জানাই রয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গে নেপালের থেকে আসা অধিবাসীদের অধিকার নিয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা আন্দোলন চালু রয়েছে, যারা চাইছে গোর্খাল্যান্ড রাজ্য করতে তৈরী করতে, যাতে সারা বিশ্ব বিখ্যাত চা উত্পাদন ও পর্যটন কেন্দ্র দার্জিলিং থাকবে. আসামে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সংস্থা বোড়ো জনগনের স্বয়ং শাসনের জন্য লড়াই করছে. প্রসঙ্গতঃ এই বোড়োল্যান্ড যারা সবচেয়ে জোর দিয়ে দাবী করছেন, তারা শুধু আলাদা রাজ্য গঠনের দাবী করেই ক্ষান্তি দিচ্ছেন না, তাঁরা আবার চাইছেন রাষ্ট্রের স্বীকৃতী.

গত বুধবারে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে যে, কংগ্রেস দলের নেতারা সোনিয়া গান্ধী ও মনমোহন সিংহ আসামে একটি এলাকায় দিমা হাসাও স্বয়ংশাসিত কাউন্সিল নামের স্বয়ং শাসনের দাবী করার জন্য আন্দোলনের এক নেতাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, আসন্ন সময়ে তাঁরা উত্তর কাছাড় জেলায় আলাদা রাজ্য গঠনের সম্ভাবনা ভেবে দেখবেন. এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“গোর্খাল্যান্ড ও বোড়োল্যান্ড তৈরী হলে দেশের সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যেতে পারে. চিনের পক্ষ থেকে অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যের উপরে লোভ দেখে আর প্রতিবেশী নেপালে কয়েক বছর আগে ক্ষমতায় চিন পন্থী লোকরা ক্ষমতায় আসার পরে খুব একটা কঠিন হবে না এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে যে, এই ধরনের রাজ্য তৈরী হলে তা দেশের স্বার্থের উপরেই খুব জোরালো আঘাত করবে আর তা এশিয়ার মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চিনের পক্ষে লাভজনক হবে”.

বিশ্লেষকরা যেমন হিসাব করে দেখেছেন যে, যদি এই ধরনের আন্দোলনগুলির সমস্ত দাবী মেনে নেওয়া হয়, তবে ভারতে ২৮টি রাজ্যের জায়গায় কম করে হলেও ৫০টি রাজ্য হবে, তাই মনে করিয়ে দিয়ে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“অনেকগুলো সাক্ষ্য রয়েছে যে, রাজনীতিবিদরা কোন একটা এলাকাকে আলাদা করে, তাতে আলাদা করে প্রশাসনের কেন্দ্র তৈরী করে আসলে এই এলাকার লোকদের স্বার্থ নিয়ে মোটেও ভাবেন না, বরং ভাবেন নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়েই. আর তাই হঠাত্ করেই সবচেয়ে উদ্দীপ্ত হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে চাওয়া রাজ্য উত্তর প্রদেশের জন্য ভাষণ দিয়ে বেড়াচ্ছেন এই রাজ্যেরই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী, যিনি এখানে একটানা ২০০৭ থেকে ২০১২ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন ও খুব একটা কম ব্যক্তিগত মূলধন আর রাজনৈতিক ওজন এখান থেকে সংগ্রহ করেন নি. ২০১২ সালের শুরুতে যখন তিনি ও তাঁর দল নির্বাচনে বড় মাপের পরাজয়ের সামনে পড়েছিলেন, মায়াবতীর তখন একমাত্র ক্ষমতায় ফেরার পথ থেকে গিয়েছিল, তাঁকে হঠিয়ে দেওয়া রাজ্যকে ভাগ করার মধ্যে, এমনকি যদি তাঁর নতুন ক্ষমতার এলাকা আগের চেয়ে কম হয় তাহলেও”.

এই প্রসঙ্গে একটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা মনোযোগ আকর্ষণ করেছে. বৃহস্পতিবারে ভারতের ভাষা রিসার্চ অ্যান্ড পাব্লিকেশন সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে যে, বিগত পঞ্চাশ বছরে ভারত থেকে প্রায় শতকরা কুড়ি শতাংশ ভাষা কোন রকমের হদিস না রেখেই নিরুদ্দেশ হয়েছে – তাদের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯৬১ সালে ১১১০ থেকে ২০১১-১৩ সালে প্রায় ৮৮০টি.

তাহলে, রাজনৈতিক নেতাদের, যারা কিনা জাতীয় সংখ্যালঘুদের হয়ে অধিকারের লড়াই করছেন, তাঁদের বোধহয় এবারে নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থের কথা ভুলে মনোযোগ দেওয়ার দরকার নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐক্য সংরক্ষণের বিষয়ে? তা নাহলে “বহুত্বের মধ্যে ঐক্য” এই স্লোগানের জায়গায় শুধু ঐক্যই নয়, এমনকি বহুত্বও থাকবে না.