কিন্তু যথেষ্ট ভারসাম্য সমেত মূল্যায়ণ ও বিচারও শুনতে পাওয়া যাচ্ছে. তাদের মূল কথা হল যে, স্নোডেনকে সাময়িক রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া স্রেফ একটা ছুতো হয়েছে ওবামার সফর বাতিলের জন্য. আর তার চারপাশে যে শোরগোল তোলা হয়েছে, তা কৃত্রিম ভাবে তৈরী করা হয়েছে সেই হোয়াইট হাউস থেকেই.

রাশিয়া “স্নোডেন মামলা” তৈরী করে নি, এই কথা উল্লেখ করে আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর প্রাক্তন কর্মীর বাবা লন স্নোডেন “রয়টার” সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন সব কিছুকেই উল্টে দিয়েছে একেবারে মাথার জায়গায় পা তুলে. তারা এডওয়ার্ডের নামে মিথ্যা কথা বলেছে, যাতে তার পেছনে দেখতে না পাওয়া যায় যে, আমেরিকা কিভাবে আইন লঙ্ঘণ করছে ও সারা বিশ্বের পেছনেই গুপ্তচর বৃত্তি করছে. তিনি বলেছেন:

“ব্যাপারটা রাশিয়ার ভেতরের নয়, বর্তমানের লড়াই রাশিয়ার সঙ্গে নয়. লড়াই হচ্ছে একদম এখানে (ওয়াশিংটনে), আর তা সেই সমস্ত প্রোগ্রাম নিয়েই হচ্ছে, যা আমাদের সাংবিধানিক অধিকারকেই ভঙ্গ করছে ও খর্ব করছে. আমাদের স্নোডেনের আগেও অনেক পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত সমস্যা ছিল. তার মধ্যে আমেরিকা- রাশিয়া সম্পর্কের বিষয়েও. পররাষ্ট্র দপ্তর এই প্রসঙ্গে (“স্নোডেন মামলা”) যে অবস্থান নিয়েছে তা শুধু সেগুলোর ভারই বাড়িয়ে দিয়েছে. প্রশাসন স্রেফ সকলকেই ঠকাচ্ছে, তারা জোর দিয়ে বলছে, যে, এডওয়ার্ড স্নোডেন, অথবা, রাষ্ট্রপতি ওবামা নিজেই যেরকম ব্যাখ্যা করেছেন এক “২৯ বছরের হ্যাকার” বলে, সে আমেরিকা- রাশিয়া সম্পর্কের বিষয়ে এতটা প্রভাব ফেলতে পেরেছে”!

লন স্নোডেন আশা প্রকাশ করেছেন যে, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না, যেমন তিনি করেন নি তাঁর ছেলের “মামলা” নিয়েও. লন বারাক ওবামার মস্কো সফর বাতিল সম্বন্ধে মন্তব্য করে বলেছেন যে, “চাইলেই – যাবো, ইচ্ছা না হলে যাবো না: এটা কোনও বয়স্ক লোকের উপযুক্ত বিবেচনা নয়, বিশেষ করে রাষ্ট্রনেতার পক্ষে”.

স্নোডেন সিনিয়রের মত প্রসঙ্গতঃ ভাগ করেছেন আমেরিকার খুবই প্রভাবশালী বিশেষজ্ঞরা, তার ওপরে আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের “মগজের কেন্দ্র” থেকেই, যাদের কখনও রাশিয়ার প্রতি সহানুভূতির জন্য আলাদা করা যায় নি.

ওয়াশিংটনের স্ট্র্যাটেজিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কেন্দ্রের বিখ্যাত বিশ্লেষক অ্যান্টনি কোর্ডসম্যান এই পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

“এখানে ভেবে দেখা যেতে পারে যদি রাষ্ট্রপতি ওবামা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ওয়াশিংটনেই দেখা না করতেন, তাহলে কি হতে পারত. যদি ওবামা এখানে পুতিনের সঙ্গে দেখা না করতেন, তবে এই ধরনের সমালোচনা কি প্রশাসনের জন্য আরও বেশী ক্ষতি করতে পারতো? আমার আশঙ্কা যে, ওয়াশিংটনে বর্তমানের রাজনৈতিক আবহাওয়াতে এই প্রশ্নের উত্তর খুবই স্পষ্ট করে দেখার মতো: আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থই এখানে প্রথম স্থানে রয়েছে, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থ – দ্বিতীয় স্থানে”.

লন্ডনের সংবাদপত্র “দ্য গার্ডিয়ান” আজ মন্তব্য করেছে যে, সবচেয়ে প্যারাডক্সের মতোই ডেমোক্র্যাট রাষ্ট্রপতি ওবামা এখন তাই করছেন, যা তাঁর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে কোন রিপাব্লিকান রাষ্ট্রপতিই করেন নি. শুধু ওবামার সময়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯১৭ সালে নেওয়া গুপ্তচর বৃত্তির মোকাবিলা করার জন্য আইন ব্যবহার করতে শুরু করেছে, যাতে বিচারের আগেই তথাকথিত হুইসল ব্লোয়ারদের পিছনে লাগা যায় – তাদের পেছনে, যারা সরকারের নোংরা কাজ কারবারের কথা বলে দিচ্ছে. সংবাদপত্রে আরও লেখা হয়েছে যে, যদিও যে কোন আধুনিক অভিধানে দেওয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী, এই হুইসল ব্লোয়ার লোকরা হলেন তাঁরা, “যাঁরা বাজেটের অর্থ নয়ছয় করা, ঠকানো, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বেআইনি কাজকর্ম নিয়েই কথা বলে থাকেন”.

তারই মধ্যে প্রাক্তন কংগ্রেস সদস্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী রন পল আশঙ্কা করেছেন যে, এই “২৯ বছরের হ্যাকারের” জীবন এখন বিপজ্জনক হয়ে যেতে পারে, তিনি বলেছেন:

“স্নোডেন স্রেফ চেষ্টা করেছে সেই বিষয়ে সত্য কথা বলে দিতে, যা এখন হচ্ছে. এটা কি লজ্জার কথা নয় যে, আমরা এখন এমন একটা সময়ে বেঁচে রয়েছি, যখন সেই সব লোকরা, যাঁরা সত্যি কথা বলতে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে শুধু অপ্রিয় বিষয় ও সমস্যা”?

মস্কো শহরে স্বীকার করা হয়েছে যে, ওবামার পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাত্কার বাতিলের খবরে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে. কিন্তু রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সহকারী উশাকভ যেমন সাংবাদিকদের বলেছেন যে, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির জন্য রাশিয়াতে সফরের জন্য আমন্ত্রণ যেমন ছিল, তেমনই রয়েছে”.