এই ট্র্যাজেডির দু’দিন আগে – সোমবারে সন্ধ্যাবেলায় বেলুচিস্তানে একদল জঙ্গী পুলিসের ছদ্মবেশে এসে বাসের থেকে তের জন পাঞ্জাব রাজ্যের বাসিন্দাকে নামিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছিল নিরুদ্দেশে. পরে সেই তের জনের সকলকেই হত্যা করে দেহ খাদে ফেলে দিয়েছিল. আরও কিছু লোক নিহত হয়েছেন সেই বেলুচিস্তানেরই মাস্তুঙ্গ জেলার এক দোকান বাজারের সামনে.

সময়টাও হঠাত্ করে বাছা হয় নি. ঈদুল-ফিতর উত্সবেরই আগে, যখন লোকে পবিত্র রমজান মাসের শেষে পৌঁছেছে, যা স্পষ্টই সেই উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে, যাতে এই সব অপকর্মের প্রতিধ্বনি সমাজে আলোড়ন তোলে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“এই সব হয়ে যাওয়া সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড কোন না কোন ভাবে বিভিন্ন সামাজিক ও প্রজাতিগত গোষ্ঠীকে একে অপরের দিকে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার জন্যই করা হয়েছে: তালিবরা সামরিক বাহিনী ও পুলিশের কর্মীদের হত্যা করছে, বেলুচিস্তানের জঙ্গীরা পাঞ্জাবের লোকদের মারছে, অজ্ঞাত কুলশীল সন্ত্রাসবাদীরা অন্য প্রদেশের বাসিন্দা অধ্যুষিত এলাকায় অন্তর্ঘাত মূলক কাজ করছে. আর এমন একটা ধারণা তৈরী হচ্ছে যে, কারো একটা খুবই লাভজনক হয়েছে এই পরিস্থিতিকে এক ধরনের দেশের মধ্যে আর কোন ঐক্য নেই এই রকম করেই প্রমাণ করতে পেরে”.

পাকিস্তান অবসার্ভার সংবাদপত্র যেমন লিখেছে যে, এই ধরনের কাজকর্মের লক্ষ্য - “অন্য প্রদেশের লোকদের মধ্যে একটা ভয়ের সঞ্চার করা, যা প্রতিফলিত করছে শত্রুর এক বিশাল পরিকল্পনাকেই, যাতে পাকিস্তানকে লম্বালম্বি ও আড়াআড়ি ভাবে ভাগ করা যায়”. তাই ভলখোনস্কি আবারও বলছেন:

“এখানে মনে করা প্রয়োজন যে, “বেলুচিস্তানের সমস্যা” অনেকদিন ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির একটা অস্ত্র হয়েছে, যা দিয়ে পাকিস্তানের উপরে চাপ সৃষ্টি করা যায়. একটা সময় পর্যন্ত তা নিয়ে আলোচনা একটা সংবাদ মাধ্যমের বৃত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিছু সামাজিক ভাবে সক্রিয় লোক ও আলাদা কিছু রাজনৈতিক মহলের লোক এই নিয়ে মাথা ঘামাতেন. কিন্তু গত বছরের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই খেলায় ঢুকে পড়েছে. এই প্রসঙ্গে তারা যে দাবী পাকিস্তানের সামনে রেখেছে, তা একতরফা চরিত্রের: মানবাধিকারের মর্যাদা দেওয়া, আদালতের নির্দেশ ছাড়া মানুষ অপহরণ ও হত্যা বন্ধ করা ইত্যাদি. কিন্তু বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য, যারা এই রকমের সন্ত্রাসের পথ নিয়মিত ভাবেই ধরছে, একটিও দাবী করা হয় নি”.

সন্ত্রাসবাদের অভ্যাস, যা বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নিজেদের অস্ত্র হিসাবে হাতে নিয়েছে, তা কোন ভাবেই এই সমস্যা সমাধান করায় সাহায্য করবে না, স্রেফ দেশের পতনের জন্যেই কাজ করবে. বেলুচিস্তানে বর্তমানের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ হঠাত্ করেই আবার একটি কাশ্মীরের পরিস্থিতি তীক্ষ্ণ হওয়ার সঙ্গে একসঙ্গে হয় নি. সুতরাং খুবই স্পষ্ট যে, শুধু বেলুচিস্তানেই সন্ত্রাসবাদীরা পাকিস্তানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় নিজেদের স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ হতে দেখছে না.