এই কথাগুলি নেওয়া হয়েছে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের আজকের দিনের ঈদুল-ফিতর উত্সব উপলক্ষে যে অভিনন্দন বার্তা রাশিয়ার মুফতি সমাজের সভাপতি শেখ রাভিল গাইনুদ্দিন দিয়েছেন – তারই থেকে.

পবিত্র রমজানের দিনগুলিতে রাশিয়ার মুফতি সভার উদ্যোগে অনেক কাজকর্মের আয়োজন করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে রয়েছে:

ভলগা নদীর তীরে সারা রাশিয়ার মুসলিম ক্যাম্প, যেখানে রাশিয়ার ১৬টি অঞ্চলের বাচ্চারা বিশ্রাম করেছে ও ইসলাম সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ করেছে...

মস্কো শহরে রমজানের শিবির, যেখানে প্রত্যেক সন্ধ্যায় সমস্ত ইচ্ছুক লোকদেরই ইফতারের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে...

উত্তর ককেশাসের ইঙ্গুশেতিয়া রাজ্যে “হালাল” কেন্দ্র উদ্বোধন...

রাশিয়ার ইউরোপীয় এলাকার মর্দোভিয়া রাজ্যে কোরান পাঠের প্রতিযোগিতা ইত্যাদি আরও অনেক কিছু.

এছাড়া হয়েছে – নিজেদের বিদেশী মুসলমান ধর্মীয় ভাইদের সঙ্গে বহু সংখ্যক সাক্ষাত্কার: আলজিরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে, ইরাক থেকে আসা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে, ইস্তাম্বুলের মুফতির সঙ্গে, আর রমজান মাসের শেষ শুক্রবারে মস্কোর জুম্মা মসজিদে “আল-কুদস” দিবস পালন. তার অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন রাশিয়াতে মুসলিম দেশ গুলির কূটনৈতিক মিশনের প্রধানরা, এই প্রসঙ্গে “রেডিও রাশিয়ার” প্রতিনিধি সাংবাদিককে এক সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার মুফতি সভার উপ সভাপতি রুশান-হজরত আব্বিয়াসভ বলেছেন:

“এটা ঠিকই যে, আজ সকলকে সেই সমস্ত কঠিন বিষয়গুলো উদ্বিগ্ন করেছে, - এটা সিরিয়ার পরিস্থিতি, ইজিপ্টে গণ বিক্ষোভ ইত্যাদি. রাশিয়ার মুসলমানদের অবস্থান এই রকমের: আলোচনা করা দরকার ও সমস্ত বিরোধের শুধু শান্তিপূর্ণ সমাধানই খোঁজা দরকার. দুঃখের বিষয় হল যে, এই রমজানের দিনগুলোতেও আমরা দেখতে পেয়েছি ঐস্লামিক দুনিয়ার নানা দেশে প্রচুর সংখ্যায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, অনের রক্তক্ষয় হয়েছে. আমরা, রাশিয়ার মুসলমানেরা, আল্লার কাছে দোয়া করছি যাতে এই রক্তক্ষয় বন্ধ হয় – তা সে সিরিয়াতেই হোক, অথবা সোমালিতে, পাকিস্তানে অথবা ইজিপ্টে”.

তাতারস্থান রাজ্যে রমজান মাসকে এক ভাল কাজের মাস বলে ঘোষণা করা হয়েছিল. সেই কাজের সংখ্যা খুব কম ছিল না: দৃষ্টি শক্তিহীন প্রতিবন্ধীদের জন্য মুসলিম শিক্ষা ও স্বাস্থ্যোদ্ধার কেন্দ্রের উদ্বোধন, কাজান শহরে ইয়ার্দেম (“সহায়তা”) নামের নতুন মসজিদের উদ্বোধন, আর বহু সহস্র উপহার, যা স্বেচ্ছাসেবকরা অভাবী ও প্রতিবন্ধীদের মধ্যে বিতরণ করেছে.

তাতারস্থানের মুসলিম সমাজের প্রধান মুফতি কামিল-হজরত সামিগুল্লিন আজ সকালে এই রাজ্যের রাজধানী কাজানের ক্রেমলিনের “কুল- শরীফ” নামের প্রধান মসজিদে উত্সবের নামাজ পরিচালনা করেছেন ঈদুল-ফিতর উপলক্ষে “রেডিও রাশিয়ার” প্রতিনিধি সাংবাদিককে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন:

“রাশিয়ার সমস্ত মুসলমানদের ও সারা বিশ্বের মুসলমানদের আমি ভ্রাতৃত্ববোধে উদ্বুদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য দোয়া করছি. এখানে আরও মনে করিয়ে দেবো যে, ইসলাম – এটা ভালবাসা ও ভালোর ধর্ম. যখন আমরা আমাদের হজরতের সম্বন্ধে বলি, তখন আমরা মনে করি যে, তিনি হাবিবুল্লা – আল্লার প্রিয়”.

কাছের লোকের প্রতি ভালবাসার কথা আজ নিজের উত্সবের বক্তৃতাতে বলেছেন উত্তর ককেশাসের মুসলমানদের কোঅর্ডিনেশন কেন্দ্রের সভাপতি আর কারাচায়েভা-চেরকেসী রাজ্যের মুসলমান সমাজের প্রধান ইসমাইল হাজি-বেরদিয়েভ.

ককেশাস, যেখানে অদূর অতীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়ে গিয়েছে, ইমামদের হত্যা করা হয়েছে, সেখানে আজ মসজিদ তৈরী করা হচ্ছে, হাফিজদের জন্য মাদ্রাসা খোলা হচ্ছে আর সেখানেই যুদ্ধ ক্লিষ্ট সিরিয়া থেকে পালিয়ে আসা চেরকেসী উদ্বাস্তুদের থাকতে দেওয়া হচ্ছে. রেডিও রাশিয়াকে এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন:

“সমস্ত মুসলমানদের জন্য আমি দোয়া করবো তাঁদের যাতে শুভ বুদ্ধির উদয় হয়, যাতে তাঁরা আল্লার ইচ্ছাকেই পূরণ করেন. আমাদের বিদেশের ভাইদের নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, তাঁরা বুঝতে বাধ্য – তাঁদের মহাসমুদ্র পার থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে. তার মধ্যে আবার যেই হাতে অস্ত্র ধরছে, সেই ভাবছে যে, সে ঠিক, আর আসলে - তারা এই সবই করছে শয়তানের ইচ্ছায়. তাদের ইবলিশ রাস্তা দেখাচ্ছে. যারা নিজের বাপ ও ভাইকে হত্যার সময়ে, মা ও বোনকে বলাত্কার করার সময়ে চিত্কার করছে “আল্লাহ আকবর!”, - তারাই আল্লার নির্দেশ লঙ্ঘণ করছে. এটা নিশ্চিত যে, আল্লাহ মহান, আর প্রত্যেককেই তিনি তাদের কৃত কাজের উপযুক্ত ফল দেবেন”.

রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায়, যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা বেশী, সেখানে ৮ই আগষ্ট ছুটির দিন ঘোষিত হয়েছে. উত্তর ককেশাসের বেশ কয়েকটি রাজ্যে আগামীকালও থাকবে এই ছুটি.