশ হাজার, আর তা খুবই দ্রুত শেষ হয়ে গিয়েছিল. ২০০৯ সালে নতুন অনুবাদ বের হয়েছিল, নতুন প্রকাশনা হিসাবে, তাই নিয়ে আইগুল আমিনেভা বলেছেন:

“আমরা বাশকির ভাষায় কোরান পড়ার কথা ভেবেছি, আর প্রকাশ করতে চাই তা ধ্বনি আকারে, আর তার সঙ্গেই ছাপা অক্ষরেও – যাতে ব্রেল অক্ষর ব্যবহার করা হবে”.

এক বছর আগে তিনি বাশকির রাজ্যের দৃষ্টিহীণদের জন্য বিশেষ গ্রন্থাগারের নেতৃত্ব দেওয়া শুরু করেছিলেন, যে গ্রন্থাগার ২০১৫ সালে ৮০ বছরের জয়ন্তী বর্ষ পালন করবে. ১৯৩৫ সালে এই গ্রন্থাগার কাজ করা শুরু করেছিল, তখন সামাজিক উদ্যোগেই এটা চলত. আজ এই গ্রন্থাগারের তহবিলে রয়েছে দুই লক্ষ তিরিশ হাজার বই আর এটা এখন রাষ্ট্রীয় মর্যাদার এক গ্রন্থাগার. এই প্রসঙ্গে আমিনেভা বলেছেন:

“এই সব বইগুলো নানা ধরনের, আর তা দৃষ্টিহীণদের জন্যই প্রকাশিত. এটা এমন সব বই, যা শোনাও যায়, - তা ক্যাসেট আকারে কম্পিউটারের ফ্ল্যাশ কার্ড হিসাবেও আছে. ব্রেল অক্ষর সমেত বইও আছে. আমাদের নিজেদের একটা প্রকাশনাও রয়েছে আর আছে নিজেদের শব্দ গ্রহণের স্টুডিও. বাশকির ভাষায় আমরা নিজেরাই বই রেকর্ড করেছি. দুবছর আগে লাইব্রেরীর সাইটে শোনা যায় এমন বইয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে. পাঠকরা নিজেদের আবেদন রেখে দিতে পারেন, আমরা সেইগুলো দেখে বই পড়ে রেকর্ড করে থাকি. আমরা একটা কম্পিউটারের হলও খুলেছি. আমাদের কর্মী নিজেই একজন প্রতিবন্ধী, সেখানে দুই মাসের কোর্স পড়ান. আমরা রাজ্যের কর্ম সংস্থান দপ্তরের সঙ্গে চুক্তি করে রেখেছি, সেই চুক্তি অনুযায়ী আমরা এখান থেকে এই কোর্স যাঁরা শেষ করেছেন, তাঁদের উপযুক্ত সার্টিফিকেট দিতে পারি. এই সার্টিফিকেট পেয়ে প্রতিবন্ধী লোকরা, যাঁদের দৃষ্টিশক্তি নেই, তাঁরাও কাজে যোগ দিতে পারেন. অর্থাত্, আমরা শুধু একটা গ্রন্থাগারই নই, বরং একটা সমাজে পুনরায় যোগ দেওয়ানোর কেন্দ্রও”.

রাশিয়াতে আজ ৬৯টি বিশেষ লাইব্রেরী রয়েছে অন্ধ ও যাঁরা কম দেখতে পান, তাঁদের জন্য. বাশকির রাজ্যের লাইব্রেরী এই গুলির সেরা পাঁচের মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ গ্রন্থাগার. সেখানে পাঠক সংখ্যা ৪৯০০, তাই আমিনেভা বলেছেন:

“আমাদের একজন ৯৮ বছরের পাঠক রয়েছেন, যিনি আমাদের কাছে কয়েক দশক আগে আসা শুরু করেছিলেন, আর তিনি এখনও আসেন. আমাদের বাড়ী গিয়ে বই দিয়ে আসার ব্যবস্থাও রয়েছে, আমাদেরই নিয়মিত পাঠকদের মধ্যে থেকে একটা সভা তৈরী হয়েছে, যা প্রত্যেক ত্রৈমাসিকে মিটিং করে কাজকর্মের সূচী স্থির করে. বিগত সময়ে আমাদের অনেক অল্প বয়সী পাঠক যোগ হয়েছে, যা আমাদের আনন্দের কারণ হয়েছে. আমরা “জামান” নামে একটা জার্নাল প্রকাশ করে থাকি, যাতে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে লোককে জানিয়ে থাকি, কি নতুন বই আমাদের কাছে এসেছে”.

বাশকির শহরের লাইব্রেরী সমস্ত কিছুই যা দরকার তা দিয়ে করা হয়েছে, যাতে মানুষ, যিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, তিনি নিজের পছন্দসই তথ্য পেতে পারেন আর নিজের পছন্দসই বইও পড়তে পারেন. তাঁদের জন্য – রাখা হয়েছে একেবারে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থা.

কিন্তু কোন বই হাসিখুশী লাইব্রেরীয়ানকে বদল করতে পারে না, যে তোমাকে ভাল কথা বলে স্বাগত জানাবে আর প্রয়োজনীয় বই বেছে দেবে. তাই আইগুল বলেছেন:

“আমাদের গ্রন্থাগারের কর্মী – যেমন মনস্তত্ববিদ, তেমনই ভাল বন্ধু. তাঁর একটা বাধ্যতামূলক গুণ হল - দয়া, অন্যের প্রত্যেকটা ব্যথাকে বোঝার ক্ষমতা, কারণ আমাদের পাঠকরা – খুবই স্পর্শকাতর আর তাদের দাবীও বেশী. আর ঠিক এই ব্যাপারটাকেই বুঝতে হবে. তাই আমরা কর্মী খুবই ভাল করে বেছে নিয়ে থাকি”.

এই গ্রন্থাগারে একটা বিশেষ পদও আছে – গ্রন্থাগার কর্মী ও পাঠ করার কর্মী. তিনি জোরে বই পড়েন. ঈদুল-ফিতর উত্সবের দিন গুলিতে প্রদর্শনীর হলে সেই সব বইগুলোকেও জোরে পড়তে শোনা যেতে পারে, যেগুলো রাখা হয়েছে এই “ইসলামের মনীষা” প্রদর্শনীতেই.